Saturday, April 30, 2016

প্রস্থর যুগ পেরিয়ে নব সভ্যতার উন্মেষকালে

আর যদি নাই আসো,ফুটন্ত জলের নভোচারী
বাষ্পের সহিত যদি বাতাসের মতো না-ই মেশো, সেও এক অভিজ্ঞতা ;
অগণন কুসুমের দেশে নীল বা নীলাভবর্ণ গোলাপের অভাবের মতো
তোমার অভাব বুঝি ;
কে জানে হয়তো অবশেষে বিগলিত হতে পারো ;
আশ্চর্য দর্শনবহু আছে
নিজের চুলের মৃদু ঘ্রাণের মতন তোমাকেও
হয়তো পাইনা আমি,
পূর্ণিমার তিথিতেও দেখি
অস্ফুট লজ্জায় ম্লান ক্ষীণ চন্দ্রকলা উঠে থাকে,
গ্রহণ হবার ফলে, এরূপ দর্শন বহু আছে ।
(বিনয় মজুমদার)

তোমার আশ্চর্য কাজের ভিড়ে অভিনব ব্যস্ততার সমতটে আমিও একদিন নিঃসঙ্গতার আঘাতে অভ্যস্ত হতে শিখে যাবো, কে জানে!

Friday, April 29, 2016

অন্য গানের ভোর

ছেড়েছো তো অনেক কিছুই পুরোনো অভ্যেস
অসুখ-বিসুখ হবার পরে জিলেপি সন্দেশ

ছেড়েছো তো অনেক কিছুই পুরোনো বোলচাল
পুরোনো ঘর, পুরোনো ঘর, কুড়োনো জঞ্জাল

হাল ছেড়ো না
হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কন্ঠ ছাড়ো জোরে
দেখা হবে তোমায় আমায় অন্য গানের ভোরে

ছেড়েছো তো অনেক কিছুই পুরোনো সেই হাসি
সকাল বিকেল জানিয়ে দেওয়া তোমায় ভালোবাসি

স্বপ্নগুলো ছেড়েছো তো কয়েক বছর আগে
আমার কিন্তু স্বপ্ন দেখতে আজও ভালো লাগে

হাল ছেড়ো না
হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কন্ঠ ছাড়ো জোরে
দেখা হবে তোমায় আমায় অন্য গানের ভোরে

আমারও তো বয়স হচ্ছে, রাত-বিরাতে কাশি
কাশির দমক থামলে কিন্তু বাঁচতে ভালোবাসি

বন্ধু তোমার ভালোবাসার স্বপ্নটাকে রেখো
বেঁচে নেবার স্বপ্নটাকে জাপটে ধরে থেকো
দিনবদলের স্বপ্নটাকে হারিয়ে ফেলো না
.........................................................

সময়ের সাথে ভালোলাগা বদলে যায়, প্রায়োরিটি বদলে যায়, বদলে যায় আরো অনেক কিছু৷  কবির সুমনের প্রতি যে ভালোলাগা ছিল তাও বদলে গেছে৷ কিন্তু এই গানটা সময়ের সাথে যেন আরো অর্থপূর্ণ হলো৷ আমাদের সামনে আছে আরো কোন দুঃসময়ের ভোর৷ সেই অনাগত প্রভাতে যেন আমরা নতুন কোন গান গেয়ে জেগে উঠতে পারি৷

........................................................

Thursday, April 28, 2016

মূর্খ নিঃশ্বাসের মানুষ

আমরা অনেকে মূর্খ নিঃশ্বাসে বেঁচে থাকি৷ কাজ  করি খাইদাই সব ঠিক আছে কিন্তু জীবনবোধটা পশুদের চেয়ে উন্নত নয়৷ তার চেয়ে একটা আগাছার জন্ম ভালো৷ পৃথিবীকে সে দিচ্ছে কিছু সবুজ অক্সিজেন৷ আমরা কী দিচ্ছি প্রতিদিন? আমি আমার চেয়ে গাছেদের মাছেদের এমনকি ওই পুকুরের সবুজ শ্যাওলাদের জীবনবোধকে উন্নত মনে করি৷ মানুষের উন্নাসিক সভ্যতার তুলনায় ওদের জীবন অনেক বেশী দরকারী৷ ওরাই এই গ্রহের সত্যিকারের বন্ধু৷ আমার একটি মূর্খ নিঃশ্বাসের চেয়ে ওদের একফোঁটা অক্সিজেন পৃথিবীর জন্য বহুগুন বেশী জরুরী৷

চোখের সামনে পুকুর পাড়ে একটি লিচুগাছের নীচে বর্জ্য পুড়িয়ে গাছের একাংশ পুড়ে ফেলেছে কয়েকজন মানব সন্তান৷ সামান্য ক্ষতি!

Sunday, April 24, 2016

আনন্দ বিষাদের চাবি

তুই কী জানিস বিষাদ রাত্রি আনন্দভূবনে ভরিয়ে দিতে তোর সমান আর একজনও নেই?

আবার এও কী জানিস আনন্দময় সকালটি পলকেই ঢেকে দিতে পারিস সারাদিনের গুমোট অন্ধকারে?

পৃথিবীতে আমার পরে এসেও তোর এত ক্ষমতা কেন? তোকে আমি ঈর্ষা করি!

আবার জন্ম নিলে আমি তোর চেয়ে অনেক বড় হবো দেখিস, বড় হয়ে আকাশ ছুঁয়ে দেবো-

তবু এই জন্মে তোকে ছাড়িয়ে আর কেউ যেন সামনে এসে না দাঁড়ায়৷

তোর হাতেই গচ্ছিত রাখি আমার আনন্দ বিষাদের সকল চাবি৷

Saturday, April 23, 2016

নৌকা থেকে বৈঠা পড়ে যায়

হঠাৎ হঠাৎ এমন হয়ে যায়৷ হঠাৎ হঠাৎ৷ ছোট ছোট রঙিন রঙিন মাছগুলো সব জলের নীচে শ্যাওলা তলায় পায় খুঁজে তার লুকোচুরির খেলায়-

নৌকো থেকে বৈঠা পড়ে যায়
জলের তলায়
কালো ছাইরঙা জল একবার ঢেউ দিয়ে অন্ধকার
এখন কোথায় আছে সেই বৈঠাখানি?
দুটো কৌতুহলী মাছ, দু’ খন্ড পাথর, লক্কড়, সাইকেল ভাঙা
গোল আংটির পাশে পাঁকে গাঁথা চারানা আটআনা। অন্ধকারে
ওদের চোখ জ্বলে। এই জলে থেকে থেকে
এখন ওরাও কোন প্রাণী।
হারানো বৈঠার কাছে পৌঁছে দেখি, তার
দুধারে জন্মেছে পাখনা, পিঠে কাঁটা, নাকে খড়গ, আর
খড়গের রজ্জুর সঙ্গে বৃহ‌ৎ নৌকোটি বেঁধে নিয়ে
বৃষ্টিতে বৃষ্টিতে ঝাপসা জলমগ্ন ভূমন্ডল পেরিয়ে সে চলেছে আবার।

(জয় গোস্বামী)

