Saturday, December 31, 2011

বছর শেষের কথকতা

আরেকটি বছর কি গেল আজ? ক্যালেন্ডারের হিসেবে তাই।

আমি আজ থেকে বছরের হিসেব বাদ দিয়ে দশকের খাতা উল্টালাম। আরো এক দশক কি গেল? নাকি দুই? আমি কি সময় খাতার দ্বিতীয় দশকে পৌঁছালাম? দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ পঞ্চম আমার দশক কোনটি নয়। আমি তোমাকে কতোকাল ধরে চিনি? আমি সময় ক্যালেন্ডারে তোমাকে চিনি না। আমি তোমাকে চিনি হৃদয় ক্যালেন্ডারে।

আমি তোমাকে জনম জনম ধরে খুঁজে যাই এখানে ওখানে সবখানে। আমি তোমাকে খুঁজে পাই না যুক্তি দিয়ে খুঁজি বলে। হৃদয় দিয়ে খুঁজতে আমি ভুলে গেছি ওটা অকেজো হয়ে গেছে বলে।

আমি কি তোমাকে মুক্তি দিয়েছিলাম? না। তোমার মুক্তি হয়েছে আলোয় আলোয়। তোমার মুক্তি আলোর ভীড়ে হারাতে ভালোবাসে। আমার যুক্তি তখন মিলায় বাতাসে। মুক্তি নিয়ে কোথায় হারালে তুমি? অসীম আকাশে মুক্তির গান বাজে দেশ মানচিত্রের সীমানা ছাড়িয়ে।

আমার কাছে তো দেশ মানে এক লোকের পাশে অন্য লোক। তবু আমি তোমাকেই ভালোবাসি - আমার দুঃখিনী বাংলাদেশ।

Wednesday, December 28, 2011

বনলতার অসুখ

স্বার্থপরতার অলিগলি পেরিয়ে শীত কুয়াশার বেড়াজাল এড়িয়ে শেষরাতের স্বপ্নে ভেসে এলো- কাঁপানো জ্বর নিয়ে এলোচুলে বিছানায় শুয়ে বনলতার শরীর।

এত ছোট্ট স্বপ্ন আমি আর কখনোই দেখিনি।

Monday, December 26, 2011

ফেরার

বললো না, থেকে যাও।
যাবার ইচ্ছে না থাকলেও চলে যেতে হলো।

বললো না, ফিরে এসো
ফেরার ইচ্ছে থাকলেও ফেরা হবেনা হয়তো।

বললো না, জেগে থেকো
ঘুমোনোর সময় না হলেও ঘুমিয়ে পড়তে হলো তাই।

আকাশ নেমে গেল ঢেউ ভাঙা নিঃসঙ্গ সৈকতে।
বলো, এখন তো দিন শেষ, তুমি ফেরার হও।

Monday, December 19, 2011

!!!!!

অচিন দেশ ডাকছে।

যেতে হবেই

যাবার আগে বলে যাবার নিয়ম?

 

নাহ!

 

বলে কয়ে যাওয়া বিব্রতকর

অপ্রস্তুত চলে যাওয়াই ঢের ভালো।

 

প্রস্তুত থেকো

মাঝপথে নেমে যেতে হবে ট্রেন থেকে।

Thursday, December 15, 2011

[ব] ন কবিতা

যখন কিছু লিখতে ইচ্ছে করে, কিন্তু মাথার ভেতরে কোন বাক্য কাজ করে না সেরকম দুঃসময়ে যেসব এলোমেলো বাক্য পয়দা হয় তাকে কোবতে বলে ভুল হতে পারে। যেমন-

বেহিসেবি কথা বলার একজন বন্ধু দরকার
বেয়াড়া সময় কাটানোর একটা জীবন
বেসামাল হারিয়ে যাবার একটা অরণ্য আর
বেহুদা লেখালেখি করার একটা খাতা
পাইনি পাইনি করে সব পাওয়া হয়ে গেলে

একদিন- বন্ধু এসে জানালো
এইসব পাগলামিতে কোন প্রেম নেই,
এর সবকিছুই অসুস্থতার লক্ষণ!

তারপর থেকে আমি হাসপাতালে বন্দী,
আর তুমি মুক্ত বিহঙ্গ।

http://www.amrabondhu.com/neer/2518

[ব] ওপেনসোর্স ভালোবাসা

পাসওয়ার্ড ছাড়াই অবাক লগ ইন করলাম তোমার জীবনে-
ঠিক করে বলোতো,
এই উন্মুক্ত দ্বার কি কেবল আমারই জন্য?
নাকি সকল হ্যাকার পুরুষের জন্য!

