Friday, September 18, 2026

টাইগারপাস- নিরপেক্ষ মতের পাঠক

'টাইগারপাস' নিয়ে আমার একটা সংশয় ছিল। জীবনের প্রথম উপন্যাস। কথা ছিল একটিমাত্র উপন্যাসই লিখবো। কিন্তু পরে আরো একটি হয়ে গেছে। সেকথা থাক। এই প্রথম উপন্যাসটা লিখতে আমার দীর্ঘ সময় লেগে গিয়েছে। শখ করে লিখেছি মনের মাধুরী মিশিয়ে। অনেকটা আড্ডার ছলে। গল্পের মধ্যে ইতিহাসের পুর দিয়ে। কোথায় কিভাবে শেষ হবে কিছুই জানা ছিল না। চরিত্রগুলোকে মুক্ত করে দিয়েছি যেদিকে খুশি চলে যাক। প্রায় এক যুগ পর যখন কাজটা শেষ হলো তখন আমি উপন্যাসটার প্রতি গভীর অনুরাগ অনুভব করলাম। অনেকটা প্রথম প্রেমের অনুভূতি। এমন একটা ভালোলাগা আগে কখনো কাজ করেনি। আমি সাহিত্যিক নই। ইতিহাসের মতো রসকসহীন বিষয় নিয়ে কাজ করি। উপন্যাস লিখতে যতটা মুন্সিয়ানা দরকার, আমার সেসব কিছু নেই। এই উপন্যাস কারো ভালো লাগবে কিনা সন্দেহ আছে। পাঠকের কাছ থেকে কিরকম সাড়া মিলবে বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু ঈদসংখ্যায় প্রকাশের পর অনেক পাঠক জানালো ভালো লেগেছে। সম্পাদকও একই কথা বললেন। তারপর সিদ্ধান্ত নিলাম গ্রন্থাকারে প্রকাশ করবো। আগ্রহী প্রকাশকও আছে। প্রকাশের পর প্রথম দুমাসে অর্ধেক বই বিক্রি হয়ে গেল শুনে দুশ্চিন্তার ভার নেমে গেল। আশা করা যায় সবগুলো শেষ হয়ে যাবে আগামী এক বছরের মধ্যে। এখন গত ছমাসের মূল্যায়ন দেখি। দেখা যাচ্ছে যারা বোদ্ধা পাঠক, খুব উঁচু মানের বইপত্র পড়েন, তাদের কাছে বইটা তেমন আশা জাগায়নি। হালকা চালে পড়ে শেষ করেছেন। তাদের ক্ষেত্রে এমন লাগাটাই স্বাভাবিক। তাই অবাক হইনি। কিন্তু আরেকটা বড় অংশ যাদেরকে সাধারণ পাঠক বলা যায়, তারা বইটা নিয়ে খুব উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। এত বেশি যে অনেকে আমাকে ফোন করে তাদের ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। ইনবক্সের মেসেজে ভরিয়ে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে দেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিকও আছেন। আমি খুব অবাক হয়ে গেছি। এতটা আমার প্রত্যাশা ছিল না কোনোদিন। আমার এক পরিচিত সাহিত্যিকের কাছে বইয়ের রিভিউগুলো দিয়ে মতামত জানতে চেয়েছিলাম। তিনি বলেছেন, তিনি খুব মনোযোগ সহকারে বইটা পড়েছেন। তার কাছে বইটা খুব ভালো লেগেছে। তার ধারণা বইটা যারা তাড়াহুড়া না করে আস্তে ধীরে পড়বেন তাদের সবাইকে স্পর্শ করবে। এটা আবেগ সর্বস্ব বই। যে গল্পটা লেখা হয়েছে সেটার ভেতরে গভীর একটা আবেগজনিত ব্যাপার আছে। যাদের ভেতরে সেই আবেগের উপস্থিতি আছে, তাদের সবাই বইটার আবেগে একাত্মতা অনুভব করবেন। যারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে তারা সেই দলের মানুষ। আবার যারা ক্রিটিক্যাল উপন্যাস পড়ে অভ্যস্ত, যারা সাহিত্যের মধ্যে নতুন কিছু আশা করেন তাদের কাছে এই বই তেমন ভালো লাগবে না। কারণ এই সাদামাটা গল্প তাদের খোরাক নয়। তবে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন বইটা উচ্চমানের কোনো সাহিত্যকর্ম হয়নি ঠিক, তবু এটা তাকে খুব গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। চরিত্রগুলোর পরিণতি তাঁকে নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আবেগে ভেসেছেন। যারা আনন্দ বেদনার স্পর্শ নেবার জন্য সাহিত্যপাঠ করেন, তিন তাদের জন্য বইটা সুপারিশ করবেন। সাথে তিনি আরো যোগ করেছেন হয়তো তিনি চট্টগ্রামে বেড়ে উঠেছেন বলে এই পক্ষপাতিত্ব।

টাইগারপাস প্রকাশের এক বছরও পূর্ণ হয়নি এখনো। আমাকে আরো পাঠকের মতামত পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আরো দূরের কোনো পাঠক। আমাকে যিনি চেনেন না। কিছু না জেনেই বইটা কিনেছেন। তার মতামত নিশ্চয়ই আরো পক্ষপাতহীন হবে।

No comments: