এক রাতের মধ্যে একটা সভ্যতা নিকেশ করে দেবার ঘোষণা দিতে পারে তেমন বিশ্ব উন্মাদ পৃথিবীতে আগে কখনো জন্মায়নি। শক্তিমানেরা যখন ধ্বংসের হুমকি দেয় সেটা তাদের পরাজিত হবারই বার্তা। আমেরিকা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তাদের ইতিহাসে কোনো বিজয়ের উদাহরণ নেই। বারবার ধ্বংস করাই তাদের নিয়তি। ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, ইরাক, কোথাও জিততে পারেনি ওরা। শুধু ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে পুরো জনপদকে। আমেরিকা কখনো বুঝলো না ধ্বংস দিয়ে বিজয় উদযাপন হয় না। ধ্বংস কখনো বিজয়ের নিদর্শন নয়। এবারও প্রচলিত যুদ্ধ কৌশলে আমেরিকা পুরোপুরি পরাজিত বলেই এই ধ্বংসের হুংকার।
Wednesday, April 8, 2026
মানুষের পৃথিবীতে দানবের রাজত্ব
Tuesday, March 31, 2026
জাতীয়তাবাদের বিপক্ষে
জাতীয়তাবাদ জিনিসটা সবসময় ভালো না। যদি একই সীমান্তের মধ্যে অন্য জাতির বসবাস থাকে তখন শক্তিশালী জাতীয়তাবাদ দুর্বল জাতিদের কাছে ফ্যাসিবাদ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। আমি যখন শক্তিশালী জাতির প্রতিনিধি হিসেবে দেশপ্রেমে গর্বিত হয়ে আমার জাতীয়তাবাদের শ্লোগান দেই, তখন হয়তো আমার চোখের আড়ালে অন্য ক্ষুদ্র জাতিগুলো ভয়ে কুঁকড়ে যায়। নিঃসন্দেহে যে কোনো মতবাদের চেয়ে মানবতাবাদ অনেক বেশি জরুরী। শিক্ষাদীক্ষায় মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার জন্য যে কয়েকটি মন্ত্র আছে এটি তার মধ্যে অন্যতম। ব্যাপারটা শুধু জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে নয়, জাতি, ধর্ম, বর্ন, গোত্র নির্বিশেষে সব শক্তিমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যাকে আমরা ফ্যাসিবাদ বলছি, সেটা অনেকের ভেতরেই সুপ্ত অবস্থায় থাকে, অনুকূল পরিবেশ পেলেই প্রকাশ পায়। ভারত, বাংলাদেশ, বার্মা, ইসরায়েল কিংবা উগান্ডা বুরুণ্ডি সব দেশেই কমবেশি একই ঘটনা।
Monday, March 30, 2026
একুশ শতকের হিরোশিমা-নাগাসাকি
ইরানের সাথে প্রচলিত যুদ্ধে পেরে উঠছে না আমেরিকা-ইসরায়েল একত্রিত হয়েও। এক মাস পার হয়ে গেছে। শুরু থেকে আমার আশঙ্কা ছিল আমেরিকা ইরানে আরেকটা হিরোশিমা-নাগাসাকি সৃষ্টি করবে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার। পৃথিবীতে নরক সৃষ্টির জন্য অমর হয়ে থাকবে ট্রাম্প নেতানিয়াহু। সম্ভবত হামলাটা ইসরায়েলের মাধ্যমে ঘটানো হবে। তাতে বৃহত্তর ইসরায়েল পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হবে আশপাশের দেশগুলো দখল করার মাধ্যমে।
আমার আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হোক।
Friday, March 20, 2026
আমেরিকা- একুশ শতকের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
ছুটির সকালে ঘুম থেকে ওঠার এক ঘন্টার মধ্যে ইলেকট্রিসিটি কয়েকবার আসা যাওয়া করলো। এদেশে নতুন কিছু না। কিন্তু সাথে সাথে মনে পড়লো পুরো পৃথিবী জুড়েই লোডশেডিং বা জ্বালানী সংকট এগিয়ে আসছে। আমাদের জন্য আরো অনেক আশঙ্কা তৈরি করেছে ইরান যুদ্ধ। প্রতিদিন টিভি খুলে ভয়ে থাকি এখনই কোনো ভয়ানক সংবাদ ভেসে উঠবে।
Tuesday, March 17, 2026
অ্যান্ডরয়েড মাকড়সা
Saturday, March 14, 2026
ইতিহাস স্রোতস্বিনী নদী
Monday, March 9, 2026
পাঁচটি পর্যবেক্ষণ
১. তোমার কাছে কি রিসোর্স আছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় তুমি সেটা কত ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারছ সেটাই হলো গুরুত্বপূর্ণ ।
২. তোমার কাছে কি পরিমান সম্পদ আছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় তুমি কত কম সম্পদে নিজেকে বেশি সুখী রাখতে পারো সেটাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ।
৩. বছরে তুমি কয়টা বই প্রকাশ করছো সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয় কতজন পাঠক তোমার বই পড়ে আনন্দ পাচ্ছে সেটাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৪. তুমি যতই জনপ্রিয় ব্যক্তি হও না কেন তোমার পরিবার যদি অসুখী থাকে তাহলে তোমায় সব জনপ্রিয়তা বৃথা।
৫. সুসময়ে তোমার কতজন বন্ধু আছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। দুঃসময়ে একজন থাকলেও তুমি ভাগ্যবান।
দুই দানবের ধ্বংস কবে?
মানব ইতিহাসের মধ্যে একুশ শতকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর দানব দুটো ধ্বংস হবে না? ওদের মৃত্যু নেই?
বইমেলা: সবকিছু যখন গল্প হয়ে যায়
তারপর থেকে আমার বইমেলা ভালো লাগে না। বছর বছর মেলা আসবে। আমার আর কখনো মেলাকে আগের মতো লাগবে না। আমার নতুন বইয়ের কোনো খবর তোমার কাছে পৌঁছাবে না। আমার ভাবতে ভালো লাগে না। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাই উপাধি পাওয়া মানুষটা তোমার জন্য কিছু করতে পারলো না।
Saturday, March 7, 2026
আমাদের অন্ধকার দিন এগিয়ে আসছে
ইরানের ওপর আমেরিকা-ইসরায়েলের এই যৌথ বর্বরতা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পৃথিবী জুড়ে অন্ধকার নামিয়ে আনবে। বাংলাদেশ আক্ষরিক অর্থেই সেই অন্ধকার যুগের প্রথম শিকার হবে। এই যুদ্ধ আমাদের জন্য লোড শেডিং, মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্যাভাবের মতো ভয়ানক সংকট নিয়ে আসছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা টের পেতে শুরু করবো।
Sunday, March 1, 2026
আমেরিকা, তুই এখানে কেন? দূরে গিয়া মর!
মানবজাতির দুর্ভাগ্য পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বর মানুষগুলো সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্রের প্রধান হয়। ওরাই সবচেয়ে বেশি মারাণাস্ত্রের মালিক হয়, যাদের থামানোর মতো কোনো শক্তি সৃষ্টিজগতে থাকে না। দেশে দেশে স্বৈরাচার সৃষ্টি করে, তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে, জোর করে সম্পদ কেনে, হিসেবে গোলমাল লাগলে তাদের উচ্ছেদ করার জন্য ষড়যন্ত্র করে কিংবা সরাসরি যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়। পৃথিবীর অনেক দেশেই স্বৈরাচার-দুরাচার সক্রিয়, কিন্তু আমেরিকার পছন্দের স্বৈরাচারদের কিছু হয় না। ভিন্নমতের ওপরই আগ্রাসন হবে, এটাই নিয়ম।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ কতদূর বিস্তৃত হয় জানি না। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়া আমাদের মতো দেশগুলোর জন্য ভয়ানক বিপদ ডেকে আনতে পারে। আমরা অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারি। ওদের থামাবার মতো কোনো সংঘ বা রাষ্ট্র নেই এই গ্রহে। মহাজাগতিক কিছু না ঘটলে যুদ্ধটা থামবে না। অন্তত দুটো উল্কাপিণ্ড এসে যদি ওই দুই দানবের ঘাড়ে পড়তো, তাহলে এই যুদ্ধ সাথে সাথে থেমে যেতো।
গত কয়েক বছরে এই দুটো বর্বর বদ্ধ উন্মাদের পাল্লায় পড়ে গেছে পুরো পৃথিবী। আমাদের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।
২.