Friday, April 22, 2016

বিনিময়

সব একাকীত্ব বৈরাগ্যের লক্ষণ নয়৷ সুস্থির ভাবনা চিন্তার জন্য নির্বিঘ্ন একাকীত্বের কোন বিকল্প হয় না৷ সেই একাকী সময়ে যদি চোখের সামনে থাকে একটা নিস্তরঙ্গ জলের পুকুর তখন খেলতে থাকা ভাবনাগুলোর সাথে এই কবিতাটি পড়তে ইচ্ছে করে কোন কোন অবৈরাগীরও-

তার বদলে পেলে—
সমস্ত ঐ স্তব্ধ পুকুর
নীল-বাঁধানো স্বচ্ছ মুকুর
আলোয় ভরা জল—
ফুলে নোয়ানো ছায়া-ডালটা
বেগনি মেঘের ওড়া পালটা
ভরলো হৃদয়তল—
একলা বুকে সবই মেলে ||

তার বদলে পেলে—
শাদা ভাবনা কিছুই-না-এর
খোলা রাস্তা ধুলো-পায়ের
কান্না-হারা হাওয়া—
চেনা কণ্ঠে ডাকলো দূরে
সব-হারানো এই দুপুরে
ফিরে কেউ-না-চাওয়া |
এও কি রেখে গেলে ||

(বিনিময়- অমিয় চক্রবর্ত্রী)

Thursday, April 21, 2016

অন্ধকার

আমি ভালো আছি৷ রাতভর সুখের অনিদ্রা বাদে সব ঠিক৷ দিব্যি খাই দাই পড়ি লিখি কাজ করি দিন কেটে যায়৷

অথচ বলা হচ্ছে ভালো নেই৷ আরো ডাক্তার আরো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে হাজির হতে হবে৷ শেষ রাতের ঘুমে মিনিটে একবার কেঁপে ওঠা হৃদযন্ত্রের প্রেমময় চুম্বন বলে অনুমিত হচ্ছে৷

এখনো কত কী করার বাকী! কত কী দেখার রয়ে গেছে! চট্টগ্রামের ভৌগলিক ইতিহাস নিয়ে কাজটা মাত্র শুরু করেছি৷ কত সময় দরকার আরো! আসলে এইসব আধুনিক চিকিৎসা প্রতিক্রিয়া মানুষকে কেমন অচল করে দেবার চেষ্টা করে ! তার চেয়ে হাওয়া বদল ঢের ভালো৷

রাতে অনিদ্রা সময়ে চোখ বন্ধ করে একটা খড়ের চালের ঘরে চলে যাই৷ গুটিশুটি একা শুয়ে থাকি খড়ের বিছানার ওমে৷ চারিদিকে শুধু সোনালী খড়ের মেলা৷ ধান শুকানো উঠোনের ঘ্রাণে ভেসে যায় পৃথিবীর সম মেলা৷ কোথাও কেউ নেই, কোন শব্দ নেই৷ যাবতীয় সবকিছু থেকে মুক্ত আমি৷ আছে শুধু অনন্ত শান্তির নির্মল স্পর্শ৷

এরকম কোন একটা সময়েই কী জীবননান্দ লিখেছিলেন-

গভীর অন্ধকারের ঘুম থেকে নদীর চ্ছল চ্ছল শব্দে জেগে উঠলাম আবার;
তাকিয়ে দেখলাম পান্ডুর চাঁদ বৈতরণীর থেকে তার অর্ধেক ছায়া
গুটিয়ে নিয়েছে যেন
কীর্তিনাশার দিকে।
ধানসিঁড়ি নদীর কিনারে আমি শুয়েছিলাম পউষের রাতে-
কোনোদিন আর জাগব না জেনে
কোনোদিন জাগব না আমি কোনোদিন জাগব না আর-
হে নীল কস্তুরী আভার চাঁদ
তুমি দিনের আলো নও, স্বপ্ন নও,
হৃদয়ে যে মৃত্যুর শান্তি ও স্থিরতা রয়েছে,
রয়েছে যে অগাধ ঘুম
সে-আস্বাদ নষ্ট করবার মতো শেলতীব্রতা তোমার নেই,
তুমি প্রদাহ প্রবহমান যন্ত্রণা নও-
জানো না কি চাঁদ
জানো না কি নিশীথে,
আমি অনেক দিন-
অনেক অনেক দিন
অন্ধকারের সারাৎসারে অন্তত মৃত্যুর মতো মিশে থেকে
হঠাৎ ভোরের আলোর মূর্খ উচ্ছ্বাসে নিজেকে পৃথিবীর জীব বলে
বুঝতে পেরেছি আবার;
ভয় পেয়েছি,
পেয়েছি অসীম দুর্নিবার বেদনা;
দেখেছি রক্তিম আকাশে সূর্য জেগে উঠে
মানুষিক সৈনিক সেজে পৃথিবীর মুখোমুখি দাঁড়াবার জন্য
আমাকে নির্দেশ দিয়েছে;
আমার সমস্ত হৃদয় ঘৃণায় বেদনায় আক্রোশে ভরে গিয়েছে;
সূর্যের রৌদ্রে আক্রান্ত এই পৃথিবী যেন কোটি কোটি শুয়োরের আর্তনাদে
উৎসব শুরু করেছে।
হায়, উৎসব!
হৃদয়ের অবিরল অন্ধকারের ভিতর সূর্যকে ডুবিয়ে ফেলে
আবার ঘুমোতে চেয়েছি আমি,
অন্ধকারের স্তনের যোনির ভিতর অনন্ত মৃত্যুর মতো মিশে
থাকতে চেয়েছি।
কোনোদিন মানুষ ছিলাম না আমি।
হে নর, হে নারী।
তোমাদের পৃথিবীকে চিনিনি কোনোদিন;
আমি অন্য কোনো নক্ষত্রের জীব নই।
যেখানে স্পন্দন, সংঘর্ষ, গতি, যেখানে উদ্যম, চিন্তা, কাজ
সেখানেই সূর্য, পৃথিবীর, বৃহস্পতি, কালপুরুষ, অনন্ত আকাশগ্রন্থি,
শত শত শূকরের চিৎকার সেখানে,
শত শত শূকরীর প্রসব বেদনার আড়ম্বর;
এই সব ভয়াবহ আরতি!
গভীর অন্ধকারের ঘুমের আস্বাদে আমার আত্মা লালিত;
আমাকে কেন জাগাতে চাও?
হে সময়গ্রন্থি, হে সূর্য, হে মাঘনিশীথের কোকিল, হে স্মৃতি, হে হিম হাওয়া
আমাকে জাগাতে চাও কেন।
অরব অন্ধকারের ঘুম থেকে নদীর চ্ছল চ্ছল শব্দে জেগে উঠব না আর;
তাকিয়ে দেখব না নির্জন বিমিশ্র চাঁদ বৈতরণীর থেকে
অর্ধেক ছায়া গুটিয়ে নিয়েছে
কীর্তিনাশার দিকে।
ধানসিঁড়ি নদীর কিনারে আমি শুয়ে থাকব-ধীরে-পউষের রাতে।
কোনদিন জাগব না জেনে-
কোনোদিন জাগব না আমি-কোনোদিন আর।
  ................................................................
(অন্ধকার - জীবননান্দ দাশ

Wednesday, April 20, 2016

সেই নদীর নামটি অজানা

এই ছবিটার মধ্যে কোন গল্প খুঁজে পাওয়া যায়? কোন কোন নদীর গল্প আমরা জানি, কোন কোন নদীর গল্প জানি না৷

এই নদীটার গল্প জানতে গিয়ে বিপদ হয়ে গিয়েছিল আমার৷ সেই ঘটনাটি মনে পড়ে গেল৷

Tuesday, April 19, 2016

শেকড়ের শেকল

শেকড়ে এমন বাধা(বাঁধন?) না থাকলে আজ আমি হয়তো বিশ্বময় দাপিয়ে বেড়াতে পারতাম৷ সবার সুযোগ সামর্থ দুটো একসাথে থাকে না৷ আমার দুটোই ছিল তবু হলো না শেকড়ে আটকে থেকে৷

আমাকে এখনো মাঝে মাঝে ডাকে আমাজন জঙ্গল, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর, কঙ্গো থেকে জাম্বেসী নদীর তীর, ক্যারিবীয়ান দ্বীপপুঞ্জ৷ আমার কিছুই দেখা হলো না শেকড়ের শেকলে আটকে থেকে৷

নিজেকে বোঝাই, বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি বলে পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর৷ দেখিতে চাহিলে বড় অনর্থ হইয়া যায়৷

Monday, April 18, 2016

সোনালু ফুল

দুপুরবেলা ডিসি হিলের বাঁধানো রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সবুজের মাঝে হঠাৎ করে এক টুকরো হলুদ আগুন৷ এই পার্কের একমাত্র সোনালু ফুলের ঝাড়৷ মন ভালো করা দৃশ্যটা তুলে রাখলাম৷

সহানুভুতি বা সমানুভুতি

বন্ধুর কাছে মুখ ফুটে সহানুভূতি প্রার্থনা করে প্রত্যাখ্যাত হবার দুর্ভাগ্যের তুললনায় ক্ষুধার্ত অবস্থায় প্রত্যাখ্যাত হওয়া ভিখিরির অপমান কমই বলা চলে।

তেমন দুর্ভাগ্য আমার এখনো হয়নি বলে আনন্দিত এবং গর্বিত৷ আমার প্রায় সব বিপর্যয়ে  বন্ধুদের বাড়ানো হাত পেয়েছি৷ না চাইতেও অনেক সময় পাই৷ তাই অনেক অদৃশ্য সংকটে আত্মীয় পরিজনের আগে বন্ধুর কাছে হাত মেলে দেই নির্দ্বিধায়৷ সাহায্য চাইতে গিয়ে কোন বন্ধু মুখের উপর বলে দেয়নি সরি ভুল দরোজায় নক করেছো।

মানুষের জীবনে অদ্ভুত কিছু সমস্যার চাবি বন্ধুর হাতেই থাকে ৷ তাদের দেয়া হালকা মলমে অনেক দুষ্টক্ষত সেরে যেতে পারে৷ তবে যাদের কখনো এরকম বন্ধুতা পাওয়া হয়নি তারা এই নির্ভরতার বিষয়টি বুঝবে না কোনদিন৷ এমন বন্ধুতা অনেক ভাগ্যে পাওয়া হয়৷

একেকটা সময়ে একেক রকম বন্ধুতার প্রয়োজন হয় মানুষের। একই মানুষকে নিয়েও আমরা একেক রকমের চাহিদা মেটাই ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। একটা সময়ে যে হাতপাখার বাতাস খেয়েছি তৃপ্তির সাথে, পুরোনো হয়ে যাবার পর সেটা দিয়েই মাকড়সার ঝুলকালি ঝাড়ি। দুটোই কাজের জিনিস। পার্থক্য হলো যখন হাতপাখা থাকে আমরা যত্নের সাথে বিছানার পাশে রাখি। আর ঝুলের কাজের সময় পরিত্যক্ত করে বারান্দার কোনায় ফেলে রাখি।


তো ......হে অনিশ্চিত নিয়তি, আমি বন্ধু বিষয়ক যে আনন্দ আর গর্ব নিয়ে তৃপ্তির লেখা লিখছি আমার সে আনন্দ সে গর্ব নিঃশেষে চূর্ণ করে দিও না কোন আকালের দিনে৷

Sunday, April 17, 2016

হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে বেড়ানো ছায়া

প্রতিদিন বিকেলে নিয়ম বারান্দায় সময় কাটাতে শুরু করার কারণে চোখে কিছুটা আরাম বোধ করছি৷ যদিও ডানপাশের সেই দাগটা আজো পুরোপুরি মুছে যায়নি, যাবে না হয়তো৷

তবে এই বারান্দা বিহারে চোখের আরামের সাথে যুক্ত হয়েছে দক্ষিণ পশ্চিম সমুদ্র থেকে ছুটে আসা উতল হাওয়া৷ শহরজুড়ে হাঁসফাস গরম, কিন্তু এই এলাকায় অদ্ভুত রকমের ব্যতিক্রম এই পাগলা হাওয়ার নাচন৷ বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যেতে চায় বারান্দার শুকোতে দেয়া জামাকাপড়, টবের ফুলের চারা গাছ

চৈত্র বৈশাখে এমন হাওয়া ভীষণ ভালো লাগার৷ একদম বিনে পয়সায় পাওয়া এই হাওয়ার আদর গায়ে মুখে মেখে ভেবে নেই, আজ ভালো আছি৷ 

এরকম বাতাসে কিশোর কুমারের সেই গানটা মনে পড়ে যায়, আশির দশকের শেষে শোনা৷

'হাওয়া, মেঘ সরিয়ে, ফুল ঝরিয়ে ঝিরিঝিরি এলে বহিয়া............ '

আজ দুপুরের পর থেকে এই বসন্ত বাতাস........

শাহীন আখতারের 'ময়ূর সিংহাসন' পাঠ শেষে ভাবনাগুলো

ইতিহাসের প্রতি একটি ঐতিহাসিক উপন্যাসের দায়িত্ব কতটুকু? প্রশ্নটি প্রতিবারই খোঁচা দেয় যখন কোন ঐতিহাসিক উপন্যাস পড়তে বসি। ইতিহাসের প্রতি আমার অল্পবিস্তর আগ্রহ আছে সে কারণে ওই বিষয়ে তাত্ত্বিক লেখার বাইরে পছন্দসই ফিকশন পেলেও পড়ার চেষ্টা করি। পাঠক হিসেবে আমি খুব বেশী ক্রিটিক্যাল না, ভাষার ঝলমল আলোটা যদি ভালো লাগে গড়গড় করে পড়ে ফেলি।

তবে ঐতিহাসিক উপন্যাস জাতীয় কিছু পড়তে গেলে বারবার 'সত্য' এসে জিজ্ঞেস করে, তাতে সে কতটুকু উপস্থিত আছে?

