Showing posts with label উপলব্ধি. Show all posts
Showing posts with label উপলব্ধি. Show all posts

Monday, April 18, 2016

সহানুভুতি বা সমানুভুতি

বন্ধুর কাছে মুখ ফুটে সহানুভূতি প্রার্থনা করে প্রত্যাখ্যাত হবার দুর্ভাগ্যের তুললনায় ক্ষুধার্ত অবস্থায় প্রত্যাখ্যাত হওয়া ভিখিরির অপমান কমই বলা চলে।

তেমন দুর্ভাগ্য আমার এখনো হয়নি বলে আনন্দিত এবং গর্বিত৷ আমার প্রায় সব বিপর্যয়ে  বন্ধুদের বাড়ানো হাত পেয়েছি৷ না চাইতেও অনেক সময় পাই৷ তাই অনেক অদৃশ্য সংকটে আত্মীয় পরিজনের আগে বন্ধুর কাছে হাত মেলে দেই নির্দ্বিধায়৷ সাহায্য চাইতে গিয়ে কোন বন্ধু মুখের উপর বলে দেয়নি সরি ভুল দরোজায় নক করেছো।

মানুষের জীবনে অদ্ভুত কিছু সমস্যার চাবি বন্ধুর হাতেই থাকে ৷ তাদের দেয়া হালকা মলমে অনেক দুষ্টক্ষত সেরে যেতে পারে৷ তবে যাদের কখনো এরকম বন্ধুতা পাওয়া হয়নি তারা এই নির্ভরতার বিষয়টি বুঝবে না কোনদিন৷ এমন বন্ধুতা অনেক ভাগ্যে পাওয়া হয়৷

একেকটা সময়ে একেক রকম বন্ধুতার প্রয়োজন হয় মানুষের। একই মানুষকে নিয়েও আমরা একেক রকমের চাহিদা মেটাই ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। একটা সময়ে যে হাতপাখার বাতাস খেয়েছি তৃপ্তির সাথে, পুরোনো হয়ে যাবার পর সেটা দিয়েই মাকড়সার ঝুলকালি ঝাড়ি। দুটোই কাজের জিনিস। পার্থক্য হলো যখন হাতপাখা থাকে আমরা যত্নের সাথে বিছানার পাশে রাখি। আর ঝুলের কাজের সময় পরিত্যক্ত করে বারান্দার কোনায় ফেলে রাখি।


তো ......হে অনিশ্চিত নিয়তি, আমি বন্ধু বিষয়ক যে আনন্দ আর গর্ব নিয়ে তৃপ্তির লেখা লিখছি আমার সে আনন্দ সে গর্ব নিঃশেষে চূর্ণ করে দিও না কোন আকালের দিনে৷

Saturday, April 16, 2016

আধুনিক গুলিবাজ শব্দেরা

- নৈকট্যজনিত আঘাতের চেয়ে দূরত্বজনিত বেদনা শ্রেয়৷

- সাম্প্রতিক প্রবণতায় দুর্বিনীত আচরণের শব্দগুলো আধুনিক বলে বিবেচিত হলেও কারো কারো জন্য মর্মান্তিক এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে৷ যদি সেই বাক্য শিক্ষিত রুচিশীল মানুষের কাছ থেকে আসে সেটা অনেক বেশী দুঃখজনক৷

- এবং প্রতিদিন কিছু না কিছু সহ্য করতে হয় যদি সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অক্ষুন্ন থাকে৷
নগরে বাস করলে যেমন কিছুটা কার্বন মনো অক্সাইড মেনে নিতে হয় এটাও তেমনি৷

+++++++++++++++++++++++++++

সব ছেড়ে ঠিক একদিন গ্রামে চলে যাবো৷ পশ্চিমের দীঘির পাড়ের নির্জনতায়, শুধুই হাওয়ার মাতন সেখানে৷

