Tuesday, September 8, 2026

আমার প্রথম বই- জর্জ আর. সিমসের স্মৃতি থেকে

 "আমার প্রথম বইটি যখন প্রকাশিত হয়, তখনও আমি শহরের সেই চাকুরিজীবন ছাড়িনি। তখন নিয়ম করে সকাল নয়টায় অফিসে গিয়ে সন্ধ্যা ছয়টায় বের হতাম। তবে মাঝখানে এক ঘণ্টার একটা দুপুরের খাবারের বিরতি থাকত। সেই এক ঘণ্টার বিরতিতেই ছোটগল্প কিংবা মাথায় আসা মজার সব ছোটখাটো লেখা লিখে ফেলতাম; আর সেগুলো বড় খামে ভরে বিভিন্ন ম্যাগাজিনে পাঠাতাম। ওভাবে প্রায় বিশটির মতো লেখা পাঠিয়েছিলাম, তার মধ্যে একটাও গ্রহণ করা হয়নি, তবে বেশ কয়েকটি সসম্মানে ফেরত এসেছিল!

অফিসের সেই এক ঘণ্টার দুপুরের খাবারের বিরতিতেই আমি আমার প্রথম বইটি লিখেছিলাম। এইমাত্র সেটা খুঁজে পেলাম.......এই যে তার প্রচ্ছদ! আপনারা লক্ষ করবেন যে এতে আমার একটা প্রতিকৃতিও আছে। ছবিতে আমাকে বেশ অসুস্থ, কৃশ আর কঙ্কালসার দেখাচ্ছে। সাহিত্যচর্চায় নিজেকে সঁপে দেওয়ার চক্করে দুপুরের খাবার না খাওয়ার ফলই হয়তো এটি!

আপনি যদি সেই বইটার ভেতরের পাতায় একবার নজর বোলাতে পারতেন, আর যে বাজে কাগজে বইটি ছাপা হয়েছিল তা স্বচক্ষে দেখতে পেতেন....তবে আমার হাতে ওটা তুলে দিয়ে যখন বলা হয়েছিল, ‘এই নিন আপনার প্রথম সন্তান,’ তখন আমার বুকে যে কী তীব্র আঘাত লেগেছিল তা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারতেন!

আমার ভেতরের সমস্ত অহংকার (আর লোকমুখে শুনি, আমার নাকি তা বেশ ভালোই আছে!) এক লহমায় ধুলোয় মিশে গেল, যখন প্রচ্ছদে আঁকা সেই দুমড়েমুচড়ে যাওয়া কঙ্কালসার লোকটার দিকে তাকালাম.......যে লোকটার চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল, তাঁর এখনই কোনো সৎকার সমিতির সদস্যপদ নিয়ে নেওয়া উচিত!

তা-ও হয়তো গায়ে মাখতাম না, কিন্তু বাঁধ সাধল বই কেনা পাঠকেরা......তারা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে চিঠি লিখে অভিযোগ জানাতে শুরু করল! এক ভদ্রলোক তো পোস্টকার্ড পাঠিয়ে লিখলেন, বইটি কিনে বাড়ি ফেরার পথেই নাকি তা টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে গেছে! আরেকজন নিশ্চিত করলেন যে, বইটির পাতা থেকে তিনি নাকি এত পরিমাণ খড় কুড়িয়ে পেয়েছেন যা দিয়ে অনায়াসে তাঁর ঘোড়ার জন্য একটা তোশক বানিয়ে ফেলা যায়! আর তৃতীয় একজন তো ডাক-মাশুল না দিয়েই বইটি আমাকে ফেরত পাঠালেন এবং বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করলেন....আমি যেন ওটা দয়া করে আমার ডাস্টবিনে ফেলে দিই; কারণ তাঁর বাড়ির পেছনের বাগানে যে ডাস্টবিনটা আছে, তা নিয়ে তাঁর রাঁধুনির নাকি বেশ অহংকার রয়েছে!"

[জর্জ আর. সিমস]