সম্প্রতি পড়লাম শাহীন আখতারের 'ময়ূর সিংহাসন'। বইটির মূল উপজীব্য বিষয় আওরঙ্গজেবের ভয়ে শাহ সুজার আরাকান পলায়ন এবং আরাকান রাজার হাতে সপরিবারে করুণ পরিণতি বরণ। বইটিতে কথক হিসেবে একাধিক চরিত্র আছেন যাদের মুখে আমরা সম্পূর্ণ উপন্যাসের ঘটনাগুলো শুনি। সেই চরিত্রসমূহের কিছু বাস্তব কিছু কাল্পনিক। কথকদের সবগুলো গল্প সত্যি না, ইতিহাসের সাথে গল্প মিশিয়ে পরিবেশিত হয়েছে সম্পূর্ণ উপন্যাসটি।

সব ঐতিহাসিক উপন্যাসকে এই কাজটি করতেই হয়। কেননা ইতিহাসে শুধু ঘটনা থাকে, কোন গল্প থাকে না। ইতিহাস থেকে ফ্রেমটা ধার নিয়ে তার খোপে খোপে গল্প বসিয়ে সম্পূর্ণ ছবিটা শেষ করতে হয়। যদি গল্পগুলো সেই ফ্রেমের বাইরে চলে না যায় তাহলে আমরা বলি উপন্যাসটি বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে। আবার যদি গল্পগুলো বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা না যায়, তখন আমরা বলি উপন্যাসটি ব্যর্থ হয়েছে। একশো ভাগ সফল ঐতিহাসিক উপন্যাসের নজীর পৃথিবীতে খুব কমই আছে। কোন না কোন দৃষ্টিভঙ্গী থেকে সমালোচনার অবকাশ থাকেই। সেটা সিনেমা হোক বা উপন্যাস হোক।

এই উপন্যাসটি পড়তে আমার সমস্যা হয়নি। পড়া শেষ করে বলতে পেরেছি, বাহ বেশ একটা আনন্দ পাঠ হয়ে গেল। প্রধানতঃ তিনটি কারণে আমার ভালো লেগেছে বইটি।

প্রথম কারণ, এর কথক চরিত্রদের গল্প বলার ধরণটা আকর্ষণীয়। ছোট ছোট পর্বে সাজানো গল্পগুলো প্রতিটি আলাদা আলাদা চরিত্রের মুখে হলেও সমন্বয়হীন মনে হয়নি তেমন কোথাও।

দ্বিতীয় কারণ, মোগলদের ভাইবেরাদরের ঝগড়াঝাটি বিষয়ে ইতিহাস বইয়ের কাঠখোট্টা আলোচনায় যা বুঝতে পারিনি, এই বইটি তা জলের মতো পরিষ্কার করে দিয়েছে।

তৃতীয় কারণ, বইটিতে বানোয়াট কোন ইতিহাস প্রবিষ্ট করানো হয়নি বলে মনে হয়েছে। ইতিহাসের ফাঁকগুলো যথাযথ গল্প দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। গল্পগুলোর মান নিয়ে হয়তো প্রশ্ন উঠতে পারে। তা উঠুক কিন্তু বইটিতে আমি Infotainment (এর সঠিক বাংলা কী আমি জানি না) ব্যাপারটাই সবচেয়ে বেশী উপভোগ করেছি। গল্পের ভেতর দিয়ে ইতিহাস পড়ে নেয়া যেন।

শেষ অংশে শাহসুজার পরিণতি বিষয়ে ইতিপূর্বে কিছু পড়া থাকলেও এই বইটি পড়ার পর কিছুটা ক্রস রেফারেন্স হিসেবে আরো কিছু পড়াশোনা করেছি যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সপ্তদশ শতকের ফরাসী পরিব্রাজক বার্নিয়ের এবং ইতালীয় নাগরিক নিকোলো মানুচ্চির বিবরণ। এই দুজনই ওই সময়কালে মোগল সম্রাটের চাকরী করেছেন এবং অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। সেই বিবরণ অনুযায়ী উপন্যাসের আরাকান পর্বটি মোটামুটি সমন্বিত বলা চলে। যদিও ওই সময়কালের অনেক ঘটনা ধোঁয়াশা আর গুজবে পরিপূর্ণ। সেই ধোঁয়াশার মধ্যে সত্যমিথ্যা যাচাই করা খুবই কঠিন কাজ। তবু গুরুতর কোন তথ্য বিচ্যুতি ঘটেনি বলে এই অংশটি খুব বেশী অবিশ্বাস্য মনে হয়নি।

তবে শেষমেষ মনে রাখতেই হয় এটি একটি ফিকশন বা উপন্যাসই। যারা উপন্যাসে ইতিহাসের উপাত্ত অনুসন্ধান করেন এই বই তাদের না পড়াই ভালো।

সুতরাং শুরুতে করা প্রশ্নের উত্তরটি লিখি এবার। এই বইটি কি ঐতিহাসিক উপন্যাসের শর্ত পালন করেছে? সবগুলো হয়তো করেনি। কিন্তু যেটুকু করেছে পাঠক হিসেবে আমার কাছে যথেষ্ট মনে হয়েছে। তাই মোগল ইতিহাস নিয়ে, শাহ সুজার আরাকান পরিণতি নিয়ে যাদের আগ্রহ আছে, সেই সব সাধারণ পাঠকদের বইটি পড়তে বলবো।

Saturday, April 16, 2016

আধুনিক গুলিবাজ শব্দেরা

- নৈকট্যজনিত আঘাতের চেয়ে দূরত্বজনিত বেদনা শ্রেয়৷

- সাম্প্রতিক প্রবণতায় দুর্বিনীত আচরণের শব্দগুলো আধুনিক বলে বিবেচিত হলেও কারো কারো জন্য মর্মান্তিক এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে৷ যদি সেই বাক্য শিক্ষিত রুচিশীল মানুষের কাছ থেকে আসে সেটা অনেক বেশী দুঃখজনক৷

- এবং প্রতিদিন কিছু না কিছু সহ্য করতে হয় যদি সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অক্ষুন্ন থাকে৷
নগরে বাস করলে যেমন কিছুটা কার্বন মনো অক্সাইড মেনে নিতে হয় এটাও তেমনি৷

+++++++++++++++++++++++++++

সব ছেড়ে ঠিক একদিন গ্রামে চলে যাবো৷ পশ্চিমের দীঘির পাড়ের নির্জনতায়, শুধুই হাওয়ার মাতন সেখানে৷

জল ঘোলা বলে

এক
জল ঘোলা হবার পর থেকে মিথ্যে মাছগুলো বেশী ঘোরাফেরা করছে৷ যখন স্বচ্ছ ছিল তখন যতটা মাছ ততটা গোনা যেতো৷ তখন সবগুলো সত্যি মাছ ছিল৷ জল ঘোলা হবার পর মিথ্যে মাছগুলো চলে এসেছে৷ ছোট মাছ৷ ভয় নেই৷ হা করে গিলে ফেলবে না৷ কিন্তু ছোট মাছের সাথে জোঁক এসে কামড়ে ধরে যদি সেই ভয়৷ নিজের পুকুরেও ঘোলা জলে পা ডোবাতে অস্বস্তি লাগে তাই৷ পুকুর পাড়ে পা গুটিয়ে বসে থাকি৷ কখন বৃষ্টি আসে তাকিয়ে থাকি৷ অনেকদিন আমার জন্য বৃষ্টি হয় না ৷

জল ঘোলা হবার পর থেকে অনেক কিছু অজানা রয়ে গেছে ৷ রহস্যের মোড়কে আটকে গেছে অনেক ঘটনা ৷ আগে যা আপনাতেই দেখা যেতো এখন তা অনুসন্ধানেও জানা যায় না ৷ জাল ফেললে প্রশ্নবিদ্ধ মাছেরাই ধরা দেয় ৷ যে মাছ আমার মোটেও দরকার নেই ৷

দুই
জানা ছিল একদিন এমন নিরুত্তাপ সময় আসবেই ৷ যদিও চিরকাল উষ্ণতা প্রবহমান থাকার প্রতিশ্রুতি ছিল দুই পক্ষেই,  তবু অন্য পক্ষ সুযোগ বুঝে পিঠটান দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে চিরকাল টিরকালের বোকার স্বর্গে বেশিদিন বাস করা অনুচিত ৷ যার বেশী প্রয়োজনের চাহিদা ছিল,  সেই কাঁচকলা দেখিয়ে দিতে পারদর্শী ৷ বাণিজ্য ছিল তার ৷ পুঁজি আমার ৷ কাঁচকলার ভর্তা আমাকেই খেতে হচ্ছে ৷ পুঁজি গেল,  সাথে নিয়ে গেল বন্ধুতাকেও ৷ জীবন বাজি রাখলে তার গোড়ায়ও কুড়াল চালাতে দ্বিধাবোধ হতো না কৃতঘ্ন এই জীবের!