Friday, April 15, 2016

বিশ্বাস ও প্রত্যাশা

বিশ্বাসঃ

বিশ্বাস খুব শক্তিশালী ব্যাপার৷  বিশ্বাসকে বিশ্বস্ততার সাথে ধারণ, লালন এবং পালন করতে না পারলে তাকে মুক্তি দেয়া উচিত৷ নইলে নিঃশব্দ অনুতাপ কিংবা গ্লানিবোধ দেহ-মনের স্বাস্থ্যহানি ঘটায়৷

এই বিশ্বাসের ভেতর আত্মবিশ্বাস থেকে শুরু করে ধর্ম বিশ্বাস পর্যন্ত যে কোন ব্যাপার অন্তর্ভূক্ত হতে পারে৷ অবিশ্বাসের জন্যও এটা একইভাবে প্রযোজ্য৷

প্রত্যাশাঃ

প্রত্যাশার ব্যাপারে এর বিপরীত কাজ করতে হয় ৷

বাছাই করো এবং বিয়োগ করো৷
যত কম ততই স্বাস্থ্যকর৷

এমনকি ওই গাছে আগে ফুল ফুটতো এখন কেন ফোটে না বলেও আক্ষেপ করা যাবে না৷

অন্ধ ট্রেন

জীবনটা হলো সেই অন্ধ ট্রেন যার গন্তব্য এবং স্টেশনগুলোর নাম জানি কিন্তু কে কোন স্টেশনে নেমে যাবো জানি না৷

আমরা সবাই সপরিবারে টিকেট কেটে সেই ট্রেনে চড়লেও টিকেট মাস্টার আমাদের কারো গন্তব্য প্রকাশ করেনা৷ তাই পরিবারের বড়ো আগে নামবে নাকি ছোট আগে নেমে যাবে কেউ জানে না৷

এমন অন্ধ ট্রেনেও আমাদের স্বপ্নগুলো থেমে থাকে না৷

Sunday, April 3, 2016

জানালা পেরিয়ে আসা সভ্যতা

সামনের বহুতল নির্মানাধীন দালানে দড়িতে ঝুলে ঝুলে ব্রাশ ঘুরিয়ে দেয়ালজুড়ে রঙ পালিশ করছে যে শ্রমিক সে কখনো একটা রাত্রিও যাপন করতে পারবে না অমন একটি ঘরে৷

আবার কিছুদিন পর যারা ওই অ্যাপার্টমেন্টের দুগ্ধ ফেনিল কোমল শয্যায় গা এলিয়ে শুয়ে বসে দিন পার করবে তাদের কেউ কখনো এমন দড়িতে ঝুলে ঝুলে জীবন বিপন্ন করে রঙ পালিশের কাজ করবে না৷

System generated civilisation

আমার জানালা দিয়ে আলো বাতাসের সাথে সভ্যতার বিপরীত তামাশার এইসব সাদামাটা অনুল্লেখ্য দৃশ্যগুলো ভেসে আসে৷

Sunday, March 20, 2016

মানবিক দুষ্টচক্র

প্রতিটি মানুষ একেকটি চক্রে আবদ্ধ। যে যার চক্রে জনমভর ঘুরে মরতে থাকে। একেকটা মানুষের চক্র একেক রকম। প্রতিটি চক্রই যেন একেকটি পূর্বনির্ধারিত নিয়তির সৌরজগত। নিয়তি মানে কী? যা থেকে সে বের হতে পারে না? যেখানে তাকে অনিবার্যভাবেই ঘুরতেই হবে চিরকাল?

কারো কারো এই চক্র ভাঙ্গার ক্ষমতা থাকে, নিজের ভেতরেই সুপ্ত থাকে চক্র ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার শক্তি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ হয়তো সেই শক্তিকে দেখতে পায় না। কেউ ধন সম্পদের চক্রে ঘোরে, কেউ ক্ষমতার চক্রে ঘোরে, কেউ বা নিরাশার।