ভেবেছি তুমি এক ওপেন সোর্স ভালোবাসা-
তাই ডিজিটালি আমি কেবল তোমাকেই চেয়েছি

...............................................................

এরর মেসেজ....ওরা বলছে ৫০ শব্দের কমে কোন অনুভুতি প্রকাশ নিষিদ্ধ।
...............................................................

তবে দীর্ঘসময় লগ ইন করেও তোমার মনের ভেতরে কোন ডাটা খুঁজে পাচ্ছি না।
জানি না কোথায় লুকিয়ে রেখেছো তোমার সোর্স কোড।

জানো কি তুমি, সোর্স কোড ছাড়া কতোকাল আমি তোমার প্রেমে এরকম মুগ্ধ থাকবো

http://www.amrabondhu.com/neer/1485

[০০০০০০]............উড়ো হাওয়া

.........................
................
...........................
....................!!!!

[ব] ন কবিতা

১.
তোমাকে দেখি আর নিজেকে দারুন উচ্ছৃংখল লাগে
তোমাকে দেখি আর নিজেকে বড় অপাংক্তেয় লাগে

আমাকে উচ্ছৃংখল রেখে তুমি
দু'পায়ে আলতা মেখে হাঁটছো ওই সংসারে

ভরাডুবি চাঁদটাকে আজ বিষ জ্যোৎস্নায় চুবিয়ে
খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে
http://www.amrabondhu.com/neer/1043


২.
সেই যে তুমি
মাঝে মাঝেই দেখা পাই তোমার
যতক্ষণ থাকো সমস্ত জুড়েই থাকো
মগজের আনাচে কানাচে তখন কেবলই তোমার অস্তিত্ব
যখনই আসো
আমাকে আষ্ট্রেপৃষ্টে জড়িয়ে রাখো দিনরাত
কতোরাত নির্ঘুম কেটেছে তোমাকে পেয়ে
কত ভোর হয়েছে দুপুর........

একবার এলেই,
সহজে যেতে চাওনা তুমি আমাকে ছেড়ে

বলতো তুমি কে
তুমি কি সেই স্মৃতিময় ... ... ... ন?

http://www.amrabondhu.com/neer/1796

[ব] ন কবিতা

১.
বন্ধু তুমি কথা দাও
আমাকে আর কখনো খুঁজবে না।

বন্ধু তুমি জানবে না-
এবার যেখানে যাবো
সেখান থেকে কেউ ফিরে আসে না।

http://www.amrabondhu.com/neer/1083

[ব] সুরঞ্জনা

সুরঞ্জনা,
তোমাকে কখনো বলিনি ওই যুবকের পানে যেও না।
তাই বলে চলে যাবে যার সাথে নেই কোন জানা শোনা?

সুরঞ্জনা,
তোমাকে আজকাল নিয়মিত দেখছি না।
আছি আমি ঘরে-বাইরে রাস্তায় হাটে মাঠে ঘাটে
তোমাকে খুঁজছি সবখানে- কোথাও পাচ্ছি না।

সুরঞ্জনা,
তোমাকে কতবার বলেছি আমাকে ছেড়ে দুরে যেও না।
তবু তুমি দুরে যাও- দুর থেকে দুরে চলে যাও
আবার ফিরবে কিনা সে ভাবনায় রাত্রে আমার ঘুম আসে না।

সুরঞ্জনা,
হঠাৎ করে অচেনা কোন যুবকের হাত ধরো না।
সব পারলেও এটা কখনো সহ্য করতে পারবো না।

সুরঞ্জনা,
যেখানে আমি থাকি না সেখানে আর কখনো যেও না
কোন একদিন হয়তো ফিরতি ট্রেনের টিকেট পাবে না।

(এটা কিন্তু কোন কবিতা না, তবু কি পাইরেসির দোষে শাস্তি হবে জেল অথবা জরিমানা)
http://www.amrabondhu.com/neer/1134

[ব] ন কবিতা

১.
তোমার সকল উপেক্ষা
যেন আমারেই লক্ষ্য করে।

ঠিক যেমন তোমার প্রতীক্ষা
আমাকে লক্ষ্য করে না।
http://www.amrabondhu.com/neer/656

২.
হে অচেনা, আমি তোমাকে একটুও মিস করি না।
তবু অচেনা কোন নম্বর থেকে মিস কল এলে
ব্যাকুল হয়ে দেখি এটা সেই অজানা নাম্বার কিনা।
নেটের কসম আমি তোমাকে কখনোই মিস করি না।
http://www.amrabondhu.com/neer/309

