আমার বই নিয়ে তোমার বরাবরই উৎসাহ ছিল। প্রথম বই প্রকাশের খবর পেয়ে করোনার মধ্যেও বাসায় ছুটে এসেছিলে। ছবি তুলে পোস্ট দিয়েছিলে ফেসবুকে। তখন তুমি পুরোপুরি সুস্থ।
তখনো কি জানতাম দুবছরের মধ্যে তোমার শরীরে মরণব্যাধি বাসা তৈরি করবে? চিকিৎসা চলছিল। তোমার বর, তোমার পরিবার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে চিকিৎসা করে যাচ্ছিল। তুমি সুস্থবোধ করছিলে। হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছিলে। কিন্তু পরের বছর হঠাৎ করে আবারো বিগড়ে যেতে শুরু করলো শরীর। তার মধ্যেও তুমি যখন শুনলে আমার নতুন বই এসেছে, তুমি বাসার সবাইকে নিয়ে বইমেলায় ছুটে এলে। আমি বারণ করেছিলাম, বই বাসায় পৌঁছে দেবো বলেছিলাম। তুমি কিছু শুনতে রাজী ছিলে না। মেলা থেকে বই কিনে আমার অটোগ্রাফ নিতে হবে।
আমি বইমেলায় গেলাম। তুমি বই দুটো কিনে স্টলে দাঁড়িয়ে অটোগ্রাফ নিলে। তোমার এত উচ্ছ্বাস উৎসাহ দেখে মনে হচ্ছিল তুমি সুস্থ হয়ে গেছে। গত মাসে যে তোমাকে অসুস্থ দেখে এসেছি সে এখন প্রাণবন্ত। তোমার বর, তোমার বোন, তোমার মা, সবাই মেলায় এসেছে। তুমি সবাইকে গর্ব করে বলছো, তোমার ভাই কত ভালো লেখক। অটোগ্রাফ দিয়ে তোমাদের বিদায় দিলাম।
মেলা ঘুরে ফিরে যাবার সময় হঠাৎ খেয়াল করলাম মেলার গেটের কাছে রাস্তার পাশের সিঁড়ির ধাপে তুমি বসে আছো। তোমার মা, বোন, বর তোমাকে ঘিরে আছে। শুনলাম তোমার হঠাৎ জ্বর এসেছে। হাঁটতে পারছো না। গাড়ি আনতে লোক গেছে। তোমাকে ধরাধরি করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো বাসায়। তারপর ডাক্তার, হাসপাতাল, বাসা, ঢাকা, চট্টগ্রাম কত কত ঘটনা। সব ঘটনা পেরিয়ে, সবাইকে মুক্তি দিয়ে তুমি পাড়ি জমালে অনন্তের উদ্দেশ্যে।
তারপর থেকে আমার বইমেলা ভালো লাগে না। বছর বছর মেলা আসবে। আমার আর কখনো মেলাকে আগের মতো লাগবে না। আমার নতুন বইয়ের কোনো খবর তোমার কাছে পৌঁছাবে না। আমার ভাবতে ভালো লাগে না। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাই উপাধি পাওয়া মানুষটা তোমার জন্য কিছু করতে পারলো না।
তারপর থেকে আমার বইমেলা ভালো লাগে না। বছর বছর মেলা আসবে। আমার আর কখনো মেলাকে আগের মতো লাগবে না। আমার নতুন বইয়ের কোনো খবর তোমার কাছে পৌঁছাবে না। আমার ভাবতে ভালো লাগে না। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাই উপাধি পাওয়া মানুষটা তোমার জন্য কিছু করতে পারলো না।
[মাঝে মাঝে মনে হয়, এটা কি কোনো গল্পের অংশ? সবকিছু একদিন গল্প হয়ে যায়।]
No comments:
Post a Comment