Monday, April 18, 2016
সহানুভুতি বা সমানুভুতি
Saturday, April 16, 2016
আধুনিক গুলিবাজ শব্দেরা
- নৈকট্যজনিত আঘাতের চেয়ে দূরত্বজনিত বেদনা শ্রেয়৷
- সাম্প্রতিক প্রবণতায় দুর্বিনীত আচরণের শব্দগুলো আধুনিক বলে বিবেচিত হলেও কারো কারো জন্য মর্মান্তিক এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে৷ যদি সেই বাক্য শিক্ষিত রুচিশীল মানুষের কাছ থেকে আসে সেটা অনেক বেশী দুঃখজনক৷
- এবং প্রতিদিন কিছু না কিছু সহ্য করতে হয় যদি সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অক্ষুন্ন থাকে৷
নগরে বাস করলে যেমন কিছুটা কার্বন মনো অক্সাইড মেনে নিতে হয় এটাও তেমনি৷
+++++++++++++++++++++++++++
সব ছেড়ে ঠিক একদিন গ্রামে চলে যাবো৷ পশ্চিমের দীঘির পাড়ের নির্জনতায়, শুধুই হাওয়ার মাতন সেখানে৷
Friday, April 15, 2016
বিশ্বাস ও প্রত্যাশা
বিশ্বাসঃ
বিশ্বাস খুব শক্তিশালী ব্যাপার৷ বিশ্বাসকে বিশ্বস্ততার সাথে ধারণ, লালন এবং পালন করতে না পারলে তাকে মুক্তি দেয়া উচিত৷ নইলে নিঃশব্দ অনুতাপ কিংবা গ্লানিবোধ দেহ-মনের স্বাস্থ্যহানি ঘটায়৷
এই বিশ্বাসের ভেতর আত্মবিশ্বাস থেকে শুরু করে ধর্ম বিশ্বাস পর্যন্ত যে কোন ব্যাপার অন্তর্ভূক্ত হতে পারে৷ অবিশ্বাসের জন্যও এটা একইভাবে প্রযোজ্য৷
প্রত্যাশাঃ
প্রত্যাশার ব্যাপারে এর বিপরীত কাজ করতে হয় ৷
বাছাই করো এবং বিয়োগ করো৷
যত কম ততই স্বাস্থ্যকর৷
এমনকি ওই গাছে আগে ফুল ফুটতো এখন কেন ফোটে না বলেও আক্ষেপ করা যাবে না৷
অন্ধ ট্রেন
জীবনটা হলো সেই অন্ধ ট্রেন যার গন্তব্য এবং স্টেশনগুলোর নাম জানি কিন্তু কে কোন স্টেশনে নেমে যাবো জানি না৷
আমরা সবাই সপরিবারে টিকেট কেটে সেই ট্রেনে চড়লেও টিকেট মাস্টার আমাদের কারো গন্তব্য প্রকাশ করেনা৷ তাই পরিবারের বড়ো আগে নামবে নাকি ছোট আগে নেমে যাবে কেউ জানে না৷
এমন অন্ধ ট্রেনেও আমাদের স্বপ্নগুলো থেমে থাকে না৷
Sunday, April 3, 2016
জানালা পেরিয়ে আসা সভ্যতা
সামনের বহুতল নির্মানাধীন দালানে দড়িতে ঝুলে ঝুলে ব্রাশ ঘুরিয়ে দেয়ালজুড়ে রঙ পালিশ করছে যে শ্রমিক সে কখনো একটা রাত্রিও যাপন করতে পারবে না অমন একটি ঘরে৷
আবার কিছুদিন পর যারা ওই অ্যাপার্টমেন্টের দুগ্ধ ফেনিল কোমল শয্যায় গা এলিয়ে শুয়ে বসে দিন পার করবে তাদের কেউ কখনো এমন দড়িতে ঝুলে ঝুলে জীবন বিপন্ন করে রঙ পালিশের কাজ করবে না৷
System generated civilisation
আমার জানালা দিয়ে আলো বাতাসের সাথে সভ্যতার বিপরীত তামাশার এইসব সাদামাটা অনুল্লেখ্য দৃশ্যগুলো ভেসে আসে৷
Sunday, March 20, 2016
মানবিক দুষ্টচক্র
কারো কারো এই চক্র ভাঙ্গার ক্ষমতা থাকে, নিজের ভেতরেই সুপ্ত থাকে চক্র ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার শক্তি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ হয়তো সেই শক্তিকে দেখতে পায় না। কেউ ধন সম্পদের চক্রে ঘোরে, কেউ ক্ষমতার চক্রে ঘোরে, কেউ বা নিরাশার।
মানুষ খুব অসহায় একটা প্রাণী। শ্রেষ্ঠত্বের অবস্থান নিয়েও মানুষ কোথাও কোথাও খুবই হীন। নিজের হীনতাকে না দেখার একটা প্রবণতা সব মানুষের থাকে, কিছু মানুষ থাকে একদমই অন্ধ। চোখ আছে ঠিকই, সেই চোখে নিয়মিত তাকানোর কাজটা করেও, কিছু কিছু ব্যাপার দেখে না। তারা চোখ মেলে তৃতীয় অবস্থানে দাঁড়িয়ে চাইলে নিজের ভুলগুলি সনাক্ত করতে পারে। কিন্তু এক দুর্বিনীত অহংবোধ সেই ভুলগুলোকে সনাক্ত করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে বিনয় থাকতে পারতো, সেখানে থাকে বিনয়ী অহংকার। সুস্থ আত্মাকে ধ্বংস করার পথে বিনয়ী অহংকারের জুড়ি নেই। শ্রেষ্ঠ প্রাণীত্বের অস্তিত্ব নিয়ে আত্মশ্লাঘায় ভোগা মানুষ এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মুক্তি পায় না। চক্র ভাঙ্গার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সে তখন হাতপায়ে বেড়ি নিয়ে নিজের সৃষ্ট যন্ত্রণার জালে আটকে থাকে। মানুষের এই পরিণতিটা মর্মান্তিক।
