Wednesday, April 15, 2026

ইংরেজদের নারী প্রহার আইন ১৮০০

"And as, by the laws of England, a man may beat his wife with a stick which will not endanger the breaking of a limb, or may confine her in a room, the women dare not even give their tongues too much liberty."

(ইংল্যান্ডের আইন অনুযায়ী একজন মানুষ তার স্ত্রীকে এমন লাঠি দিয়ে মারতে পারে যা তার অঙ্গহানির কারণ হবে না, বা তাকে ঘরে বন্দী করে রাখতে পারে। তাই নারীরা এমনকি মুখ খোলার ব্যাপারেও খুব একটা স্বাধীনতা পায় না।)

[মাসির-ই-তালিবী, মির্জা আবু তালেব খান, ১৮০১]

একজন ভারতীয়ের চোখে লন্ডনের বর্ননার এই অংশটা চমকে ওঠার মতো। মাত্র দুশো বছর আগেও ইংল্যান্ডে এরকম আইন ছিল?

ব্যাপারটা নিয়ে খোঁজখবর করতেই জানলাম সত্যি এরকম আইন ছিল।

ইংল্যান্ডের সাধারণ আইন বা অনুযায়ী, সে সময় স্বামীর হাতে স্ত্রীর শারীরিক লাঞ্ছনা বা "Moderate Correction" (পরিমিত শাসন) একপ্রকার স্বীকৃত ছিল। স্যার উইলিয়াম ব্ল্যাকস্টোন তার বিখ্যাত গ্রন্থ Commentaries on the Laws of England (১৭৬৫)-এ লিখেছিলেন যে, পুরনো আইন অনুযায়ী স্বামী তার স্ত্রীকে "পরিমিতভাবে শাসন" করার অধিকার রাখতেন।

তবে ১৮৫৩ সালের আইন: 'Act for the Better Prevention and Punishment of Aggravated Assaults upon Women and Children' পাসের মাধ্যমে নারীদের ওপর সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান করা হয়। ১৮৯১ সালের বিখ্যাত 'Jackson Case': এই মামলার রায়ে আদালত ঘোষণা করে যে, স্বামী তার স্ত্রীকে জোর করে আটকে রাখতে পারবেন না। এর মাধ্যমেই মূলত স্ত্রীকে ঘরে বন্দি করে রাখার আইনি বৈধতা চিরতরে শেষ হয়।


Saturday, April 11, 2026

স্বগত স্বীকারোক্তি অথবা আত্মপক্ষ সমর্থন

আমার প্রায় প্রতিটি বইয়ের সূচনায় একটা স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য থাকে। যেখানে আমি বইটা কোন প্রেক্ষিতে লিখেছি তার একটা দায়মুক্তি দেবার চেষ্টা করেছি। পাঠক যেন বইটা কেনার আগে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এটা তার জন্য উপযুক্ত কিনা। সব বই সবার ভালো লাগবে না। একই বইতে কেউ A+ দিতে পারে, আবার আরেকজন D-ও দিতে পারে। বিষয়বস্তু, পাঠরুচি, উপস্থাপনভঙ্গি, এমনকি পড়ার সময় পাঠকের মানসিক অবস্থা কিংবা পরিবেশ অনেক কিছুই এই পার্থক্যের কারণ হয়। আমি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তম একটা ক্লাসিক বইয়ের ক্ষেত্রেও দেখেছি আমার দেখা শতকরা ৯৯ জন বইটা অসম্ভব পছন্দ করেছে, কিন্তু ১ জন পড়ে বলেছে ওটা নিতান্তই ফালতু একটা বই। কিছুই বোঝেনি সে। আমি সেই একজনকে চিনি, তার পাঠরুচি জানি, তাই খুব অবাক হয়েছি এমন একটা মন্তব্য পেয়ে।