মানুষ খুব অসহায় একটা প্রাণী। শ্রেষ্ঠত্বের অবস্থান নিয়েও মানুষ কোথাও কোথাও খুবই হীন। নিজের হীনতাকে না দেখার একটা প্রবণতা সব মানুষের থাকে, কিছু মানুষ থাকে একদমই অন্ধ। চোখ আছে ঠিকই, সেই চোখে নিয়মিত তাকানোর কাজটা করেও, কিছু কিছু ব্যাপার দেখে না। তারা চোখ মেলে তৃতীয় অবস্থানে দাঁড়িয়ে চাইলে নিজের ভুলগুলি সনাক্ত করতে পারে। কিন্তু এক দুর্বিনীত অহংবোধ সেই ভুলগুলোকে সনাক্ত করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে বিনয় থাকতে পারতো, সেখানে থাকে বিনয়ী অহংকার। সুস্থ আত্মাকে ধ্বংস করার পথে বিনয়ী অহংকারের জুড়ি নেই। শ্রেষ্ঠ প্রাণীত্বের অস্তিত্ব নিয়ে আত্মশ্লাঘায় ভোগা মানুষ এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মুক্তি পায় না। চক্র ভাঙ্গার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সে তখন হাতপায়ে বেড়ি নিয়ে নিজের সৃষ্ট যন্ত্রণার জালে আটকে থাকে। মানুষের এই পরিণতিটা মর্মান্তিক।

অন্যন্য প্রাণীর মতো মানুষের আয়ুও খুব সীমিত। সেই সীমিত আয়ুতেও মানুষের চরিত্রের ক্রমাগত বিবর্তন ঘটতে থাকে। দশক দশক ধরে মানুষ এক রকম থাকে না। বয়স, পরিবেশ, সামাজিক অবস্থান ভেদে মানুষের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। কিছু কিছু পরিবর্তন শুভশক্তির  উত্থান ঘটায়, কিছু কিছু পরিবর্তন অশুভ পথে চালিত করে। এই পরিবর্তনগুলোর যে সমস্ত অনুঘটক সক্রিয় তা সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আবার কিছু কিছু অনুঘটক মানুষ নিজের কর্মফলেই তৈরী করে। উন্নতি বা অবনতি দুই ক্ষেত্রেই এই অনুঘটকের ভূমিকা থাকতে পারে।

নিয়তি বিতর্কে দুটো উপাদানকে জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। একটি হলো জন্মগত অবস্থান আরেকটি হলো কর্মযোগ। জন্মগত অবস্থানে মানুষের কোন হাত থাকে না, কিন্তু কর্মযোগ সম্পূর্ণই নিজস্ব সৃষ্টি। মানুষ যে পথ দিয়ে অগ্রসর হয় সেটাকে কর্মযোগের ফলাফল বলা যায়।

ভবিষ্যত একটি রাস্তার নাম, যে রাস্তায় কতগুলো বাঁক আছে, কতগুলো খানাখন্দ আছে আমরা জানি না। কিন্তু আমরা এটা জানি যে বাঁকটা বেশী ঘোরালো হলে সেখানে গতি কমাতে হয়, যদি খানাখন্দ দেখি সেটাকে পাশ কাটিয়ে যেতে হবে। এখন আমি সামনে বাঁক দেখেই যদি গতি না কমাই তাহলে আমার দুর্ঘটনায় পড়ার যে সম্ভাবনা তাকে আমি জন্মদোষে দুষ্ট করতে পারি না। খানাখন্দ দেখেও যদি আমরা তাতে পা বাড়াই তাহলে হোঁচট খাবার জন্য নিয়তিকে দোষী করতে পারি না।

তবে ভিন্ন ঘটনাও ঘটতে পারে। আমি কোন বাঁকে পৌঁছে নিয়ন্ত্রিত গতিতে অগ্রসর হওয়া সত্ত্বেও উল্টোদিকের অনিয়ন্ত্রিত গতির বাহন দ্বারা আক্রান্ত হতে পারি। সেটাকে বলা যায় দুর্ভাগ্য অথবা অনির্ধারিত দুর্ঘটনা।