ইসরায়েলের আক্রমনে ইরানের একটা স্কুলের দেড়শো জন শিশু মারা গেছে। একই সাথে ইরানের প্রধান ধর্মীয় নেতা সপরিবারে নিহত হয়েছেন তাঁর নিজের দফতরেই। ইরানের পাল্টা হামলায় আমেরিকার নাগাল না পেলেও দুবাই আবু ধাবির বিলাসবহুল টাওয়ারগুলো হুমকির মধ্যে আছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূগোলই বদলে যেতে পারে। ইরান ধ্বংস হয়ে যাবে ইরাকের মতোই। সাথে প্রতিবেশি দেশগুলোকেও আংশিক মেরে যাবে। দুই পক্ষই মরণ কামড়ের হুমকি দিচ্ছে।
৩.
আমরা খুব বেশি দূরে নয়। আমাদের অনেক আত্মীয় বন্ধু মধ্যপ্রাচ্যে আছে। সবাই বিপদে পড়ে গেছে। টিভি খুলতেই ভয় করে পরবর্তী ভয়ানক ধ্বংসের ফুটেজ কোনটা দেখতে হয়। এই বিপদ থেকে পৃথিবীর কেউ নিরাপদ না। এশিয়া সবচেয়ে বেশি।
মাঝে মাঝে ভাবি, যদি এমন হয় সব এশিয়ান দেশ এক জোট হয়ে এশিয়া মহাদেশ থেকে আমেরিকাকে বিতাড়িত করেছে।
আমেরিকা, তুই এখানে কেন? দূরে গিয়া মর!
Saturday, February 28, 2026
পৃথিবীর আসন্ন বিপদ
পৃথিবী আরেকটা বড় যুদ্ধের মুখোমুখি।
ইসরায়েল-আমেরিকা যৌথভাবে ইরান আক্রমণ করেছে আজ। এই যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়বে। এমনকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধেরও সূচনা করতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দানব। এই দানব দুটো যতদিন জীবিত থাকবে মানবজাতি ততদিন অনিরাপদ থাকবে। এদেরকে ধ্বংস করার মতো শক্তি এখন পৃথিবীর কারো নেই। যদি কোনো ঘটনাচক্রে একটা উল্কাপাত কিংবা গ্রহাণুর আঘাতে যদি এই দানব দুটো ধ্বংস হতো।
বাংলাদেশের মতো দেশগুলো যুদ্ধে না জড়ালেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। কয়েকদিনের মধ্যেই দেশে তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সংকট শুরু হবে। দ্রব্যমূল্য আকাশে উঠে যাবে। আমদানী রপ্তানী সবকিছু বিপদের মধ্যে পড়ে যাবে। এই যুদ্ধ যদি সহসা না থাকে পুরো পৃথিবী দীর্ঘ সময়ের জন্য অন্ধকার দেখতে যাচ্ছে।
মসলিন স্মৃতি, এ.এল, ক্লে
"আমরা তখন কাপাসিয়া পুলিশ থানার আওতাধীন এলাকায় ছিলাম। "কার্পাস" হলো তুলার দেশীয় শব্দ; বর্তমানে জঙ্গলময় এই অঞ্চলটি একসময় নিঃসন্দেহে সেই ফসলের জন্যই পরিচিত ছিল যেখান থেকে এর নামের উৎপত্তি। আগে ঢাকা জেলায় ব্যাপকভাবে তুলার চাষ হতো, কিন্তু ম্যানচেস্টার ও অন্যান্য শিল্পকেন্দ্রের সস্তা পণ্যের কারণে সূক্ষ্ম ঢাকা মসলিন বাজার থেকে প্রায় বিতাড়িত হওয়ার পর এর চাষ অনেক কমে গেছে। ইংরেজ মিল-মালিকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারতীয় তাঁতের তৈরি সূক্ষ্ম কাপড়ের ওপর যন্ত্রচালিত পণ্যের এই জয়ে আফসোসের কিছু না থাকতে পারে; কিন্তু শিল্পপ্রেমীরা ঢাকা মসলিন, যা একসময় তার সৌন্দর্য এবং বিস্ময়কর সূক্ষ্মতার জন্য বিখ্যাত ছিল, সেই ব্যবসার এই বাস্তব বিলুপ্তিতে দুঃখ প্রকাশ করলে তাদের ক্ষমা করা যেতেই পারে।
সবচেয়ে সূক্ষ্ম বুননের মসলিনগুলো 'আব-রওয়ান' বা "প্রবাহিত জল" এবং 'শব-নম' বা "ভোরের শিশির" নামে পরিচিত ছিল, কারণ ভেজা অবস্থায় এগুলোকে জল বা শিশির থেকে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব ছিল। বলা হয় যে, জাহাঙ্গীরের আমলে ১০ হাত বাই ২ হাত মাপের এক টুকরো 'আব-রওয়ান' মসলিন তৈরি করা যেত যার ওজন ছিল মাত্র পাঁচ সিক্কা বা ৯০০ গ্রেইন এবং এর দাম ছিল ৪০০ টাকা। বর্তমানে একই মাপের সবচেয়ে সূক্ষ্ম যে মসলিন তৈরি করা সম্ভব, তার ওজন প্রায় নয় সিক্কা বা ১,৬০০ গ্রেইন এবং তা ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। এই অতি সূক্ষ্ম মসলিনগুলো এখন আর অর্ডার ছাড়া তৈরি করা হয় না।" [ঢাকা, ১৮৬৬]
"We were now in the jurisdiction of Police Thanah Kapasia. "Kapás" is the native word for cotton; and this tract, now very jungly, at one time was doubtless noted for the crop from which it derives its name. In former days cotton was extensively grown in the Dacca District, but its cultivation has been much reduced since the fine Dacca muslins have been almost driven out of the market by the cheaper goods of Manchester and other manufacturing centres. From the English mill-owners' point of view there may be little to regret in the victory of the machine-made article over the airy fabrics of the Indian hand-loom; but lovers of art may be pardoned for deploring the practical annihilation of the trade in Dacca muslins, once so famed for their beauty and wondrous fineness. Those of the most delicate texture were known by the names of áb-rawán or "running water," shab-nám or "evening dew," from the fact of their being, when wet, almost undistinguishable from either. It is said that in the time of Jehangir a piece of áb-rawán muslin could be manufactured 10 cubits by 2, weighing only five siccas or 900 grains, the price of which was 400 rupees. The finest that can be made in the present day, of the above dimensions, weighs about nine siccas or 1,600 grains, and is sold at 100 rupees. These finer kinds are not now made, except to order."