আমার নিজের বইয়ের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা আছে। আমার সবচেয়ে জনপ্রিয় বলে কথিত ‘থাংলিয়ানা’ সম্পর্কে একজন মন্তব্য করেছেন- মূল বইটা তিনি পড়েছেন, অনুবাদে আমি পুরো বইটার সবটুকু তুলে ধরিনি। ফলে পরিপূর্ণ ইতিহাস উঠে আসেনি ওখানে। যিনি এটা বলেছেন তিনি আমার অচেনা, ফলে আমি বলতে পারছি না কোন প্রেক্ষিতে তিনি কথাটা বলেছেন। সম্পূর্ণ বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন, সেটাও স্পষ্ট নয়। কিন্তু বইটার ভূমিকাতে আমি স্পষ্ট করে বলেছি ওটা সম্পূর্ণ অনুবাদ নয়। ওটা মূল বই থেকে বেছে নেয়া নির্বাচিত কিছু অংশের অনুবাদ। অনুবাদগুলো আমি এমনভাবে সাজিয়েছি যাতে পাঠকের মনে হয় তিনি খণ্ডিত কোনো বই পড়ছেন না। গল্পের ঢং-এ লেখার চেষ্টা করেছি। আমার সব অনুবাদে আমি একটা নিয়ম মেনে চলি। আমার কাছে অনুবাদ মানে শব্দার্থ নয়। অনুবাদ হলো একটা গল্পকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় এমনভাবে বহন করে নিয়ে যাওয়া যেন মূল গল্পটা আহত না হয়। এটা করার জন্য তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রথম পর্বে শব্দার্থ অনুবাদ, যেখানে আক্ষরিক অর্থে মূল ভাষায় যা বলা হয়েছে সেভাবে লেখা। দ্বিতীয় পর্বে, বাংলা ভাষায় সেই বাক্যগুলোকে পুনর্লিখন যাতে ভাষাটা প্রাণবন্ত হয়। তৃতীয় পর্বে, নিজস্ব স্টাইল বা শব্দচয়ন দিয়ে বাক্যগুলো সাজানো। এই শেষ পর্বটা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটা দিয়ে একটা অনুবাদও মৌলিক গল্পের মতো উপভোগ্য হতে পারে। আমি সেবা প্রকাশনীর আশির দশকের অনুবাদগুলোতে এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে দেখেছি। সেখান থেকে নিজেও গ্রহন করেছি। পুরোপুরি সফল হয়েছি বলবো না, কিন্তু চেষ্টা করে যাচ্ছি। আরো কয়েকজনকে সেই পদ্ধতি নিতে দেখেছি, যার মধ্যে আলভি আহমেদ অন্যতম। তাঁর অনুবাদ পড়তে আমার একবিন্দু ক্লান্তি লাগে না। 


এই যে এতগুলো পন্থা অনুসরন করে অনুবাদ করা, এটা খুব খুব ক্লান্তিকর একটা কাজ। এই ধৈর্যটা না থাকলে অনুবাদ কাজ না করাই ভালো। কারণ অনেক ক্ষেত্রে দেখেছি- যে গল্প আমি ইংরেজিতে গড়গড় করে পড়তে পারছি, বাংলা ভাষায় সেটা পড়তে গিয়ে বারবার হোঁচট খেয়ে পড়ছি। তাতে অনুমান করি, অনুবাদক প্রথম পর্ব করেই লেখাটা ছাপাতে দিয়েছেন। আমি অনেক বড় অনুবাদকের গল্পেও এই ব্যাপারটা দেখেছি। আমি যখন একটা অনুবাদ পড়ি, তখন অনুদিত ভাষাতেই লেখাটা অনুভব করতে চাই। মূল ভাষার ব্যাকরণ আমার কাছে মূখ্য না। অনুদিত ভাষার ব্যাকরণেই বাক্যটা উপস্থাপন করতে হবে। অথচ দেখা যায় অনেকে মূল ভাষার ব্যাকরণকে জোর করে অনুদিত ভাষার বাক্য গঠনের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করছেন। বাংলা ভাষার বাক্যটা যদি শুদ্ধ না হয়, সেই অনুবাদের অর্থ কী? সেই গল্প আমি অনুভব করবো কি করে?

পাঠক হিসেবে আমি সেই গল্পই পড়তে চাই যেটা আমার ভাষার চরিত্র অনুযায়ী অনুবাদ করা হয়েছে। আমার কাছে গল্পটাই আসল। অন্য ভাষার ব্যাকরণ নয়।


Wednesday, April 8, 2026

মানুষের পৃথিবীতে দানবের রাজত্ব

এক রাতের মধ্যে একটা সভ্যতা নিকেশ করে দেবার ঘোষণা দিতে পারে তেমন বিশ্ব উন্মাদ পৃথিবীতে আগে কখনো জন্মায়নি। শক্তিমানেরা যখন ধ্বংসের হুমকি দেয় সেটা তাদের পরাজিত হবারই বার্তা। আমেরিকা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তাদের ইতিহাসে কোনো বিজয়ের উদাহরণ নেই। বারবার ধ্বংস করাই তাদের নিয়তি। ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, ইরাক, কোথাও জিততে পারেনি ওরা। শুধু ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে পুরো জনপদকে। আমেরিকা কখনো বুঝলো না ধ্বংস দিয়ে বিজয় উদযাপন হয় না। ধ্বংস কখনো বিজয়ের নিদর্শন নয়। এবারও প্রচলিত যুদ্ধ কৌশলে আমেরিকা পুরোপুরি পরাজিত বলেই এই ধ্বংসের হুংকার।