ভুল থেকে কোন মানুষই মুক্ত নয়। কিন্তু পুনরাবৃত্ত ভুলকে কী বলা যায় যদি তা নিউটনের প্রথম সুত্রের মতো ঘটতেই থাকে। পদার্থের ব্যাপারে নিউটনের প্রথম সুত্রটিকে মেনে নেয়া গেলেও মানুষের ক্ষেত্রে সেটা মেনে নেয়া কঠিনই। মানুষের শ্রেষ্ঠতা এখানে কিছুটা কম্প্রোমাইজড হয়ে পড়ে। যেসব ক্ষেত্রে এরকম ঘটনা ঘটে সেটাকে দুষ্টচক্র হিসেবে অভিহিত করা যায় ঠিক, কিন্তু মানুষই সেই দুষ্টের বীজ।

শেষ করছি ধার করা দুটো লাইন দিয়ে।
মধ্যযুগের সন্ত কবীরের দুটো লাইন পড়লাম জ্যোতির্ময় নন্দীর বাংলা অনুবাদে-

"খারাপ খুঁজতে গিয়ে দেখি, খারাপ মিললো না কেউ,

যেই নিজ মন খুঁজে দেখি, আমার চেয়ে খারাপ না কেউ।"


আমরা বিশাল সংখ্যক মানুষ এরকম খারাপে পরিপূর্ণ। তবু সাহস করে সত্যটা বলতে পারি না, চেপে রাখি সাধু সাজার বাসনায়। যারা চেপে রাখে না, যারা সত্যটা বলতে পারে তারা কর্মযোগে খারাপ হলেও নিশ্চয়ই সকল ভণ্ডামি থেকে মুক্ত। কিন্তু তাদের সংখ্যা মানব সমাজে এতই ক্ষীণ যে আমাদের দৃষ্টিসীমায় তারা সহজে আসে না।


Sunday, July 6, 2014

সরকারী চাকরী এবং সততা কাহন

ছাত্রজীবনে আমি সরকারী চাকরীর স্বপ্ন দেখতাম। বিসিএস পাশ করে বড় চাকরী করবো সংসারে সুখ সমৃদ্ধি আনবো এরকম একটা পরিকল্পনা মগজে সুন্দর করে সাজানো ছিল। ছাত্রজীবনের পুরোটাই বাবার হোটেলে খেয়েছি, একখানা টিউশানী করে নিজের খরচ নিজে যোগাড় করার গরজ করিনি। সংসার চালাতে মাসে কিরকম খরচ লাগে স্পষ্ট ধারণাও ছিল না। পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমায় দেখা চাকরী পেয়ে মিষ্টির হাঁড়ি আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার একসাথে নিয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্যটাই শুধু ভাসতো। ওই দৃশ্যের পর ঘটনা কোনদিকে গড়াবে সেটা নিয়ে ভাবনা ছিল না।
তখন সরকারী চাকরীর সবচেয়ে ভালো স্কেল ছিল ২৮৫০ টাকা। সব মিলিয়ে ৪৫০০ টাকার মতো পেতো একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা। একই সময়ে বেসরকারী ব্যাংকের প্রথম শ্রেনীর অফিসারের সূচনা বেতন ছিল ৬০০০ টাকা। আমার টার্গেট ছিল সরকারী চাকরী না পেলে ব্যাংকের চাকরীতে ঢুকে যাবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ পরীক্ষা দেবার আগেই বিসিএস দিলাম, কিন্তু সবগুলো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভাইবাতে ফেল। একই সাথে সবচেয়ে ভালো বেসরকারী ব্যাংকে পরীক্ষা দিয়েও চুড়ান্ত পরীক্ষায় গিয়ে ফেল করলাম।

সফল রোমান্টিক বাংলা সিনেমার দৃশ্যটা বদলে গিয়ে আর্ট ফিল্মের দিকে যেতে শুরু করলে অখ্যাত এক কোম্পানীর চাকরীর সুযোগ পেয়ে ঢুকে পড়লাম। খাটনি বেশী, বেতন কম হলেও চাকরীটা একটা সিঁড়ি বটে। লেগে থাকলাম। বেশ কবছর পর আবিষ্কার করলাম আমার সাথে যারা সরকারী চাকরীতে ঢুকেছে তাদের চেয়ে আমার বেতন বেশী, কিন্তু তাদের জীবন আমার চেয়ে স্বচ্ছল। ঘটনা কি?