[ব] অতঃপর একদিন

তুমি নির্জন ছিলে না, আবার জনারণ্যেও ছিলে না। চুপকথার এক বিষন্ন নগরীতে ছিল বসবাস। আমি গলি পথে সেই নগরীতে হাঁটতে গিয়ে মুখোমুখি হই তোমার। বিষন্ন নগরীতে বসবাস করলেও আমি কোন বিষন্নতা দেখিনি তোমার চোখে মুখে। তুমি ছিলে উচ্ছল ফুলেল তারুণ্যে ভরপুর অপূর্ব এক সত্তা।

তোমার সংস্পর্শে আমি পবিত্র হলাম, আমি আকাশে চোখ মেললাম, মেঘেদের আনাগোনা দেখলাম, আর ভেসে গেলাম অবাক আনন্দে। আমি ভাসলাম, বাসলাম এবং তোমাকেও ভাসালাম। আমাদের আনন্দমেলায় কোন ছেদ ছিল না।

রাত্রির আকাশ যখন অজস্র নক্ষত্র মাথায় নিয়ে পুব থেকে পশ্চিম ছুটে যায়, আমি সেই আঁধারে মিশে যাই। যখন রাতের শেষ তারাটা নিভে ভোরের আভা ফুটে ওঠে, আমি নতুন দিনের আশ্বাস পাই। তবু সেই বিমুগ্ধ ভোরে বসেও আমি রাতের নক্ষত্রদের কথা ভুলি না। তাই আমার সকল অপ্রকাশিত আনন্দ বেদনার গল্পগুলো স্বচ্ছন্দে বেরিয়ে চলে যায় তোমার কাছে। তুমি তাদের আগলে রাখো পরম মমতায়।

একদিন আমি তোমার মমতার মধ্যে প্রেমের সন্ধান পাই এবং অবধারিতভাবে সিক্ত হই অনুপম এক ভালোবাসায়।

অতঃপর .....অতঃপর....... একদিন সবকিছুই স্মৃতির অস্পষ্টতায় তলিয়ে যায়।

http://www.amrabondhu.com/neer/166

Wednesday, December 14, 2011

মৃত পদাবলী

১.
মৃত সমাধির উপর দাঁড়িয়ে
মদির কামনায় জেগেছে এক প্রাচীন শরীর
ক্ষয়ে যাওয়া অস্ফূট শব্দাবলী পাখনা মেলেছে দূর দিগন্তের মোহে।

২.
কোন কোন প্রেম শরীরবিহীন,
কোন কোন প্রেম শরীর সর্বস্ব
আবার কোন কোন শরীর প্রগাঢ় প্রেমহীন
প্রেমময় শরীরের চেয়ে সৌকর্যময় বস্তু জগতে আছে কি?

৩.
অবশেষে জানি
দেহ নয়, প্রেম নয়, মোহ নয়
অনাদি কালের এক বিস্ময়কর অনুভুতি কোথাও জেগে রয়
স্মৃতিভস্মের আড়ালে।

Saturday, December 10, 2011

বিমূঢ়

উপস্থিতির বিড়ম্বনা এড়াতে তুমি অনিশ্চিত দূরত্বে। সেই দুরতিক্রম্য দুরত্ব বালির ভেতরে লুকোনো নোনাজলের অগাধ খনি লুকিয়ে রেখে অকারণ উল্লাসে তাতিয়ে তোলো।
গলে যায় বরফ, গলেনা বহুকাল আগে জ্বালানো শিয়রের মোমদানি। বস্তুকান্ড বোতলভুতের আছর হয়ে মিলিয়ে যায় পৃথিবীর তিন ভাগ জলে। তীরে দাঁড়ানো আমি আছড়ানো ঢেউয়ের ভাষা বুঝতে না পেরে মূঢ় হয়ে থাকি।

[০০০০০] অসমাপ্ত.........