A.L. Clay (Diary from Lower Bengal) p.144
Monday, February 23, 2026
প্রাণী জীবন
আমরা যতক্ষণ বেঁচে থাকি স্বার্থপরের মতো জীবন কাটাই। এটা অনিবার্য এক স্বার্থপরতা। টিকে থাকার জন্য প্রাণীসুলভ স্বার্থপরতা। জগতের সব প্রাণী এই স্বার্থপরতা নিয়ে টিকে থাকে। মানুষ একটু ব্যতিক্রম। বন্ধু স্বজন ভালো না থাকলে সেও ভালো থাকে না। বিষন্নতা গ্রাস করে তাকে। সেও একটু একটু ক্ষয়ে যেতে থাকে। কিন্তু যার দায়িত্বে একটা পরিবার আছে তাকে এসব গ্রাস করলে চলবে না। টিকে থাকার জন্য তাকে স্বার্থপর হয়ে, অনেক কিছু ভুলে প্রতিদিন বাঁচতে হয়। গ্লাণি, অপরাধবোধ এসব তখন কাজ করবে না। প্রতিটি প্রাণী আসলে নিজেকেই ভালো রাখতে চেষ্টা করে। নিজের জন্যই বাঁচে। সে যতক্ষণ বাঁচুক।
প্রবোধ দেবার চেষ্টা করছি না। কিন্তু এই সান্ত্বনাবাক্য কেবল নিজের জন্যই খাটে। কারণ যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ। কঠিন অবস্থায় পড়ে গেছে আমার প্রিয় কয়েকজন মানুষ। পরিবার এবং পরিবারের বাইরে। একসময় নাম ধরে বলতাম, অমুক ভালো নেই, তমুকের এই সমস্যা। এখন সংখ্যাটা এত বেশি হয়ে গেছে, আর নাম বলা যাচ্ছে না। তখন নিজের সমস্যাকে খুব তুচ্ছ মনে হয়। মনে হয় এখনো তো পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়িনি। এখনো যুদ্ধ করতে পারছি। প্রতিদিনের যুদ্ধে যে মানসিক ও শারিরীক শক্তি দরকার, সেটা এখনো তো আছে। এখনো তো বলতে পারছি, লিখতে পারছি।
যেদিন ‘ভালো নেই’ কথাটা আর লিখতে পারবো না, সেদিনই শেষ। লেখক জীবন এবং বাস্তব জীবন, দুটোই।
Sunday, February 22, 2026
নির্বাচন এবং অতঃপর
১২ ফেব্রুয়ারী তারিখে নির্বাচনটা হয়ে গেল। কমিশন সূত্রমতে ৬০ ভাগ মানুষ ভোট দিয়েছে। আমি দুটো ভোটকেন্দ্রে গিয়েছি। লোকজনের ভিড় দেখিনি তেমন। ভোট সুষ্ঠু হয়েছে বলেই মনে হয়েছে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। একদল মানুষ জামাতকে ক্ষমতায় বসাতে মরিয়া ছিল। আরেকদল জামাতকে ঠেকাতে মরিয়া ছিল। দুই পক্ষের চেষ্টা শান্তিপূর্ণ ছিল। তেমন দাঙ্গাহাঙ্গামা হয়নি। দুয়েকটা বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া ভালোই হয়েছে নির্বাচন। অবশেষে ২১২ আসন নিয়ে বিএনপি জোট সরকার গঠন করেছে। ৭৭ আসন নিয়ে জামাত বিরোধী দলে বসেছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ বলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। না হলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো। যাই হোক, এখন আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে যাবে?
বিএনপি ক্ষমতা নেবার পর প্রগতিশীল ফ্রন্টে আনন্দের বন্যা। কেননা গত দেড় বছর তাদের জন্য একটা অস্বস্তিকর সময় ছিল। দেশে কারো কোনো নিয়ন্ত্রন ছিল না। মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ জঙ্গীবাদী দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। প্রতিদিন নানান হুংকার শোনা যেতো। পারলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে এমন হৈ হল্লা। একদল উন্মাদের হাতে পড়ে গিয়েছিল দেশটা। এখন পাগলের দল গর্তে ঢুকে পড়েছে আপাতত। আবারো সুযোগ পেলে মাথাচাড়া দেবে। দেশ সবসময় মধ্যপন্থীদের হাতে নিরাপদ, এটাই প্রমাণিত। আমরা কখনোই উগ্রতার পক্ষে ছিলাম না। উগ্রতা একটা দেশকে কি বানিয়ে ফেলে সেটা সিরিয়া বা আফগানিস্তানের দিকে তাকালে বোঝা যায়।
কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই। আমাদের চারপাশে জটিল ভূ-রাজনীতির খেলা। আমেরিকা-রাশিয়া-চীন-ভারত প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ আছে। সেই স্বার্থে আঘাত লাগলে নির্বাচিত সরকারও নিরাপদ থাকে না। আপাতত রাজনৈতিক অঙ্গন শান্ত হয়েছে। এটাও সাময়িক। ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যাবে কদিন পরেই। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে সেটা বোঝা যাচ্ছে।
সবচেয়ে স্বস্তির কথা হলো একটা ব্যর্থ অথর্ব সরকারের বিদায়। আঠারো মাসে কাজের কাজ কিছু করতে না পারলেও অপকর্মের পরিমাণ নেহায়েত কম নয়। অনেক দেশ বিরোধী চুক্তিটুক্তি করেছে। এমন কিছু ঝামেলা রেখে গেছে যেগুলা এই সরকারকে ভোগাবে। দেশের কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে তাদের এগিয়ে আসতে দেখিনি। অদ্ভুত একটা নীরবতা ছিল যে কোনো অরাজকতার সময়। ড. ইউনুসকে নিয়ে আমি সবচেয়ে হতাশ হয়েছি। আমি রীতিমত প্রতারিত বোধ করেছি তাঁর কাজকর্ম দেখে। দেশের কোনো সংকটে তাঁর হস্তক্ষেপ দেখিনি।
Monday, February 9, 2026
নির্বাচন ২০২৬
আমার জীবনে আমি মাত্র তিনবার ভোট দিয়েছি। তিনবারের অভিজ্ঞতায় আমি উপলব্ধি করেছি বাংলাদেশে নির্বাচন বা গণতন্ত্র নামের যেটাকে গেলানো হয় সেটা একটা প্রহসন। নির্বাচনের আগে আমাকে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার একটাও পালিত হয়নি। ফলে আমি প্রতারিত বোধ করেছিলাম। অতঃপর আমি ব্যক্তিগতভাবে বাকী জীবনের জন্য একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমি আর কখনো বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনে অংশ নেবো না। গত দেড় যুগ আমি সেই সিদ্ধান্তে অটল আছি। ভবিষ্যতেও থাকবো। আমি বিশ্বাস করি ভোট দেয়া যেমন একটা অধিকার, তেমনি না দেয়াও একটি নাগরিক অধিকার। আমাদের দেশে যারা নির্বাচনে দাঁড়ায় তারা যত ভালো মানুষই হোক না কেন, ভোটের সময় তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমনসব প্রতিশ্রুতি কিংবা বাণী দিতে থাকে, সেটা ভোটার তো বটেই তাদের নিজের কাছেও আত্মপ্রতারণার সামিল। এবারের নির্বাচন তো আরো জটিল। এখানে মিথ্যার ছড়াছড়ি আরো অনেক বেশি। যখন যেদিকে সুবিধা হচ্ছে সেরকম প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জটিল বিষয় হলো গণভোট। এটা থেকে মানুষ কি পাবে সেটা নিজেরাও জানে না। যারা ভোট দিতে বলছে তারাও বোঝে কিনা সন্দেহ আছে। কিন্তু এদেশে গণভোটের ইতিহাস বলে সবসময় হ্যাঁ ভোট জেতে। এবারও তাই হতে পারে। সাধারণভাবে গণভোটের অন্তর্নিহিত বার্তা হলো আয়োজককে হ্যাঁ বলুন। এবার আর অন্তর্নিহিত বার্তা নেই। সরাসরি হ্যাঁ ভোট দিতে বলা হচ্ছে আয়োজনকদের পক্ষ থেকে। সেই সুযোগ তাদের আছে। সুতরাং এখানে হ্যাঁ জিতুক, কিংবা না জিতুক, আমাদের মতো নির্দলীয় মানুষদের কোনো লাভ নেই। যারা ক্ষমতা নিয়ে কাড়াকাড়ি করবে এটা তাদের ইস্যু। কিন্তু এই নির্বাচন নিয়ে আমার মতো সাধারণ মানুষদের একটাই আশাবাদ। যে দলই জিতুক, যে দলই ক্ষমতায় আসুক, পুরো প্রক্রিয়াটা যেন শান্তিপূর্ণ হয়। মানুষের জীবন যেন নিরাপদ থাকে। দেশের অর্থনীতির চাকা যেন সচল থাকে। দেশটা সিঙ্গাপুর হবার দরকার নাই, মানুষ কাজকর্ম করে দুটো খেতে পাবে, ওই সুযোগটা যেন অব্যাহত থাকে।
Saturday, February 7, 2026
পেশাদারিত্ব কী
পেশাদারিত্ব।
এই শব্দটা অনেকে বোঝেন না। মনে করেন এটা কেবল পেশা সংক্রান্ত কোনো বিষয়। মানে যিনি যে পেশায় আছেন সেই পেশার দক্ষতা। ধারণাটা আংশিক সত্যি, কিন্তু পুরো ব্যাপারটা একটু আলাদা। পেশাদারিত্ব মানে হলো আপনার যে কাজটা যখন করা দরকার আপনি সেটা ঠিকমত করতে পারছেন কিনা। পাড়ার মুদি দোকানদার থেকে কোম্পানির সিইও পর্যন্ত এটা বিস্তৃত হতে পারে। পেশাদারিত্ব না থাকলে লোকে আপনার সাথে কাজ করে আনন্দ পাবে না। এটা না থাকলে মুদি দোকানী কাস্টমার পাবে না, কোম্পানির সিইও কর্পোরেট দক্ষতা দেখাতে পারবেন না। পেশাদারিত্বের প্রধান উপাদান হলো অডিয়েন্সের প্রতি আপনার আচরণ এবং মনোভাব। অডিয়েন্সটা কী? সেটা আপনার কাস্টমার হতে পারে, আপনার সহকর্মীও হতে পারে কিংবা আপনার ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষ হতে পারে।
আমি কেন উপন্যাস লিখতে চেয়েছিলাম?