নিয়তি বিতর্কে দুটো উপাদানকে জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। একটি হলো জন্মগত অবস্থান আরেকটি হলো কর্মযোগ। জন্মগত অবস্থানে মানুষের কোন হাত থাকে না, কিন্তু কর্মযোগ সম্পূর্ণই নিজস্ব সৃষ্টি। মানুষ যে পথ দিয়ে অগ্রসর হয় সেটাকে কর্মযোগের ফলাফল বলা যায়।
ভবিষ্যত একটি রাস্তার নাম, যে রাস্তায় কতগুলো বাঁক আছে, কতগুলো খানাখন্দ আছে আমরা জানি না। কিন্তু আমরা এটা জানি যে বাঁকটা বেশী ঘোরালো হলে সেখানে গতি কমাতে হয়, যদি খানাখন্দ দেখি সেটাকে পাশ কাটিয়ে যেতে হবে। এখন আমি সামনে বাঁক দেখেই যদি গতি না কমাই তাহলে আমার দুর্ঘটনায় পড়ার যে সম্ভাবনা তাকে আমি জন্মদোষে দুষ্ট করতে পারি না। খানাখন্দ দেখেও যদি আমরা তাতে পা বাড়াই তাহলে হোঁচট খাবার জন্য নিয়তিকে দোষী করতে পারি না।
তবে ভিন্ন ঘটনাও ঘটতে পারে। আমি কোন বাঁকে পৌঁছে নিয়ন্ত্রিত গতিতে অগ্রসর হওয়া সত্ত্বেও উল্টোদিকের অনিয়ন্ত্রিত গতির বাহন দ্বারা আক্রান্ত হতে পারি। সেটাকে বলা যায় দুর্ভাগ্য অথবা অনির্ধারিত দুর্ঘটনা।
শেষ করছি ধার করা দুটো লাইন দিয়ে।
মধ্যযুগের সন্ত কবীরের দুটো লাইন পড়লাম জ্যোতির্ময় নন্দীর বাংলা অনুবাদে-
"খারাপ খুঁজতে গিয়ে দেখি, খারাপ মিললো না কেউ,
যেই নিজ মন খুঁজে দেখি, আমার চেয়ে খারাপ না কেউ।"
Sunday, July 6, 2014
সরকারী চাকরী এবং সততা কাহন
সফল রোমান্টিক বাংলা সিনেমার দৃশ্যটা বদলে গিয়ে আর্ট ফিল্মের দিকে যেতে শুরু করলে অখ্যাত এক কোম্পানীর চাকরীর সুযোগ পেয়ে ঢুকে পড়লাম। খাটনি বেশী, বেতন কম হলেও চাকরীটা একটা সিঁড়ি বটে। লেগে থাকলাম। বেশ কবছর পর আবিষ্কার করলাম আমার সাথে যারা সরকারী চাকরীতে ঢুকেছে তাদের চেয়ে আমার বেতন বেশী, কিন্তু তাদের জীবন আমার চেয়ে স্বচ্ছল। ঘটনা কি?
ঘটনা হলো তাদের ঘুষ আছে আমার ঘুষ নেই। আমি আত্মতৃপ্তিতে ভুগতে শুরু করলাম প্রথমবারের মতো। সরকারী চাকরী পাইনি বলে মানুষের কাছে বিবেকের কাছে সৎ থাকতে পারছি। কিন্তু এই সততা কতটুকু খাঁটি? সুযোগ পেলে আমিও কি সরকারী বন্ধুদের মতো ঘুষ খেতাম না? মানুষ কেন ঘুষ খায়, কতটা বাধ্য হয়ে খায় এই ভাবনাটা মাথাচাড়া দিল তখন থেকেই।
বিসিএস পাশ করে ওই চাকরীটা পেলে কি করতাম? যদি সৎ জীবনযাপন করতাম, তাহলে এখন যে বাড়িতে থাকি সেই বাড়ির এক তৃতীয়াংশ ভাড়ায় কোন ঘুপচি গলি বা কলোনীতে থাকতাম। বাচ্চাদের পড়াতাম সরকারী প্রাইমারী কোন স্কুলে। সপ্তাহের ছদিন শাক ভর্তা কচুঘেচু খেতাম, মাসে একদিন মাছ বা মাংস কিনতাম। পরিবারের চিকিৎসার জন্য প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডাক্তারের কাছে যেতাম না। উপহার হাতে কোন আত্মীয় বন্ধুর বিয়ে জন্মদিনে উপস্থিত হতাম না, বছরে একবারো কোথাও বেড়াবার কথা ভাবতাম না।
আজকাল কি সেরকম যাদুকর কোথাও আছে? আমরা যারা সততার সাথে জীবনযাপন করছি বলে দাবী করছি, তার কতখানি সত্যিকারের সৎ, কতটা সুযোগের অভাবে সৎ। আমার ধারণা আমি নিজে সৎ কেননা আমার যা আয় তাতে আমি স্বচ্ছল। যদি আয় সম্পদে স্বচ্ছল না হতাম নিশ্চয়ই আমিও অবৈধ আয়ের চিন্তা করতাম। কে জানে!