অকিঞ্চিত

Tuesday, December 6, 2011

আলোর ছোঁয়া

আলো ছুঁয়ে ফিরে আসো তুমি, আলো দাও দুচোখের পাতায়।

তোমার ছোট্ট প্রাণ, করে আনচান, এই মাটি ছুঁয়ে নাও তুমি পৃথিবীর ঘ্রান।

তোমার চোখে সমুদ্র, আমার পৃথিবী ভাসায়, দিন শেষে ঘরে ফিরে, তোমাকেই খুঁজে পাই।

সুখের মতো ব্যাথা যখন বুকের ভেতর বাজে, আমি জেনে যাই, আছো তুমি আমার সকল অস্তিত্বে।

তুমিই প্রথমা, তুমিই অন্ধকার সরালে।

Thursday, December 1, 2011

চট্টগ্রাম: অতীতস্য অতীত

আমি এখন ঠিক যেখানে বসে কীবোর্ডে আঙুল চালাচ্ছি সেই জায়গাটা ১০০ বছর আগে কেমন ছিল? এই জায়গাটা তখন সমুদ্রের তীরভাগ। বঙ্গোপসাগরের ঢেউ এখানে এসে ভেঙ্গে পড়তো। ভাটার সময় হাঁটুপানি, জোয়ারে জলোচ্ছ্বাস প্রায়। এখান থেকে সোজা পূর্বদিকে তাকালে সবুজের পর সবুজ পেরিয়ে দিগন্তে দৃষ্টিটা যেখানে থেমে যাবে সেখানে পাহাড়ের আভাস। সেই পাহাড়ে শ্বেতাঙ্গ মানুষের বসতি আছে লাল ইটের দালানে। পাহাড়ের পাদদেশে যে সবুজ জঙ্গল দেখা যাচ্ছে তা কোন আদিম জঙ্গল নয়, মানুষের ঘরবসতির ফলমুলের গাছ বন। চট্টগ্রাম তখনো অবিভক্ত ভারতের একটা শহর। সূর্যসেনরা তখনো বালক। বৃটিশদের শোষনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে যাচ্ছে ভারতবাসী। ১০০ বছর আগের চট্টগ্রাম উপনিবেশ ছাড়া আর কিছু নয়।

কিন্তু ১০০০ বছর আগে এই জায়গায় কি ছিল? সেই ইতিহাস কোথাও লিখে যায়নি কেউ। এই জায়গার নাম তখনো চট্টগ্রাম হয়নি। এমনকি সাদকাওয়ানও না। চিৎউতগং তো আরো কয়েকশো বছর পরের ঘটনা। এই জায়গাটা তখন সমুদ্রের অংশ। দেশটা বঙ্গদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়নি তখনো। লক্ষণ সেনের প্রপিতামহের জন্মও হয়নি বঙ্গদেশে। অসভ্য জংলীদের বসবাস ছিল তাও বলা যায় না। চাকমা মার্মা কিংবা অন্য কোন আদিবাসী পার্বত্য অঞ্চলে বসতি গাড়েনি তখনো। কিন্তু আরব বণিকেরা এই দিকে চলে এসেছিল নতুন সম্ভাবনার সন্ধানে। কিছু বণিক সবুজ প্রকৃতিতে মুগ্ধ হয়ে বসতি গড়ে তুলেছিল স্থায়ীভাবেই। উষর মরুর উত্তাপ থেকে সবুজের স্নিগ্ধতা দান করে গেল তার উত্তরপুরুষকে। বখতিয়ার খিলজি এদেশে আসবে আরো দুশো বছর পরে। এবার প্রকৃতিটা কল্পনা করা যাক। পতেঙ্গা থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত সমতল এলাকা ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ন। নৌকা থেকে কেউ কর্নফুলী তীরে নামলে তাকে জঙ্গল কেটে এগোতে হবে পূর্ব দিকে। ঘটনাক্রমে পতেঙ্গা থেকে ভাটিয়ারী বেল্ট নিয়ে ভেতরের অংশটা আজ শহরের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই যে প্রথম নেমেছিল সে এই এলাকাকে বেছে নিয়েছিল। কারণ এখান থেকে সমুদ্র আর নদী দুটোই কাছাকাছি। যদি এখানে বসতি না করে কর্নফুলীর অন্য পাড়ে বসতি করা হতো, তাহলে আজকের সভ্য শহরের সুত্রপাত হতো আনোয়ারা পটিয়ায়। পতেঙ্গা হালিশহর পাচলাইশ নাসিরাবাদ একেকটা গ্রামের নাম হতো। ভুগোল পাল্টাতে হলে ইতিহাস পাল্টাতে হবে। ইতিহাসই ভুগোলের গতিপথ নির্ধারণ করে।

এবার কি ১০০০০ বছর আগের কথা ভেবে দেখা যায়? মানব সভ্যতা তখনো গুটিগুটি পায়ে মধ্য এশিয়ায় হামাগুড়ি দিচ্ছে। সমগ্র দক্ষিন এশিয়া খাঁ খাঁ সবুজের নির্জনতায় ডুবে আছে। আর কিছু কল্পনা করা যায়? কল্পনা থেমে যায়।