আমি নন-ফিকশন লেখক। আমার লেখালেখির মূল ফোকাস ইতিহাস। কিন্তু মাঝে মাঝে আমি কিছু গল্প লেখার চেষ্টা করেছি। সেগুলো নিছক অবসর কাটাবার উদ্দেশ্যে। তার মধ্যে কিছু গল্প লিখেছি গল্পের ছলে ইতিহাসকে পাঠকের কাছে তুলে ধরার জন্য। আরো বহুবছর আগে, আমি একটা উপন্যাস লিখতে বসেছিলাম। সেটা কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ ছিল না। আমি নিতান্তই অপরিচিত লেখক, আমার লেখা উপন্যাস পড়ার পাঠক পাওয়া যাবে না বলে আমি শতভাগ নিশ্চিত। তবু আমি সেই উপন্যাসটি লিখতে চেষ্টা করছিলাম বহুবছর ধরে। অর্ধেক লেখার পর থেমেও গিয়েছিলাম। প্রায় অর্ধযুগ ফেলে রাখার পর আবার যখন শুরু করলাম তখন আর আগের মতো এগোতে পারছিলাম না। না পারার কারণ ছিল আমি এখানেও গল্পের ছলে ইতিহাস গেলানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু যে সময়কাল নিয়ে আমি কাজটা করতে যাচ্ছিলাম সেই সময়কালের ঘটনাগুলোকে সমন্বয় করতে গিয়ে একটা ঝামেলার মধ্যে পড়ে গেলাম। আমার গল্পের চরিত্রগুলো কিছু ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে জড়িত ছিল। সেই ঘটনাগুলো সত্যি ঘটেছিল। আমার উপন্যাসের চরিত্রগুলো সেখানে উপস্থিত ছিল। সমস্যা হলো তাদের উপস্থিতিকে বাস্তবসম্মত করার জন্য সময়কালকে এমনভাবে সাজাতে হবে যেন তার ধারাবাহিকতা ঠিক থাকে। সেখানে গিয়ে আমি মুশকিলে পড়ে গেলাম। উপন্যাসের একটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রকে আমি যে বয়সে উপস্থাপন করেছিলাম, সেই ঘটনার মধ্যে তাকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে হাজির করা যাচ্ছিল না। তাই গল্পটা বারবার হোঁচট খেতে খেতে থেমে গিয়েছিল। আমার দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও আটকে গেল সেখানে। আরো চার বছর পর আমি একদিন এক নির্ঘুম রাতে কীবোর্ড নাড়াতাড়া করতে করতে নতুন একটা গল্প লিখতে শুরু করলাম। কিছুক্ষণ লেখার পর অনুভব করলাম আমি আসলে নতুন গল্প লিখছি না। পুরোনো গল্পটাকে আমি নতুন একটা স্রোতের সাথে মিলিয়ে দিয়েছি। আমার উপন্যাসের নদী এবার এমন একটা গতি পেল এক যুগ আটকে থাকা গল্পটা কথা বলতে শুরু করলো। একটানা কয়েক মাস লেখার পর আমি আমার পছন্দের গন্তব্য খুঁজে পেলাম। উপন্যাসটির সমাপ্তিরেখায় পৌঁছে আমাকে চমকে দিল। কারণ আমি নিজেও এই সমাপ্তির কথা ভাবিনি। এটা উপন্যাসের নিজস্ব গতিতে, নতুন স্রোতের সাথে মিলেমিশে তৈরি হয়েছে। আমার করার কিছু ছিল না। শেষ করার পর ওটা একটা ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত হলো। আমার আশঙ্কা অমূলক প্রমাণিত করে পাঠক সাদরে বরণ করলো গল্পটাকে। জীবনের প্রথম ফিকশন নিয়ে আমি আনন্দিত। সেটাই শেষ নয়। পত্রিকায় প্রকাশের পরপর কয়েকজন প্রকাশক যোগাযোগ করলেন গ্রন্থাকারে প্রকাশ করার জন্য। আমি তখনো স্থির করিনি গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা উচিত হবে কিনা। কাকে দেয়া উচিত। গ্রন্থাকারে প্রকাশের জন্য উপন্যাসের পরিধি আরেকটু বাড়ানো দরকার। হাতে যথেষ্ট সময় ছিল। প্রকাশক ঠিক হবার পর সময় নিয়ে উপন্যাসটাকে চূড়ান্ত করলাম। খুব বেশি কাজ করার ছিল না। মাঝখানে বাদ দেয়া কিছু পর্বকে যোগ করা ছাড়া মূল গল্প অক্ষুন্ন আছে। ২০২৬ সালের বইমেলায় প্রকাশ হতে পারে। এখনো ঘোষণা করা হয়নি। প্রকাশকের কাজ শেষ হলে ঘোষণা আসবে। কিন্তু জীবনের প্রথম উপন্যাস প্রকাশের প্রাক্কালে নিজেকে প্রশ্ন করছি, উপন্যাসের কাজটা পাঠক কিভাবে গ্রহন করবে? আমার ৮টা বই প্রকাশিত হয়েছে গত কয়েক বছরে। সবগুলোই নন-ফিকশন। আমাকে ফিকশন লেখক হিসেবে পাঠক মেনে নেবে? এই জায়গাটা সত্যি খুব অনিশ্চিত। ইতিহাস লিখে যেটুকু সুনাম অর্জিত হয়েছে সেটা হুমকির মধ্যে পড়বে কিনা তাও ভাবতে হচ্ছে। আমার লেখক জীবনে এখনো পাঠকের কাছ থেকে কঠিন কোনো সমালোচনার মুখোমুখি হইনি। কমবেশি ভালো ভালো কথাই শোনা গেছে। আমার যোগ্যতার তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু ফিকশন লিখে সমালোচনার ধাক্কা সামলাতে হলে আমার আসল কাজগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আমার হাতে আরো দু-তিনটি কাজ রয়ে গেছে, যেগুলো শেষ করার পর লেখক জীবনের ইতি টানার কথা। সেই কাজগুলো ঠিক সময়ে করা যাবে কিনা এখন বলা যাচ্ছে না। এই বছরটা আরো অনিশ্চিত। অনেক কিছুই ঘটতে পারে। পত্রিকায় প্রকাশের সময় পাঠক যেভাবে সাদরে গ্রহন করেছে, গ্রন্থাকারে প্রকাশের পর যদি সেই সমাদর না করে তাহলে হতাশ হওয়া উচিত হবে? অনেক বড় লেখকেরাও নিজের উপন্যাস নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেন না। পাঠকের কাছ থেকে সবসময় সমাদর পান না। তাই বলে তারা লেখা থামিয়ে দেন?
আমার আশঙ্কা অন্য কারণে। আমি প্রথম উপন্যাসটি প্রকাশের আগেই আরেকটি উপন্যাসের কাজে হাত দিয়ে ফেলেছি। সেটিও এবার একটা পত্রিকার ঈদসংখ্যায় প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। ওই উপন্যাসের কথা তেমন কেউ জানে না। প্রকাশের আগে কাউকে বলতে চাই না। প্রথম উপন্যাস প্রকাশের পর সাড়া পাওয়া না গেলে লেখক নিশ্চিতভাবে চুপসে যাবেন। ঈদসংখ্যার উপন্যাসটা নিয়ে আশাবাদী হবার কোনো সুযোগ থাকবে না। কারণ সেই উপন্যাসটি ভিন্ন চরিত্রের হলেও ইতিহাস জড়িয়ে আছে প্রথমটার মতো। আকারে বড় না হলেও ইতিহাসের পরিমাণ প্রথমটার চেয়েও বেশি। পাঠক পরপর দুবছরে দুটো উপন্যাস কিভাবে হজম করবে?
অসন্তুষ্ট পাঠক যদি জিজ্ঞেস করে, আপনাকে দ্বিতীয় উপন্যাস লেখার আশকারা কে দিয়েছে?
আমি বলবো, ইতিহাস। এই ইতিহাসটা আমি নীরস তাত্ত্বিক উপায়ে উপস্থাপন করার বদলে গল্পের আশ্রয় নিয়েছি। গল্পটা বেড়ে গেলে উপন্যাসে রূপান্তরিত হয়েছে। সেই রূপান্তর কতটা সার্থক হলো সেটা বোঝার জন্য আরো দু’মাস অপেক্ষা করতে হবে। তার আগে নিজের জন্য একটা সান্ত্বনাবাক্য রেখে যাই।
"Ever tried. Ever failed. No matter. Try again. Fail again. Fail better."
— Samuel Beckett, Worstward Ho (1983)
Friday, February 6, 2026
দেশ, মানুষ, রাজনীতি বিবিধ ভাবনা
আগামী সপ্তাহে একটা নির্বাচন আছে। সেই নির্বাচন নিয়ে আমি দেশে আবারো নতুন করে একটা অস্থিরতার আশঙ্কা করছি।
গত পনের বছর নির্বাচনে শুধু আওয়ামী লীগ থাকতো। যেনতেন করে একটা নির্বাচন প্রহসন করে নিজেদের ক্ষমতা রিনিউ করতো। এবার তার শাস্তিস্বরূপ আওয়ামী লীগ নিজেই খেলা থেকে আউট। বাকী আছে বিএনপি, জামাত এবং অল্প কিছু ছোট দল। মূল খেলা বিএনপি এবং জামাতের মধ্যে। কে জিতবে?
অনুমান করা হচ্ছে বিএনপি জিতবে। কারণ দেশে ওদের সমর্থনই বেশি। দীর্ঘদিন ক্ষমতা বঞ্চিত দলটা। কিন্তু বিএনপির অনেক দুর্নাম আছে। দলটির সমর্থক থাকলেও সাংগঠনিক দুর্বলতা অনেক বেশি। সেই তুলনায় জামাত অনেক শক্তিশালী। তাই এবার জামাত জিতে যাবার সম্ভাবনা আছে। তার চেয়েও বড় কথা হলো জামাতের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক একটা গুজব শোনা যাচ্ছে। যদি ওটা সত্যি হয় তাহলে বিএনপি হেরে যাবে। জামাত সরকার গঠন করবে, বিএনপি বিরোধী দলের চেয়ারে বসবে। ব্যাপারটা কেমন শোনাচ্ছে? খুব অবাস্তব মনে হচ্ছে? মনে হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এরকম কিছু মেনে নেবার জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে।
জামাত ক্ষমতায় আসলে দেশে কী কী পরিবর্তন আসতে পারে? ওরা কথায় কথায় ইসলামী বিপ্লবের শ্লোগান দেয়। নির্বাচনে জিতলেও কী সেই শ্লোগান দেবে? আমার মনে হয় না। নির্বাচনে জেতার পর ওরা নানান ভুল ভ্রান্তি করতে শুরু করবে। এমনসব সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করবে যেগুলো সাধারণ মানুষের বিপক্ষে যাবে। মানুষ বিরক্ত হতে থাকবে। যারা এতকাল সরল বিশ্বাসে জামাতকে সমর্থন করেছিল তাদের সমর্থন হারাবে। সেই সুযোগে বিরোধী দলগুলো আবারো নতুন আন্দোলন শুরু করবে। আবারো অস্থির হবে দেশ।
এবার তৃতীয় একটা সম্ভাবনার কথা ভাবা যাক। আগামী সপ্তাহে যদি নির্বাচনটা না হয়? যদি এমন কিছু ঘটে নির্বাচন ভণ্ডুল হয়ে গেল, তাহলে?
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেবে। নতুন একটা সরকার গঠিত হতে পারে। সেই সরকারটা কাদের নিয়ে গঠিত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর একেবারেই অনিশ্চিত।
কিন্তু সাধারণ মানুষের চাওয়া দেশটা যাদের হাতেই থাকুক, দেশের অর্থনীতির চাকা যেন সচল থাকে। দেশে যেন কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি না হয়। হোক সেটা গৃহযুদ্ধ কিংবা প্রতিবেশিদের সাথে যুদ্ধ। আমাদের মতো পেটে-ভাতে খাওয়ার দেশে যুদ্ধের মতো ব্যাপার হলো অভিশাপ। যে অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর অনেক দেশ। স্পষ্ট করে বলতে গেলে মুসলিম দেশ। নিজেদের ভালো নিজেদের বুঝতে হয়। নইলে অন্য দেশের মোড়ল এসে আমার ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। যে আমি নানান টানাপোড়েনের মধ্যেও এখনো একটা শান্তির পরিবেশে মাথার ওপর ছাদওয়ালা বাড়িতে ঘুমাচ্ছি, সেটা থাকবে না। শরনার্থী জীবন বেছে নিতে হবে আফ্রিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মতো। সেই অভিশাপ থেকে বাংলাদেশ মুক্ত থাকুক।
২.
Tuesday, February 3, 2026
ইতিহাসের বর্জ্য
Saturday, January 24, 2026
সমাপ্তির আগে: লেখালেখি ইত্যাদি
১. প্রকাশিত
মাত্র একটা বই লিখে যার লেখক জীবনের সমাপ্তি টানার কথা ছিল তার যখন ৭টা বই প্রকাশিত হয়ে যায়, তখন একটা ছোট ভাবনা এসে উঁকি দেয়। এখনই থামার উপযুক্ত সময় কিনা। প্রত্যেক লেখকের একটা সোনালী অধ্যায় থাকে। সেই অধ্যায়টা শেষ হয়ে যাবার পর এমন কিছু পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে যেটা সুখকর হয় না। সময়মতো থামতে পারাও একটা কাজ। এখন আমার সেই যুগটা চলছে। এটার মেয়াদ বেশিদিন থাকবে না। সময় থাকতেই আমি থেমে যেতে চাই। প্রতিকূল সময় এসে থামিয়ে দেবার আগে। আমার লেখক সত্তা যেমন ছোট, যেমনি লেখালেখির বয়সও খুব সামান্য। মাত্র দুবছরে বাড়াবাড়ি কিছু বই প্রকাশ হয়ে গেছে। যদিও এই কাজগুলো গত এক দশক ধরে ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল। আরো কয়েকটা বাকী আছে। সেগুলো শেষ হবে কিনা এখনো বলা যাচ্ছে না। তার আগেই ভাবনাটা উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। বয়সটা আরো দশ বছর কম হলে হয়তো এমন ভাবতাম না। পেশাদার লেখক হবার ইচ্ছে থাকলেও সেটা বর্তমান বাস্তবতায় সম্ভব না। অতএব মানসম্মান নিয়ে কেটে পড়াই মঙ্গল মনে হচ্ছে। তার আগে একটু পেছনে ফিরে দেখা যাক।
লেখালেখির জীবনে ভাগ্য আমাকে কিছু আনুকূল্য দিয়েছিল শুরু থেকেই। ওটা না পেলে আমার লেখক হওয়া সম্ভব হতো না। এতগুলো বই(আমার জন্য ৭টা বই অনেক বেশি) প্রকাশ করা হতো না। বাজারে নতুন লেখক হলেও আমি কতগুলো ব্যাপারে পেশাদার লেখকের মতো আচরণ করেছি। তাতে আমার প্রকাশক পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারতো।
তখনো আমার জানা ছিল না বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠিত লেখক, যাদের বিশ-ত্রিশটা বই প্রকাশিত হয়েছে তারা কেউ রয়েলটি পায় না। এমনও আছে সৌজন্য কপিও পায় না। টাকা দিয়ে অধিকাংশ লেখক বই প্রকাশ করে। এই বিষয়গুলো সম্পূর্ণ অজানা ছিল। ওই জগতটাই সম্পূর্ণ অন্ধকার ছিল আমার কাছে। সাধারণ মানুষের কাছে এগুলো অন্ধকারই থাকে। আমি তাদেরই একজন। তবু প্রথম গ্রন্থ উপনিবেশ চট্টগ্রামের পাণ্ডুলিপি প্রকাশকের হাতে দেবার আগে যে কথাগুলো বলেছিলাম, তার সারমর্ম হলো- আমি যদিও অপরিচিত লেখক, তবু আমি বই প্রকাশের জন্য কোনো টাকাপয়সা খরচ করবো না। প্রকাশক যদি নিজ দায়িত্বে সব খরচ বহন করতে পারে তাহলে কাজটা দেবো। মনে রাখতে হবে এই প্রজেক্ট পুরোপুরি লস প্রজেক্ট হবে। কারণ আমি বইয়ের প্রচার-প্রচারণা তেমন করতে পারবো না। আমার চেনাজানা যারা আছে তাদের মধ্যে বড়জোর দশ বারোটা বই বিক্রি হতে পারে। ভালো করে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
পূর্বস্বরের মইনুল ভাই অদ্ভুত দুঃসাহসী একজন মানুষ। তিনি হাসিমুখে আমাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন- এই বইটা বিক্রি হতে দশ বছর লাগলেও আমার আপত্তি নেই। আমি একটা ভালো কাজ করতে চাই।
তিনি ভালো কাজের আশ্বাস দিলেও আমি ধারণা করিনি কতটা ভালো করতে পারবেন। বিশেষ করে বইয়ের শেষে যোগ করা ১৮১৮ সালের রঙিন মানচিত্রটা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। ওটা ব্রিটিশ লাইব্রেরি থেকে কেনা হয়েছিল, বইয়ের সাথে ফ্রি দেবো এই শর্তে। ওটা যদি অরিজিনাল প্রিন্ট না হয় তাহলে বিপদ। ২০১৯ সালে পাণ্ডুলিপি নেবার পরবর্তী দেড় বছর কাজ করে ২০২১ সালে বইটা যখন প্রকাশিত হলো তখন আমি সত্যি খুব অবাক হয়েছিলাম প্রকাশনার মান দেখে। সম্পাদনা, ছাপা, বাঁধাই, ছবি ইত্যাদি মিলিয়ে বাংলাদেশে এই মানের প্রকাশনা খুব কমই আছে। কথা ছিল একটা প্রকাশনা উৎসব হবে, কিন্তু করোনার ধাক্কায় সেটা বাতিল করতে হলো। তার বদলে তিনি লেখক কপির সাথে কেক আর ফুল নিয়ে বাসায় চলে এলেন। আমরা পারিবারিকভাবেই উদযাপন করলাম প্রকাশনা উৎসব।
তখনো জানা ছিল না পাঠক বইটা কিভাবে নেবে? লেখকের খুশিতে কিছু এসে যায় না। করোনার কারণে সব দোকানপাট বুকস্টোর বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু ফেসবুক পোস্ট দিয়ে অনলাইনে ডেলিভারির ব্যবস্থা আছে। আমি বলেছিলাম, ক্রেতা পাওয়া যাবে না, ২০০ কপি ছাপালেই যথেষ্ট। কিন্তু প্রকাশক প্রথম দফাতেই ৪০০ কপি ছাপিয়ে ফেললেন। তাই একটু দুর্ভাবনা আমার। প্রচ্ছদ দেখে এক অচেনা লেখকের বই কে কিনবে? আশ্চর্য ব্যাপারটা তার পরেই ঘটলো। সেই রুদ্ধশ্বাস করোনার সময়েও বইটার প্রচুর অর্ডার আসতে লাগলো প্রকাশকের কাছে। চার মাস পর শুনলাম প্রথম সংস্করণ শেষ। বিস্ময়ে আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। সেই সাথে আরো একটা ঘটনা ঘটলো। বই প্রকাশের মাস তিনেক পর একদিন সাহিত্য পত্রিকা শব্দঘর থেকে টেলিফোন আসলো। ওই পত্রিকায় আমি কখনো লিখিনি, ওরা আমাকে চেনেও না। কিন্তু কারো কাছ থেকে খোঁজ পেয়ে ওরা আমার বইটা সংগ্রহ করে ফেলেছে। তারপর ২০২১ সালে সেরা বই(ইতিহাস) হিসেবে নির্বাচিত করেছে।
এইসব অবিশ্বাস্য কাণ্ডের মধ্যে আমি পরের কয়েকটা কাজ শুরু করেছিলাম। উপনিবেশ চট্টগ্রামের কাজ করতে করতে আমি আরো চারটা প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছিলাম ভবিষ্যতের জন্য। সেগুলো আদৌ শেষ করতে পারবো কিনা নিশ্চিত ছিলাম না। কিন্তু লেখালেখি বা পড়াশোনার কাজের মধ্যে আমার সবসময় একটা আনন্দ কাজ করে। সেই আনন্দে পরের তিন বছরে সেই কাজগুলো শেষ করতে পেরেছিলাম। তারপর আরো নতুন প্রকল্পে হাত দিতে শুরু করি।