ম্যাক নামের এক ভন্ড

টিভিতে এক ভন্ড সেলেব্রিটি গায়কের বৈশাখী চেতনার টক শোর শুরুটা দেখে বমি পেয়ে গেলে রিমোটে চাপ দিয়ে অফ করে দিলাম৷ ভুতের মুখে রাম নাম!

দুহাজার এক সালে একুশে টিভিকে যখন গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল সেদিন এই লোক জামাত শিবিরের চেতনায় গিয়াস কামাল চৌধুরী ও শফিক রেহমানের সমর্থনে জেহাদে নেমে গিয়েছিল অনলাইন ফোরামে৷ তিনি তখন নব্য বুদ্ধিজীবি ম্যাক নামে পরিচিত৷

আলোচনা ইয়াহু ফোরামে অন্যন্যদের সাথে তার সেই বিতর্কে আমি মডুগিরি করেছিলাম এবং আমার সাথেও প্রচুর বিতর্ক হয়েছিল৷ তাঁর স্বাধীনতা বিরোধী অবস্থান জেনে গানের সাথে আমার সেদিনই কাটাকাটি৷

সেই মাকসুদ কখন যে ভোল পাল্টে আবার বাংলাদেশী পতাকা গায়ে তুলে নিল!

আজকের অনেকের জানা নেই অন্য চেহারার সেই মাকসুদ সম্পর্কে৷ আমি জানি বলে আমারই বমি পায় চুড়ান্ত রকমের ভন্ডামি দেখে৷ এজাজ ভাই আপনাকে মনে পড়লো৷ জানিনা আপনি এখন কোথায়?  সেদিন আপনিই সবচেয়ে বেশী গালি খেয়েছিলেন জামাতী বুদ্ধিজীবি ম্যাকের কাছ থেকে স্বাধীনতার চেতনার কথা বলার কারণে৷

Friday, April 15, 2016

বিশ্বাস ও প্রত্যাশা

বিশ্বাসঃ

বিশ্বাস খুব শক্তিশালী ব্যাপার৷  বিশ্বাসকে বিশ্বস্ততার সাথে ধারণ, লালন এবং পালন করতে না পারলে তাকে মুক্তি দেয়া উচিত৷ নইলে নিঃশব্দ অনুতাপ কিংবা গ্লানিবোধ দেহ-মনের স্বাস্থ্যহানি ঘটায়৷

এই বিশ্বাসের ভেতর আত্মবিশ্বাস থেকে শুরু করে ধর্ম বিশ্বাস পর্যন্ত যে কোন ব্যাপার অন্তর্ভূক্ত হতে পারে৷ অবিশ্বাসের জন্যও এটা একইভাবে প্রযোজ্য৷

প্রত্যাশাঃ

প্রত্যাশার ব্যাপারে এর বিপরীত কাজ করতে হয় ৷

বাছাই করো এবং বিয়োগ করো৷
যত কম ততই স্বাস্থ্যকর৷

এমনকি ওই গাছে আগে ফুল ফুটতো এখন কেন ফোটে না বলেও আক্ষেপ করা যাবে না৷

অন্ধ ট্রেন

জীবনটা হলো সেই অন্ধ ট্রেন যার গন্তব্য এবং স্টেশনগুলোর নাম জানি কিন্তু কে কোন স্টেশনে নেমে যাবো জানি না৷

আমরা সবাই সপরিবারে টিকেট কেটে সেই ট্রেনে চড়লেও টিকেট মাস্টার আমাদের কারো গন্তব্য প্রকাশ করেনা৷ তাই পরিবারের বড়ো আগে নামবে নাকি ছোট আগে নেমে যাবে কেউ জানে না৷

এমন অন্ধ ট্রেনেও আমাদের স্বপ্নগুলো থেমে থাকে না৷

Monday, April 11, 2016

ভালোবাসি অবসাদ, এইসব নিদ্রাহীন রাত

কাজের সময় কমে গেছে অবসাদের তোড়ে৷ অষুধের ক্লান্তিকর প্রতিক্রিয়া৷ খুব দরকার না হলে ল্যাপি খোলা হয় না কর্মসময়ের বাইরে৷ ফ্রি ল্যান্সার হবার সুযোগের পূর্ণ আলস্য অপব্যবহার৷

অব্যাহত থাকলে কর্মচ্যুতি ঘটতে পারে৷ ইতিমধ্যে কিছু লক্ষণ দৃশ্যমান৷ নতুন কিছু করে খেতে হবে হয়তো৷ আরো একটা নতুন কাজ হাত পেতে বসে আছে৷ টাকাকড়ি কম হলেও চলে যাবে৷

ফ্রি ল্যান্সারদের সাথে রিকশাওয়ালার অনেক মিল৷ পার্থক্য হলো ঘুমে৷ ওদের রাত কাটে ঘুমে৷ আমরা কেউ কেউ রাতভর জেগে কাটাই সমস্যাহীন অবসাদ নিয়ে৷ ওষুধেও কখনো কখনো কাজ দেয় না৷

জেগে আছো কেন? কোথায় সমস্যা?

সমস্যা নাই তবু ঘুম নেই৷

বিশ্বাস করানো যায় না উত্তরটা৷ করার কথাও না৷ এত সুখে থেকে এত ভালমন্দ খেয়ে ঘুমোতে পারছে না কেউ আমারই অবিশ্বাস হয় মাঝে মাঝে৷ একটা দরিদ্র অনাহারী মানুষের দেশে এটাকে সমস্যা মনে করাই অপরাধ৷

বরং বলি ভালোবাসি এই নিদ্রাহীন রাত৷ ভালোবাসি এইসব অবসাদ৷ যেন আমি নিশ্চিত জানি ভেতরে লুকিয়ে নেই গোপন প্রবীন কোন বিষন্নতা!



