রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ কবিতাটি মৃত্যুশয্যায় লেখা। নিজের হাতে লেখার মতো অবস্থা ছিল না। তিনি মুখে মুখে বলেছেন, তার পাশে বসা সহকারী রানী চন্দ সেটা নোট করেছেন। ১৯৪১ সালের ৩০ জুলাই সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে কবিতাটি রচিত হয়। রবীন্দ্রনাথ তখন মারাত্মক অসুস্থ এবং ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর একটি বড় অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও দুর্বলতার কারণে কবি নিজে হাতে লিখতে পারছিলেন না। তিনি শয্যাশায়ী অবস্থায় মুখে মুখে কবিতার চরণগুলো বলতে থাকেন এবং তাঁর পাশে বসে থাকা রানী চন্দ তা কাগজে লিখে নেন। কবিতাটি বলা শেষ হলে রানী চন্দ তা কবিকে পড়ে শোনান এবং কবি শুনে সংশোধন ও অনুমোদন দেন। এর মাত্র দুই ঘণ্টা পর কবির অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তিনি আর সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি এবং সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। এর ঠিক সাত দিন পর ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ) তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কবিতাটির অন্তর্নিহিত দর্শনটা কি বোঝা যায়? এই ছলনাময়ী কে?
বিচিত্র ছলনাজালে,
হে ছলনাময়ী।
মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে
সরল জীবনে।
এই প্রবঞ্চনা দিয়ে মহত্ত্বকে চিহ্নিত করেছ,
তার তরে রাখো নি গোপন রাত্রি।
তোমার জ্যোতিষ্ক
যে পথ দেখায়
সে যে তার অন্তরের পথ,
সে যে সহজ সরল,
অনায়াসে তারে সত্য করে
কুটিলতার অগোচরে।
বাহিরে সে কুটিল বটে,
অন্তরে সে সরল—
এই নিয়ে তার গৌরব।
লোকে তারে বলে প্রবঞ্চিত।
সত্যেরে সে পায়
আপন আলোতে ধৌত অন্তরে অন্তরে।
কিছুতে পারে না তারে প্রবঞ্চিতে,
শেষ পুরস্কার নিয়ে যায় সে যে
আপনার ভাণ্ডারে।
অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে
সে পায় তোমার হাতে
শান্তির অক্ষয় অধিকার।
No comments:
Post a Comment