পরবর্তী বিস্ময় ছিল থাংলিয়ানা। কথাপ্রকাশ থেকে। বইটা প্রকাশিত হলো ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারীর শেষ সপ্তাহে। বইমেলা শেষ হতে মাত্র ৭ দিন বাকী তখন। যেদিন প্রকাশ হলো সেদিন সন্ধ্যায় প্রকাশক সূত্র থেকে জানলাম ঢাকার বইমেলায় পাঠানো ২০ কপি দুঘন্টার মধ্যে শেষ। পরদিন আরো ৩০ কপি পাঠানো হবে। পরদিন শুনলাম ওটাও শেষ। চট্টগ্রামে পাঠানো হলো কিছু কপি। সেগুলোর অবস্থাও একই। চারদিন পর শুনলাম প্রথম মুদ্রণ শেষ হচ্ছে। আরেকটা মুদ্রণ আসছে। মেলার শেষদিন ২য় মুদ্রণ চলে এলো। আমার মত অখ্যাত একজনের নন-ফিকশন অনুবাদ বই পাঠক এত পছন্দ করবে কল্পনাও করিনি। থাংলিয়ানা প্রথম প্রকাশের পর থেকে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৭ মুদ্রণ হয়েছে। এটা খুব আনন্দদায়ক ব্যাপার ছিল লেখক প্রকাশক দুই পক্ষেই।
প্রথম দুটো বইয়ের সফলতার গল্প পরের বইগুলোকেও স্পর্শ করেছে একে একে। প্রকাশিত ৭টি বইয়ের মধ্যে ৪টি বই এক বছরের অনধিক সময়ে ২ বা তিন মুদ্রণ হয়েছে। পাঠকের এই ভালোবাসা আমার জন্য অপরিশোধ্য ঋণ।
কিন্তু পাঠকের ভালোবাসায় আপ্লুত হবার পাশাপাশি এটাও ভাবতে হয় কেন পাঠক বইগুলো পছন্দ করেছে? শুধু বাংলাদেশ না। পশ্চিমবঙ্গের পাঠকদের কাছ থেকেও অভাবিত সাড়া পাওয়া গেছে। আমার কাছে যে বিষয়টা সবচেয়ে বিস্ময়কর লেগেছে কিছু কিছু আজব পাঠকের আচরণ। আমাকে একাধিক পাঠক নানা মাধ্যমে জানিয়েছেন তারা আমার সবগুলো বই কিনে ফেলেছেন। তাদের মধ্যে সাধারন পড়ুয়া ছাত্র যেমন আছে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীন অধ্যাপক শ্রেণীও আছেন। আমার মতো অখ্যাত লেখকের জীবনে এটার চেয়ে বড় পুরস্কার আর কিছু হতে পারে না। যে কোনো লেখকই এমন ঘটনায় আপ্লুত হবেন নিশ্চিত। কিন্তু কেন এমন ঘটেছে? আমি কি এমন কোনো নতুন বিষয় লিখতে পেরেছি? এরকম যে কোনো আত্মতুষ্টি বিব্রতকর। আমি পরিকল্পনা করে কিছুই লিখিনি। কী করেছি আসলে?
প্রথমত আমি চট্টগ্রামের ইতিহাস লিখতে চেয়েছি। একটা ধারাবাহিক ইতিহাস। সহজ ভাষায় লেখা হবে যেন পাঠক পড়তে গিয়ে হোঁচট না খায়। উপনিবেশ চট্টগ্রাম শেষ করতে গিয়ে অনেক হিমশিম খেয়েছি। মোটামুটি বড় বই। এক লাখ শব্দ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে কিছু কমিয়েছি। তারপর থাংলিয়ানা। পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিযান নিয়ে রোমাঞ্চকর একটা স্মৃতিকথা। অনুবাদ করে সম্পাদনা করে নিজের মতো যেভাবে সাজিয়েছি সেটাই পাঠক পছন্দ করে ফেলেছে। পরের বই বাতিঘর থেকে শরচ্চন্দ্র দাসকে নিয়ে। ইনি চট্টগ্রামের লোক হলেও তাঁর তিব্বত অভিযানটা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। ওটাও পাঠক গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। তারপর আবারো আরেকটা চট্টগ্রাম। চিৎ-তৌৎ-গং। আমার চট্টগ্রাম বিষয়ক কিছু লেখার সংকলন করেছে কথাপ্রকাশ। পাশাপাশি বাতিঘর থেকে প্রকাশ হয়েছে শেখ দীন মোহাম্মদ- বিলেতে প্রথম বাঙালি বণিক। ২০২৫ সালেই আরেকটি বই প্রকাশিত হয় মার্কেজের সাংবাদিক জীবন নিয়ে। স্ক্যান্ডাল অব সেঞ্চুরি। ২০২৪ এবং ২০২৫ এক বছরের মধ্যে এই ৫টা বই। তখন কাজ চলছিল ২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত্য রাজকীয় জলদস্যু বণিক সমিতি। বইমেলা নিয়ে সরকারের তাল-বেতাল দেখে প্রকাশক বইটা ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসেই প্রকাশ করে। আশাতীত জনপ্রিয় পেল এই বইটাও। এভাবে ৭টা বই হয়ে গেল। পাইপলাইনে আছে আরো দুটো বই। আমার হাতে লেখার বিষয়বস্তুও যথেষ্ট আছে। নতুন কিছু না লিখে পুরোনো লেখা দিয়ে প্রকাশ করা যাবে সেরকম তিনটি পাণ্ডুলিপি তৈরি আছে। তবু, তবু থেমে যাবার ভাবনাটা কেন আসছে?
কারণ মানুষ নিজের যোগ্যতার চেয়ে যখন বেশি কিছু পেয়ে যায়, তখন দিক হারায়, ভারসাম্য হারায়, নিজেকে নিজের ভেতর খুঁজে পায় না। আমি নিজের ভেতর অবশিষ্ট থাকতে থাকতেই সমাপ্তি টানতে চাই।
২. প্রকাশিতব্য( সম্ভাব্য অসম্ভব প্রকল্প)
একজন লেখক জীবদ্দশায় কতগুলো লেখা প্রকাশ করতে পারে সেটা তিনি জানেন না। এমনকি শেষ করে ফেলা প্রকল্পও অপ্রকাশিত থাকতে পারে। আমি এই জীবনে যা কিছু লিখেছি তার সবটা প্রকাশ করতে গেলে আরো দশটা বই হয়ে যাবে অনায়াসে। কিন্তু আমি তার সবটা প্রকাশ করতে চাই না। আগ্রহী প্রকাশক থাকা সত্ত্বেও করবো না। আমি কী কী প্রকাশ করতে চাই সেটা পুরোপুরি আমার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। এখন পর্যন্ত আমি সেটাই করেছি। কোনো প্রকাশক আমার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। আমিই ঠিক করেছি কোন প্রকাশককে কী লেখা দেবো। টাকার প্রলোভনের কাছে নিজের এই ইচ্ছেটা বিসর্জন দেইনি। আমার মতো নতুন অপরিচিত লেখকের জন্য এটা একটু দুঃসাহস। কিন্তু শুরু থেকে আমি এই নীতিতে অটল আছি। সম্ভাব্য অসমাপ্ত প্রকল্পের মধ্যে বড়জোর একটা প্রবন্ধ এবং অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশ হতে পারে। ছোটগল্পগুলোকে আমি পাঠকপ্রিয় ভাবতে পারছি না। বিক্রি না হলে প্রকাশক ক্ষতির মুখে পড়ে যাবে।
এখানে আরেকটা প্রশ্ন আছে। লেখালেখির ক্ষেত্রে প্রকাশিত হওয়া কতটা জরুরী। আমি প্রধানত আনন্দের জন্য লিখি। নতুন কোনো বিষয় শেখার জন্য লিখি। লিখতে লিখতে শেখা হয়ে যায়। এ যাবত যেসব বই প্রকাশিত হয়েছে তার সবই নতুন কিছু খুঁজতে গিয়ে বেরিয়েছে। আগে কেউ লিখে ফেলেছে তেমন কোনো বিষয় নিয়ে লেখার আগ্রহ আমার থাকে না। নতুন বিষয়বস্তু না পেলে আমি লিখি না। এখনও প্রতিনিয়ত তাই করি। থেমে যাবার আগ পর্যন্ত তাই করবো।