Friday, April 8, 2016

আমার টিজি প্রেম এবং মেডিকেশন রেকর্ড

আমি প্রায় সুস্থ জীবনযাপন করি। তবু মাঝে মাঝে যথাযথ পরিচর্যার অভাবে শরীরের কিছু অংশ বিগড়ে গিয়ে ঝামেলা পাকায়। বয়স ৪০ পার হবার পর চোখে চশমা উঠবে, ব্লাড প্রেশার ডায়াবেটিসের লক্ষণ ধরা পড়তে শুরু করবে, কপাল খারাপ থাকলে দুয়েকটা স্ট্রোকও হয়ে যেতে পারে, ভাগ্য ভাল হলে হাসপাতালে নেবার পর পটল না তুলে টেস্ট করার সুযোগ পাওয়া যাবে, সেই টেস্টে দুয়েকটা ব্লক ধরা পড়তে পারে, তারপর রিং পরাও, বেল্ট পরাও, যমদুতের সাথে সাক্ষাতের আগ পর্যন্ত ডাক্তার ওষুধ মেডিক্যাল ডায়গনস্টিক সেন্টার এসব ভ্রমণ করে কাটাও।

আমিও মোটামুটি লাইনেই আছি- প্রেশার, কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইডের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছি কয়েক বছর ধরে। সেদিন কোয়াটার ফাইনাল খেলেই ফেলছি মোটামুটি। সেমি ফাইনালও খুব দূর নয় আজ নয় কাল নয় পরশু। তবু ৪৭ বছর যে আরামেই পার করেছি এই অনিয়মের দিনে, তাতেই সন্তুষ্ট আছি বলা চলে। কেননা ডাক্তার বলেছে আমার হার্টের শব্দ এখনো যথেষ্ট ভালো, চোখের ডাক্তার বলেছে চশমার পাওয়ার বাড়লেও সামান্য কালচে স্পট নিয়ে বাকী জীবন পার করা কোন ব্যাপার না, ডায়াবেটিস এখনো প্রেমে পড়েনি, হাড় কোমর ঘাড়ে এখনো চুনাপাথরের অভাব ঘটেনি। আমার তাই তৃপ্তির সাথেই নিদ্রা যাপন করা উচিত। সত্যি সত্যি নিদ্রার সাথে সহবাস করছি সাতদিন ধরেই। এবং ভালো আছি। ভালো আছি বলতে পারাটা একটা শক্তি বটে।

সাম্প্রতিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় যা বলা হয়েছে তাতে শুধু Triglycerides(TG) এর প্রেমই সবচেয়ে বেশী।  এই জিনিসটা আমাকে অর্ধযুগ ধরে আঁকড়ে ধরে আছে। এবারের মাত্রা ৬৪০, যেখানে সর্বোচ্চ বিপদসীমা ৫০০। তিন মাস ওষুধ খেলে চলে যায়, আবার ওষুধ বন্ধ করলে ফিরে আসে। রবীন্দ্রনাথ এরকম কিছুকে ভেবেই সেই গানটা লিখেছিলেন বোধহয় - 'অলি বারবার ফিরে আসে অলি বারবার ফিরে যায়'। যাই হোক। যখনই ফিরে আসে তখন আমি নেট ঘাটাঘাটি করি কেন ফিরে আসলো। কিন্তু কোন কূল পাই না। যেসব গুনের কারণে টিজি আমার প্রেমে পড়ার কথা তার কোনটাই আমার নাই। তবু সে কোন অদ্ভুত কারণে আমাকে পছন্দ করছে। আমি টিজির লক্ষণ ও প্রতিকার সংক্রান্ত তথ্যের একটা সারাংশ এখানে লিখে রাখলাম। কিছুটা আমার নিজের পড়ার সুবিধার্থে, কিছুটা অন্য কোন ভুক্তভোগী পাঠকের জন্য যদি কারো কাজে লাগে। ইন্টারনেট সুত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলোর মধ্যে আমার নিজের তথ্যপুরিয়াগুলো ফাঁকে ফাঁকে লিখে দেবো যাতে অবস্থাটা বোঝা যায়।

প্রথম অংশ-

অনলাইন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা আমাদের জানাচ্ছে-

Know Your Triglyceride Numbers

Here are the levels, based on a fasting blood test.
  • Normal: Less than 150mg/dL
  • Borderline: 150 to 199 mg/dL
  • High: 200 to 499 mg/dL
  • Very High: 500 mg/dL or above
[আমার বর্তমান অবস্থা:  এবারের লেভেলটা হলো ৬৪০, এর আগের রেকর্ড ছিল ৩৯৯, ৫৫০, ৭৫০, ৪৪০ ইত্যাদি]


এবার দেখি কিসের থেকে কী হয়?

What causes high triglycerides?

High triglycerides are usually caused by other conditions, such as:
[এই কারণগুলোর একটিও আমার মধ্যে নাই। অথচ আমার উচ্চমাত্রার TG  সম্পর্ক অর্ধযুগের বেশী].

তবু আরো কিছু কারণেও হতে পারে-
Certain medicines may also raise triglycerides. These medicines include:
[অথচ এই জাতের কোন ওষুধই আমি খাই না। এই কারণটাও বাদ গেল। তাহলে আর রইল কী? এখনো কোন কারণই খুঁজে পাইনি। শুধু জানি এটা এরকমই আসতে থাকবে যতদিন ওষুধ না খাই।]

কোন লক্ষণ দেখে বিচার করা যায় আমার রক্তে টিজির প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে?
What are the symptoms?

High triglycerides usually don't cause symptoms.

[নাহ কোন লক্ষণই নাই। সুতরাং এদের এই কথাটা একদম সঠিক। কেননা আমার TG মাত্রা ৭৫০ হবার পরও কোন লক্ষণ দেখা যায়নি]

কিভাবে নামানো যাবে এই টিজি প্রেম?
How can you lower your high triglycerides?

You can make diet and lifestyle changes to help lower your levels.
[এ সমস্ত কায়দা চিরকালই মেনে চলছি তবু কোন লাভের লাভ হয়নি। যা হবার হবে, যা আসার আসেই]

[সুত্র : http://www.webmd.com/cholesterol-management/tc/high-triglycerides-overview]

                                     ***** ******   *****   ******

দ্বিতীয় অংশ-

এবার অন্য সাইটে যাওয়া যাক। ওরা বলছে ওষুধপত্রের কথা। দেখা যাক, কি কি খেলে TG প্রেম থেকে নিস্তার পাওয়া যেতে পারে-


Common Medications for Lowering Triglycerides
"Fish oil, in doses of 3.5 grams of omega-3 fatty acids per day, can effectively lower triglycerides. Lower doses are ineffective," explains says Scott Shurmur, MD, a cardiologist at The Nebraska Medical Center in Omaha. When prescription medication is needed, lowering triglycerides usually starts with medication that lowers LDL cholesterol levels — many of the same medications used to lower cholesterol will also lower triglycerides.