ঘটনা হলো তাদের ঘুষ আছে আমার ঘুষ নেই। আমি আত্মতৃপ্তিতে ভুগতে শুরু করলাম প্রথমবারের মতো। সরকারী চাকরী পাইনি বলে মানুষের কাছে বিবেকের কাছে সৎ থাকতে পারছি। কিন্তু এই সততা কতটুকু খাঁটি? সুযোগ পেলে আমিও কি সরকারী বন্ধুদের মতো ঘুষ খেতাম না? মানুষ কেন ঘুষ খায়, কতটা বাধ্য হয়ে খায় এই ভাবনাটা মাথাচাড়া দিল তখন থেকেই।
আমার আয় রোজগার বাংলাদেশে গড়পড়তা মধ্যবিত্তের চেয়ে ভালো। যে বাড়িতে ভাড়া থাকি সেটা একজন প্রথম শ্রেনীর সরকারী কর্মকর্তার বেতনের সমান বলা চলে। বাড়ি ভাড়ার তিনগুন সংসারের অন্যন্য খরচপাতি। জমার খাতা প্রায় শূন্য। তবু সরকারী চাকরীর চেয়ে ভালো আছি না?

বিসিএস পাশ করে ওই চাকরীটা পেলে কি করতাম? যদি সৎ জীবনযাপন করতাম, তাহলে  এখন যে বাড়িতে থাকি সেই বাড়ির এক তৃতীয়াংশ ভাড়ায় কোন ঘুপচি গলি বা কলোনীতে থাকতাম। বাচ্চাদের পড়াতাম সরকারী প্রাইমারী কোন স্কুলে। সপ্তাহের ছদিন শাক ভর্তা কচুঘেচু খেতাম, মাসে একদিন মাছ বা মাংস কিনতাম। পরিবারের চিকিৎসার জন্য প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডাক্তারের কাছে যেতাম না। উপহার হাতে কোন আত্মীয় বন্ধুর বিয়ে জন্মদিনে উপস্থিত হতাম না, বছরে একবারো কোথাও বেড়াবার কথা ভাবতাম না।
কিন্তু পৃথিবীতে ওই জীবন কে চায়। হাতের কাছে আলগা কামাইয়ের সুযোগ রেখে কে আর দীনহীন জীবনযাপন করে? আমি নিশ্চয়ই ঘুষ খেতে শুরু করতাম। পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বাঁচতে হবে এই চিন্তায় আমি ডানহাত বামহাত সব হাতে টাকার বস্তা কুড়াতাম। ঘুষ খাওয়াকে তখন হালাল মনে হতো আমার। তাহলে সৎ সরকারী কর্মকর্তা কি সোনার পাথরবাটি?
জানি না। 