যদি এই হুমকি বাস্তবায়িত হয় আগামীকাল বাকী পৃথিবী অপেক্ষা করবে নজিরবিহীন একটা প্রলয়ের জন্য। কারণ এই দানবের হাতে সীমাহীন ক্ষমতা। এই দানবকে থামাতে পারে তেমন কেউ নেই এই নীল গ্রহে। হাজার ক্ষমতা থাকলেও সভ্য জগতে প্রকাশ্যে কোনো সুস্থ মানুষ এমন কথা উচ্চারণ করতে পারে আমি ভাবতেই পারি না। লোকটা নিঃসন্দেহে নিকৃষ্ট স্যাডিস্ট কিংবা বিকৃত মস্তিষ্ক!
আমি এখনো বিশ্বাস করতে চাই, পৃথিবীতে মানুষেরাই রাজত্ব করবে। বিকৃত মস্তিষ্কের দানবেরা নয়।
Threatening a civilization's heritage isn't a show of strength; it is a confession of cultural illiteracy and a war crime against history itself. Do not reveal your impotence again and again Mr Giant Clown!


সূত্র: আমেরিকার উন্মাদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়াতে ঘোষণা দিয়েছে আগামীকালের মধ্যে ইরানের সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে(পারমানবিক বোমা হামলা?)।

বোধশক্তিহীন এক অসভ্য, ইতর, অপরিমাণদর্শী অর্বাচীনের হাতে ক্ষমতা গেলে এমন কথাই শুনতে হয়। যে কথা হিটলারও বলতে সাহস করেনি। অথচ আমেরিকানরা এই উন্মাদকে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত করেছে। তাদের ভুলের কারণে পুরো পৃথিবীকে মূল্য দিতে হবে।

Tuesday, March 31, 2026

জাতীয়তাবাদের বিপক্ষে

জাতীয়তাবাদ জিনিসটা সবসময় ভালো না। যদি একই সীমান্তের মধ্যে অন্য জাতির বসবাস থাকে তখন শক্তিশালী জাতীয়তাবাদ দুর্বল জাতিদের কাছে ফ্যাসিবাদ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। আমি যখন শক্তিশালী জাতির প্রতিনিধি হিসেবে দেশপ্রেমে গর্বিত হয়ে আমার জাতীয়তাবাদের শ্লোগান দেই, তখন হয়তো  আমার চোখের আড়ালে অন্য ক্ষুদ্র জাতিগুলো ভয়ে কুঁকড়ে যায়। নিঃসন্দেহে  যে কোনো মতবাদের চেয়ে মানবতাবাদ অনেক বেশি জরুরী। শিক্ষাদীক্ষায়  মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার জন্য যে কয়েকটি মন্ত্র আছে এটি তার মধ্যে অন্যতম। ব্যাপারটা শুধু জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে নয়, জাতি, ধর্ম, বর্ন, গোত্র নির্বিশেষে সব শক্তিমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যাকে আমরা ফ্যাসিবাদ বলছি, সেটা অনেকের ভেতরেই সুপ্ত অবস্থায় থাকে, অনুকূল পরিবেশ পেলেই প্রকাশ পায়। ভারত, বাংলাদেশ, বার্মা, ইসরায়েল কিংবা উগান্ডা বুরুণ্ডি সব দেশেই কমবেশি একই ঘটনা।


Monday, March 30, 2026

একুশ শতকের হিরোশিমা-নাগাসাকি

 ইরানের সাথে প্রচলিত যুদ্ধে পেরে উঠছে না আমেরিকা-ইসরায়েল একত্রিত হয়েও। এক মাস পার হয়ে গেছে। শুরু থেকে আমার আশঙ্কা ছিল আমেরিকা ইরানে আরেকটা হিরোশিমা-নাগাসাকি সৃষ্টি করবে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার। পৃথিবীতে নরক সৃষ্টির জন্য অমর হয়ে থাকবে ট্রাম্প নেতানিয়াহু। সম্ভবত হামলাটা ইসরায়েলের মাধ্যমে ঘটানো হবে। তাতে বৃহত্তর ইসরায়েল পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হবে আশপাশের দেশগুলো দখল করার মাধ্যমে।