[সামু্দ্রিক মাছের মধ্যে সকল টিজি বিরোধী উপাদান। সামুদ্রিক মাছ খেয়ে যাচ্ছি দেদারসে। যুগ যুগ ধরে সামুদ্রিক মাছই আমার প্রিয় খাবার। কিন্তু ওতে কী উপকার হয়েছে ঠিক বলতে পারবো না, কিন্তু ওষুধ বন্ধ করলেই টিজি আবারো আগের মাত্রায় উঠে যায়]

খাবারে কাজ না হলে ওষুধের দিকে যেতে হবে-
Drugs used to lower cholesterol and control high triglycerides include:
  • Statins. Statins are usually well tolerated and are the most commonly used drugs to lower cholesterol. Common examples include Lipitor (atorvastatin), Crestor (rosuvastatin), Zocor (simvastatin), Lescol (fluvastatin), Pravachol (pravastatin), and Mevacor or Altoprev (lovastatin). Side effects include abdominal pain, constipation, and muscle aches. You shouldn't take one of these medications if you are pregnant or have active liver disease.
[এই পর্বের ওষুধ হলো Atova জাতীয় ওষুধ। আগেরবার টিজি বেড়ে যাবার পর ডাক্তার দিয়েছিল। কিন্তু এটা খেয়ে আমার কোন উপকার হয়নি। তবু এবার ডাক্তার সাহেব এবারো Atova 40 দিয়েছে, খেয়ে যাচ্ছি। তারপর দুমাস পর ফলাফল দেখবো]
  • Niacin (nicotinic acid). Niacin comes as a prescription or a dietary supplement. Dietary supplements are not regulated and should not be substituted for a prescription. Side effects include flushing and stomach upset. You may not be able to take niacin if you have diabetes, peptic ulcer, gout, or liver disease. "Niacin has some triglyceride lowering ability, but also can make blood sugar control worse," says Dr. Shurmur.
[এই গ্রুপের কোন ওষুধ খাইনি, এটা সম্পর্কে বলতে পারবো না]
  • Fibrates. These drugs are almost always used specifically for lowering triglycerides. Side effects include stomach upset, gallstones, and muscle aches. You should not take fibrates if you have kidney disease or severe liver disease.
[একমাত্র এই গ্রুপের ওষুধটাই আমাকে উপকৃত করেছে। Nofiate ক্যাপসুল তিন মাস খাবার পর টেস্ট করে দেখেছি ৭৫০ থেকে নেমে আমার টিজি ১০০ তে চলে এসেছে। এই পর্বে ডাক্তার এই গ্রুপের ওষুধ দেয়নি বলে খাওয়া শুরু করিনি। তবে Atova 40 খেয়ে যদি না কমে তাহলে এটাতেই ফিরে আসতে হবে আবার]

[সুত্র: http://www.everydayhealth.com/heart-health/medications-that-help-lower-triglycerides.aspx]

                  ********  *********** ************* ************

পাদটীকা-
আজকাল অনেক কিছু ভুলে যাই। নিজেকে মনে করিয়ে দেবার জন্যও অনেক লেখা লিখতে হয়। আমি এখনো অনেক ভালো আছি। এই কথাটাও মনে করিয়ে দিতে হয়  মাঝে মাঝে। ডাক্তারী নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কিছু ফাঁক থাকে। সেই ফাঁকগুলো নিজেকে পড়াশোনা করে বের করে নিতে হয় এবং জীবনযাপনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। আমাদের ডাক্তার যে কথাগুলো রোগীর সাথে বলার সুযোগ বা সময় পান না সেই কথাগুলো লিখে রাখার উদ্দেশ্যই এই পোস্টটি প্রস্তুতকৃত।


হে কূপমণ্ডুক জীবানু মানুষ, এই ছবিটা তোমার আক্কেলের জানালা খুলুক

আমি অনেকক্ষণ ধরে ছবিটার দিকে তাকিয়ে আছি। তাকাতে তাকাতে বহুবিধ ভাবনারা এসে খেলা করে গেছে। অতসব ভাবনার কথা লেখা সম্ভব না। কিন্তু বিস্ময় ভাবনাগুলো আবারো মনে করিয়ে দিল আমাদের ক্ষুদ্রতার কথা, দীনতার কথা, হীনতার কথা, আমাদের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিশাল কাণ্ড করে ফেলার কথা। পৃথিবীর মানুষগুলোর কথা মনে পড়লো, এই মানুষগুলো সভ্য প্রাণী হিসেবে গর্বিত। কিন্তু এই সভ্যতার বিশাল একটা অংশ আমাদের লজ্জার, আমাদের গ্লানির। আমি সেই গ্লানিগুলো নিয়েও লিখতে চাই না। আমি কেবল আমার দৃষ্টির ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিতে চাই যে প্রযুক্তি এগিয়েছে বলে আমরা এরকম বহু বিস্ময়কর দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি নগন্য মানুষ হয়েও। আকাশের দিকে খালি চোখের সীমানায় যা কখনো দেখতে পেতাম না। বিজ্ঞান আমার কাছে বিশাল জানালা, সেই জানালায় আমরা মহাবৃত্তাকার এক জগতের আলোর স্পর্শে উদ্বেলিত হয়।

ছবিটি প্রকাশ করেছে NASA

এটি একটা নক্ষত্র পরিবেষ্টিত ব্ল্যাকহোলের ছবি। মাত্র(!) ১৭ বিলিয়ন নক্ষত্র আছে এই নীহারিকায়। যে ছবির ক্ষুদে ক্ষুদে আলোকবিন্দুগুলো একেকটি নক্ষত্র। যে নক্ষত্রের তুলনায় আমরা নিতান্তই অতি ক্ষুদে জীবানু। হায় মানুষ! এই জীবানু মানুষেরা হাস্যকরভাবে নিজেদের কতো শক্তিমান মনে করে, পৃথিবীময় অযথা যুদ্ধ বোমাবাজি খুনোখুনি করে!!

হে কুপমণ্ডুক জীবানু মানুষ, তোমরা ওই নক্ষত্রপুঞ্জের দিকে তাকিয়ে নিজেদের মূর্খ অবস্থানের জন্য লজ্জিত হও।

(সুত্র: www.nasa.gov)

Wednesday, April 6, 2016

নিঃশেষে প্রাণ ...........দুই

এই ছবিটি বহুল পরিচিত ৷ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও তাঁর পরিবার৷

এটি একাত্তর নিয়ে দ্বিতীয় পারিবারিক ছবি যা আমাকে ভীষণভাবে আলোড়িত করে৷

এমন একটি পরিবারকে রেখে যে মানুষ মৃত্যুকে তুচ্ছ করে দেশকে মুক্ত করার জন্য শত্রু শিবিরে যুদ্ধ বিমান ছিনিয়ে নেবার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে তাঁদের শরীর কী পদার্থ দিয়ে তৈরী?

এইসব সংশপ্তক বীরকে আমরা সবাই কি ঠিকঠিক বুঝতে পারি? যদি না পারি তাহলে আমরা নিশ্চয়ই অমানুষ নেমকহারামের বাচ্চা!

নিঃশেষে প্রাণ...........এক

তাঁর নামটি আমাদের খুব চেনা৷ কিন্তু ছবিটা চেনা ছিল না৷ তাঁর পাশে দাঁড়ানো দুজনের নামও অনেকের চেনা৷ তাঁর অতি প্রিয় স্বজন৷ স্ত্রী ও কন্যা৷ হ্যাঁ তিনিই একাত্তরের পঁচিশে মার্চ রাতে পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন জগন্নাথ হলের ভেতর নিজের নিরাপদ কোয়ার্টারে৷ তিনি ওই হলের আবাসিক শিক্ষক এবং ইংরেজীর অধ্যাপক৷ বিলেতের লোভনীয় জীবন ছেড়ে দেশের কাজ করতে চেয়েছিলেন৷ পাকি আক্রমনের আশংকায় বহু অনুরোধেও পালাতে রাজী হননি যিনি৷

পাকি জানোয়ারের দল নির্বিবাদী এই শিক্ষককে বেডরুম থেকে ধরে নিয়ে সামনের বাগানে গুলি করে ফেলে যায় প্রিয়তমা স্ত্রী বাসন্তী ও কন্যা দোলার চোখের সামনে৷ তিনি জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা৷