কিন্তু আমি সৎ সরকারী কর্মকর্তা একদম দেখিনি তা নয়। আমার বড়মামা ছিলেন সেরকম একজন মানুষ। কাস্টমসের কর্তা হিসেবে তিনি আজীবন চাকরী করে একদম নিঃস্ব হয়ে মারা গেছেন। তাঁর জীবনযাত্রা ছিল এরকম। ৬ ছেলেমেয়েসহ ৮ জনের সংসার। সরকারী বাসায় থাকতেন। একটা বসার, একটা শোবার, একটা খাবার ঘর। খাবার ঘরটা আসলে বারান্দামতন একটা জায়গা। আর সামনের দিকে ছিল একটা ব্যালকনি, সেই ব্যালকনিতে কাঠের চৌকি বিছিয়ে একটা ঘরের আদল দেয়া হয়েছিল। এতগুলো মানুষ নিয়ে এই ঘরে তিনি ৩০ বছর কাটিয়েছেন অবসর নেবার আগ পর্যন্ত। অফিস ছিল কাছেই। হেঁটে আসা যাওয়া করতেন। ছেলেমেয়েদের স্কুল ছিল কলোনীর ভেতরেই, ওরাও হেঁটে আসা যাওয়া করতো। দোকান বাজার ছিল কাছেই। সরকারী হাসপাতাল ছিল কলোনীতেই। সবার সব চিকিৎসা ওখানেই। তবু মামার বাসায় গেলে মনে হতো না মামার অভাবের সংসার। সামান্য দিয়ে, সাধারন জীবনযাপন করে মামা খুশী। মামার বাসায় ছিল শুধু বইয়ের ঘ্রান। সবাই পড়ছে। এই বই সেই বই আউট বই। হ্যাঁ পড়াশোনা ছাড়া মামার আর কোন চাহিদা ছিল না। ছেলেমেয়েরা সেই আশা পুরণ করেছে। সবাই উচ্চশিক্ষিত হয়েছে নিজ যোগ্যতায়। সেই আমলে টাকার দাম ছিল। ৫ টাকা দিয়েও বাজার করা যেত। তবু দেড় হাজার টাকায় মামা ওই সংসারটা কিভাবে চালিয়েছিলেন সেটা ভাবলে মামাকে বড় একজন যাদুকর মনে হয়। সেই যাদুতেই বড় মামার সব ছেলেমেয়ে উচ্চশিক্ষিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সবার চেয়ে ভালো আছে।

আজকাল কি সেরকম যাদুকর কোথাও আছে? আমরা যারা সততার সাথে জীবনযাপন করছি বলে দাবী করছি, তার কতখানি সত্যিকারের সৎ, কতটা সুযোগের অভাবে সৎ। আমার ধারণা আমি নিজে সৎ কেননা আমার যা আয় তাতে আমি স্বচ্ছল। যদি  আয় সম্পদে স্বচ্ছল না হতাম নিশ্চয়ই আমিও অবৈধ আয়ের চিন্তা করতাম। কে জানে! 

Sunday, August 26, 2012

প্রতীক্ষা পীড়িত প্রশ্ন

একটা প্রশ্ন তার উত্তরের খোঁজে বিশ বছর পথ পরিভ্রমণ করেছে। প্রশ্নটা ছিল সহজ, উত্তরও ছিল বোধগম্য। তবু দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কেটে গিয়েছে নৈঃশব্দের মধ্যে। শব্দেরা কেঁদে মরেছে উত্তরদাতার অন্তরালে। প্রশ্নটা যে উপেক্ষিত হয়নি জানা গেল দুই দশক পর। উত্তরের কক্ষে গিয়ে সে ঠায় বসেছিল অভিমান বুকে নিয়ে। একই কক্ষে প্রশ্ন আর উত্তর দুজনেই চুপ করে বসে ছিল, কেউ কারো দিকে চোখ তুলেও তাকায়নি অভিমানে। প্রশ্নটা চোখ মেললে দেখতে পেতো উত্তরটা নীরবে চোখের জল ফেলছে। উত্তরটা তাকিয়ে দেখলে বুঝতে প্রশ্ন কি চায়? চোখের জলের কোন ভাষা আছে? যদি থাকে তবে তাৎক্ষণিক উত্তর নিয়ে ফিরে আসতে পারতো প্রশ্নকর্তার কাছে। কিন্তু উত্তর নেই ভেবে প্রশ্নটা আর ফেরেনি কর্তার কাছে। দুই দশক ঝুলে ছিল ঝুলহীন বারান্দায়। কতটা দহন কেবল দুজনেই জানে। আর কেউ জানে না। আর কোন সমীকরণের সম্ভাবনা নেই তবু মঙ্গলবার্তা ছুটে যায় পূব থেকে পশ্চিমে, পশ্চিম থেকে পূবে। আকাশের ওপারে আকাশে, বাতাসের ওপারে বাতাসে।