আমার আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হোক।

Friday, March 20, 2026

আমেরিকা- একুশ শতকের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

ছুটির সকালে ঘুম থেকে ওঠার এক ঘন্টার মধ্যে ইলেকট্রিসিটি কয়েকবার আসা যাওয়া করলো। এদেশে নতুন কিছু না। কিন্তু সাথে সাথে মনে পড়লো পুরো পৃথিবী জুড়েই লোডশেডিং বা জ্বালানী সংকট এগিয়ে আসছে। আমাদের জন্য আরো অনেক আশঙ্কা তৈরি করেছে ইরান যুদ্ধ। প্রতিদিন টিভি খুলে ভয়ে থাকি এখনই কোনো ভয়ানক সংবাদ ভেসে উঠবে।

ইতিহাস বারবার ঘুরে ফিরে পুরোনো গল্পই বলে। পুরোনো চশমায় যদি নতুন বাস্তবতাকে দেখি তাহলে বলবো- পৃথিবীতে এখন যা ঘটছে সেটা উপনিবেশ যুগে ভারতবর্ষে যা ঘটেছিল তার নতুন সংস্করণ। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যেভাবে বাণিজ্যের অধিকারের মাধ্যমে দেড়শো বছরের মধ্যে পুরো ভারতবর্ষ দখল করেছিল, আমেরিকাও ঠিক সেভাবে ধীরে ধীরে পুরো পৃথিবী গ্রাস করেছে গত ৭০ বছরে। আমরা স্বীকার করি বা না করি, আমেরিকা ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’ বলতে পুরো পৃথিবীকেই বোঝায়। ইসরায়েল হলো মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গ। সপ্তদশ শতকে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম ছিল একটা বিদেশী সাম্রাজ্যে তৈরি করা কৃত্রিম শহর। বলেছিল নিজেদের বাণিজ্য স্বার্থ রক্ষার জন্য এই দূর্গ প্রয়োজন। ইসরাইয়েলও মধ্যপ্রাচ্যে সেরকম একটা আমেরিকান দূর্গ। ছদ্মবেশটা হলো বিদেশি অঞ্চলে একটা কৃত্রিম রাষ্ট্র। রাজনীতির ভাষা বদলে গেছে এখন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো মুখ ফুটে বলেনি ওটা মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের তেল বাণিজ্য দেখাশোনা করার দূর্গ। ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে বলে পুরো আরব অঞ্চলে ঘাঁটি তৈরি করে রেখেছে আমেরিকা।
সিরাজউদ্দৌলার আগে ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গ নিয়ে কেউ আপত্তি করেনি। সিরাজই প্রথম ফোর্ট উইলিয়াম আক্রমণ করে, সে কারণে কোম্পানি পাল্টা হামলা চালিয়ে বাংলা দখল করে নিয়েছিল। এখনো তাই ঘটছে। ইরান ছাড়া আর কেউ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করেনি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি। ডিভাইড এন্ড রুল নীতি এখনো সক্রিয়। উপনিবেশ পূর্ব ভারতবর্ষের রাজ্যগুলোর মধ্যেকার অনৈক্যের সুযোগে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তার বাম হাত ঢুকিয়ে দিতে পেরেছিল।
আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে ঘাঁটি করার সময় আরব দেশগুলোকে বলেছিল, আমরা তোমাদের নিরাপত্তা দেবার জন্য এসেছি। ডাহা মিথ্যা। আরব দেশগুলো থেকে ট্রিলিয়ন ডলারের চাঁদাবাজি করা বাদে আর কোনো উপকার করেনি। এবারের ইরানের পাল্টা আক্রমণে মুখোশটা খুলে পড়েছে। ইরানের আক্রমণে কোনো আরব দেশকে রক্ষা করতে পারেনি আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যের মূর্খ শেখগুলো এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। কিন্তু দেরি হয়ে গেছে। এই দেরির জন্য অপুরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।
একসময় হয়তো আমেরিকা তার সব ঘাঁটি তুলে নিয়ে ভেগে যাবে আরব অঞ্চল থেকে। ততদিনে মধ্যপ্রাচ্যের তেল গ্যাসের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙ্গে যাবে। হয়তো পরবর্তী একশো বছরেও আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না। আর যদি তার উল্টোটা ঘটে তাহলে কি হবে? আমেরিকা যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভেগে যাবার বদলে পুরোটা দখল করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নতুন সংস্করণ তৈরি করে? তাহলে আমরা একটা নতুন পৃথিবী দেখতে পাবো।
কোনটা ঘটবে সেটা সময়ই বলবে।
আপাতত আমরা দেখতে পাচ্ছি ইরান যুদ্ধ শুরু হবার তিন সপ্তাহ পর এশিয়া, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে গত পঞ্চাশ বছরের ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। আমেরিকা তার মিত্র দেশগুলোকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি। একের পর ইরানী মিসাইলের আক্রমণে নিজেদের জানমাল নিয়ে তটস্থ আছে আরব শেখরা। ফলে আমেরিকার বন্ধু বলে কথিত আরব দেশগুলো এখন নতুন বন্ধুর খোঁজ করছে। আজকের সংবাদে দেখলাম আরবরা এখন নিজেদের মধ্যে আলাপ করছে আমেরিকাকে বাদ দিয়ে ইউরোপ, চীন, জাপানের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা যায় কিনা। তাতে মনে হয় আমেরিকান মাতব্বরীর কারণে গত অর্ধ শতাব্দী ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা চলছে, সেটা কমার জন্য এই বিকল্প চিন্তাভাবনা সামনে আসছে। যদি আরেকটা মহাযুদ্ধ না করে এই পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হয়, তাহলে পুরো পৃথিবীর জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে।
কিন্তু সেই মঙ্গলময় ঘটনাটি কি ঘটবে? আমার মনে হয় না। বরং উল্টোটি ঘটার সম্ভাবনা বেশি। আমেরিকা বহুদিন নতুন তৈরি করা পরমানু বোমাগুলো পরীক্ষা করার মতো উপযুক্ত স্থান বা অজুহাত পাচ্ছে না। ইরানের বিস্তীর্ণ ভৌগলিক অঞ্চল সেই পরীক্ষার একটা সুযোগ করে দিতে পারে। পুরো পৃথিবীকে কাঁচকলা দেখিয়ে ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বাস্তবায়নের একমাত্র উপায় সেটি।
আমেরিকানরা যদি অবিলম্বে তাদের দানবটাকে কান ধরে নামিয়ে না দেয়, তাহলে পৃথিবীর মানুষের সামনে মহা দুঃসময় অপেক্ষা করে আছে।