১৯৭১ এর দুটি পরিবারের ছবি আমার চোখে সবচেয়ে বেশী পোড়ায় ৷ এটি প্রথম ছবি৷

Tuesday, April 5, 2016

শুধু সময় জানে

"Only Time" by ENYA
***********************
Who can say where the road goes? Where the day flows? Only time
কে জানে পথ কোথায় নিয়ে যাবে দিনের শেষে?
And who can say if your love grows As your heart chose? Only time
কে জানে তোমার মন কখন কাকে খুঁজে বেড়ায় অনির্দেশে?
Who can say why your heart sighs As your love flies? Only time
কে জানে কেন তোমার দীর্ঘশ্বাস এখনো উড়ে বেড়ায় হারানো প্রেমের খোঁজে?
And who can say why your heart cries When your love lies? Only time
কে জানে তোমার মন কেন কাঁদে ভালোবাসার মিথ্যাচারে?
Who can say when the roads meet That love might be in your heart?
কে জানে কখন পথের ধারে মিলে যায় অচেনা প্রেমের আহ্বান!
And who can say when the day sleeps If the night keeps all your heart, Night keeps all your heart?
আর কেউ কি জানে যখন দিন ঘুমিয়ে পড়ে রাত্রি এসে তোমাকে আগলে রাখে বুকের মাঝে?
Who knows? Only time
কেউ জানে না- কেউ জানে না! জানে শুধু সময় ৷ সময়!
+++++++++++++++++++++++++++++
Artist: Enya
Album: A Day Without Rain
Released: 2000

সোনালী চায়ের বিকেল

আরো একটা দুপুর কেটে গেল ৷ আকাশটা সারাক্ষণ মুখ ভার করে রাখলেও বাতাস ছিল উচ্ছল মুখর ৷

বাতাসের ভাষা না বুঝলেও বৃষ্টির প্রতীক্ষা বুঝি৷ আমের মুকুলগুলো এই চৈত্রে জলের তৃষ্ণায় আকুল থাকে ৷ কাঁচা আমের বোলে বাংলাদেশের পথ মৌ মৌ ৷

আমরা নাগরিক বায়স ৷ সোনালী চায়ের কাপ হাতে নিয়েই এক একটা বিকেল পার করে দেই ৷

হার কিংবা জিত

পাঁচবেলা খাবার সামর্থ্য যাদের আছে তাদেরই পোষায় আটরকমের ওষুধ খেয়ে, তিন জনের সেবা যত্ন নিয়ে, বিছানায় অলস ঘুমিয়ে দেশ উদ্ধারের চিন্তা করা ৷ তারাই ভাবে অনাগত কোন দুরারোগ্য ব্যাধি এসে শিকার করে নেবে তাদের মূল্যবান প্রাণ৷

রেডিও অফিসের ক্যাজুয়াল টাইপিস্ট মনোয়ার সারাদিন খেটেখুটে আড়াই বেলা খেয়ে একচালা ঘরে ফিরে তক্তপোষে নিঃসঙ্গ শুয়ে থাকে বুকে পেটে চারখানা ওষুধবিহীন পোষ্য ব্যাধি নিয়ে৷ দেশ কিংবা যমদুত কোনটাই তাকে ভাবায় না৷ তাকে শুধু ভাবায়, ডাক্তারের কাছে গেলে ওষুধ, পরীক্ষা, পথ্যের যোগাডের পর তাকে দেড়বেলা খেয়ে বাঁচতে হবে৷ অফেরতযোগ্য ধারের সংখ্যাটা বাড়াতে চায় না সে আর৷

মনোয়ার আমাদের আরেকজন পরাজিত বন্ধু৷ মধ্য বয়সে অসম লড়াইয়ে এখনো টিকে আছে৷ ডাক্তারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো ফুকফুক করে সিগারেট খেয়ে যায় লুকিয়ে৷

যদি কেউ বলে - এসব ছাইপাশ টেনে টেনে মরবি নাকি !

সে নির্বিকার হেসে ইংরেজিতে জবাব দেয় - লাইফ ইজ ক্রুশিয়ালি এক্সপেনসিভ !!

Sunday, April 3, 2016

একটি শব্দের জন্য

রফিক আজাদের লাইন৷

আর কোন বিশেষ শব্দের জন্য যার প্রতীক্ষা করতে হবে না৷  আর কোন নারীর জন্য তাঁর জীবন ব্যর্থ হবে না৷

কিন্তু আমাদের বাকী জীবনের অনেক ব্যর্থ প্রহর তাঁর কবিতার লাইনের প্রলেপ দিয়ে কেটে যাবে৷


ট্র্যাশ

মাথার বায়ুচাপ ঝাঁকুনিতে চোখের ঝামেলাটা চুপ মেরে গেছে৷ বড়লোকের আগমনে ছোটলোক যেভাবে ঢাকা পড়ে যায়৷

জানালা পেরিয়ে আসা সভ্যতা

সামনের বহুতল নির্মানাধীন দালানে দড়িতে ঝুলে ঝুলে ব্রাশ ঘুরিয়ে দেয়ালজুড়ে রঙ পালিশ করছে যে শ্রমিক সে কখনো একটা রাত্রিও যাপন করতে পারবে না অমন একটি ঘরে৷

আবার কিছুদিন পর যারা ওই অ্যাপার্টমেন্টের দুগ্ধ ফেনিল কোমল শয্যায় গা এলিয়ে শুয়ে বসে দিন পার করবে তাদের কেউ কখনো এমন দড়িতে ঝুলে ঝুলে জীবন বিপন্ন করে রঙ পালিশের কাজ করবে না৷

System generated civilisation

আমার জানালা দিয়ে আলো বাতাসের সাথে সভ্যতার বিপরীত তামাশার এইসব সাদামাটা অনুল্লেখ্য দৃশ্যগুলো ভেসে আসে৷

Saturday, April 2, 2016

নিষেধ পেরিয়ে

ডাক্তারী নিষেধাজ্ঞায় ল্যাপটপ তালাবদ্ধ৷ ফেসবুক ইন্টারনেট সব দরোজায় তালা৷ বাঁচতে হবে নাকি সবার আগে৷ কদিন চলবে এভাবে জানা নেই৷ ঘুমোতে ঘুমোতে ক্লান্ত৷

কিন্তু আঙুল আর মাথা সচল থাকাতে মোবাইল নোটপ্যাড চুপিসারে পথ দেখায় বিছানায় শুয়ে থেকেই৷

মেইলের টানেল ধরে বার্তাসমূহ সীমানার বাইরে পৌঁছে যায় দারোয়ান চক্ষু এড়িয়ে৷ মেইল-টু-ব্লগস্পট রুট দিয়ে সরাসরি ইন্টারনেট এক্সপ্রেস৷

পরীক্ষামূলক পোস্ট এবং দুনিয়াকে জানিয়ে রাখা- বাপু হে পাপীতাপীদের মরণ অত সহজ নয়৷ কলম চলবে৷

অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা৷ কারখানায় উৎপাদিত ফরমূলা-
notepad>email>blogspot mail>publish

কাঁহাতক আর শুয়ে থাকা যায়! এক লাইন দুই লাইন করে আবারো যাত্রা করা যায়৷