Tuesday, March 17, 2026

অ্যান্ডরয়েড মাকড়সা

অ্যান্ডরয়েড প্রযুক্তি আবিষ্কার হবার পর সোশ্যাল মিডিয়ার একটা অভিনব যুগ শুরু হলো। তারপর থেকে অনেক মানুষের জীবনের বড় অংশ ৬ ইঞ্চি পর্দার ভেতর আটকে গেছে। ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়। এটা একটা নেশা। বহু মানুষের পক্ষে এই নেশা কাটানো অসম্ভব। কিন্তু নেশাটাকে কাজে পরিণত করার কৌশলটা জানা থাকলে সোশ্যাল মিডিয়া আপনাকে গ্রাস করতে পারবে না। আমি বহুবছর ধরে কৌশলটা প্রয়োগ করার চেষ্টা করি। কৌশলটা কঠিন কিছু না। আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে ওই ছয় ইঞ্চি পর্দা যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ না করে। আপনিই ওটাকে নিয়ন্ত্রণ করবেন। চাবিটা যেন আপনার হাতে তাকে। সে আপনাকে যেসব জিনিস জোর করে গেলাতে চাইবে আপনি সেদিকে তাকাবেন না। আপনি শুধু গুরুত্ব দেবেন আপনার প্রয়োজনকে। আপনার প্রয়োজন মেটানোর জন্য ওই জিনিস কিনেছেন নগদ পয়সা খরচ করে। ফেসবুক একসময় নিরীহ একটা প্ল্যাটফর্ম ছিল। যেখানে বন্ধুবান্ধবেরা মিলে আড্ডা দিতো। বছর দশেক আগেও আপনাকে ফেসবুকের কোনো উৎপাত সহ্য করতে হতো না। কিন্তু এখন ফেসবুক খুললেই এমনসব জিনিস এসে হাজির হয় যেটা আপনি চান না। আপনাকে এমনসব দৃশ্য দেখতে হয় যেটা আপনি দেখতে চাননি। ফেসবুকের এলগরিদমের কৌশলের কাছে আপনার প্রতিরক্ষা ভেঙ্গে যায়। কিন্তু আপনার হাতের আঙুল এবং চোখ দুটো আপনার নিয়ন্ত্রণে। আপনি এক টিপে বেরিয়ে আসতে পারেন। অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু চোখের সামনে পড়লে শুধু এই কাজটা করবেন। আর কিছু লাগবে না। এক্সিট বাটন ঠিক সময়ে কাজে লাগাতে পারলে আপনি রক্ষা পাবেন। কিন্তু আমরা প্রায়ই ‘আরেকটু দেখি’ বলে সময় নেই। তাতেই আটকে পড়ি মাকড়সার জালে।