Thursday, January 15, 2026
আসন
ভদ্রলোককে দেখে আমি একটু চমকে উঠেছিলাম। আমাদের পরিচয় নেই। কিন্তু আমি তাঁকে চিনি। যে কারণে চিনি সেটা ভেবে মনটা খারাপ হয়ে গেল আমার। সুপারশপের কাউন্টারে তিনি আমার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি একা ছিলেন। বিল দিচ্ছিলেন একটা প্যাকেটের। আমার হাতে ছয়টা প্যাকেট ছিল। একই জিনিস। নিশ্চয়ই তিনি এখন নিঃসঙ্গ আছেন। নইলে হাতে চারটা প্যাকেট থাকতো। তাঁর পকেটে আমার চেয়ে বেশি টাকা। কিন্তু তাঁকে একটা প্যাকেট কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। আমার পকেটে টাকার টানাটানি। তাই ছয়টা কিনতে অনেক হিসেব করতে হচ্ছিল। তিনি অনায়াসে চার-ছয়-দশটা কিনতে পারেন। কিন্তু তাঁকে একটাই কিনতে হলো। ওই একটা প্যাকেটের নিঃসঙ্গতা আমাকে খুব গভীরভাবে স্পর্শ করছিল। আমি শুনেছি তিনি ভালো লোক নন। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে শোনা। তাঁর বক্তব্য শোনা হয়নি কখনো। এটা খুব অদ্ভুত ব্যাপার যে আজ এই কাউন্টারে তাঁর সাথে আমার দেখা হয়ে গেল। এবং তিনি জানেন না তাঁর পেছনে যে দাঁড়িয়ে আছে সে তার জীবনের কিছু গল্প জানে। তিনি আমাকে চেনেন না। চিনলে বিব্রত হতেন। আমি তাঁর সাথে পরিচিত হতে চাইনি। তাহলে তিনি লজ্জায় পড়ে যেতেন। আমি ওরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইনি। আমি যে সূত্রে তাঁর সম্পর্কে আবছা জানি, সেই সূত্র তাঁর জন্য খুব সংবেদনশীল। আমি পুরোটা জানি না। আংশিক জানি তিনি কেন একা। পুরোটা জানলে হয়তো তাঁকে আমার ভালো লাগতো না। অথবা উল্টোটাও ঘটতে পারতো। কিন্তু তাঁর সম্পর্কে আমাকে কেউ বলেনি। আমি কিভাবে জেনেছি সেটা একটু বিচিত্র ব্যাপার। অনুমানের সাথে প্রমাণ যুক্ত হবার পর আমি তাঁর পরিচয় উদঘাটন করেছি। বাইরে দেখে সব মানুষকে চেনা যায় না। যে আলো আমরা দেখি, তার পেছনে গভীর অন্ধকারও লুকোনো থাকে। আমার সাথে তাঁর কিছু সংখ্যাগত মিল আছে। যে কারণে একদিন আমি তাঁর জায়গায় গিয়ে বসে পড়েছিলাম। অনিচ্ছায় নয়, স্বেচ্ছায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে। ওই চেয়ারে তাঁরই বসার কথা ছিল। কিন্তু বসতে হলো আমাকে। তিনি সেটা জানেন না। যারা আমাকে বসিয়েছিল তারা নিশ্চিতভাবে ওটা বলবে না। আমি ওই আসনে দুই ঘন্টা সময় উপভোগ করেছি। গল্প করেছি। যাদের সাথে গল্প করেছি, আহার করেছি, তাদের সাথে তাঁরই বসার কথা। কিন্তু তিনি ওখানে ছিলেন না। তাঁকে ডাকা হয়নি। হয়তো তিনি তখন অবাঞ্ছিত ছিলেন। মানুষের জীবনে এমন অদ্ভুত কিছু মুহূর্ত আসে যখন সে অন্যের চেয়ারে বসে যায় অনায়াসে। অথচ যার বসার কথা সে জানতেও পারে না।
বাণী
১. একটা সময় তেলের সাথে ঘিয়ের তুলনা হতো, তারপর সরিষার তেল আর সোয়াবিন তেলের তুলনা, তারও পরে সোয়াবিন আর পাম অয়েলের তুলনা। আর আজকাল তুলনা নামতে নামতে দেশের এত উন্নতি হইছে ঘিয়ের সাথে গুয়ের তুলনাও করা হয়।
Tuesday, January 13, 2026
নির্বোধ ক্ষমতায় অন্ধ
ক্ষমতার সাথে নির্বুদ্ধিতার যোগফল মানবজাতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে এনেছে যুগ যুগ ধরে। এমনকি বিশ্বযুদ্ধও। গত এক শতকে আমরা বহুবার তার নজির দেখেছি। আবারো দেখার জন্য প্রস্তুত হয়েছি। বর্তমান পৃথিবীর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে যুদ্ধবাজ কিছু নির্বোধ দানব। আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে অনিশ্চিত অন্ধকার। বর্তমান পৃথিবীর প্রধান নির্বোধটির নাম ডোনাল ড্রাম্প। এই লোকটা একুশ শতকের হিটলার হিসেবে জন্ম নিয়েছে। পৃথিবীর সকল অশুভ শক্তির সাথে তার সম্পর্ক। বর্তমান সভ্যতার ধ্বংসের সূচনা তার হাত ধরেই ঘটতে পারে।
Thursday, January 8, 2026
হলো না, দেখা
চল্লিশ বছর আগে আমরা দুজন এত ঘনিষ্ঠ ছিলাম যে দিনে দুই বেলা আড্ডা না দিলে আমাদের ভাত হজম হতো না। আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনীর নয় নম্বর মাঠে প্রতিদিনের সান্ধ্য আড্ডা ছিল আমাদের প্রিয় স্মৃতিময় সময়। আশির দশক পেরিয়ে নব্বই দশকে সে ঢাকা চলে গেল পরিবারের সাথে। ঢাকা যাওয়ার পরও আমাদের আড্ডা পুরোপুরি কমেনি। সুযোগ পেলেই আমি ঢাকায় চলে যেতাম। ঢাকায় যাবার পর সে চাকরিতে ঢুকে পড়ে, আমি তখনো ভার্সিটি শেষ করিনি। নব্বই দশকের শুরুতে সে ফকিরাপুলে আলাদা বাসায় নেয় কয়েক বন্ধুর সাথে। সেই বাসাটা আমাদের ঢাকার ঠিকানা হয়ে ওঠে। বছরে কয়েকবার ঘুরে আসতাম গিয়ে। দু চারদিন আড্ডা দিয়ে স্বাদ মিটিয়ে আসতাম। আমি আরো কয়েকজন নিয়মিত। অনেক সময় ঢাকা যাওয়ার বাসভাড়া থাকতো না। কিন্তু ঢাকা পৌঁছাতে পারলেই হতো। সে আমার সব খরচ মিটিয়ে দিতো। আসার সময় ফিরতি ভাড়াও পকেটে ভরে দিতো। ভালো চাকরি করতো। দেদারসে খরচ করতো। ফকিরাপুলের বাসায় ওঠার আগে ঢাকা মেডিক্যাল হোস্টেলে রুম শেয়ার করতো। ফজলে রাব্বী হলের জেড-সিক্স নামের বিখ্যাত একটা কক্ষ ছিল। সেখানেই ওর ঠাঁই। আমাদের কয়েক ডাক্তার বন্ধুর তখন ছাত্রজীবন। সেখানেই কেটেছে আমাদের কিছু দিনরাত। বইমেলা শুরু হলে আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যেতো। স্টলে বসে আড্ডা দেয়া, মাঝরাতে বাসায় ফেরা। আমার তীব্র অভাবের সময় তখন। সে আমাকে ভরসা দিতো। একবার উত্তরবঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলাম। আমার পকেটে পঞ্চাশ টাকাও ছিল না। ওর খরচেই গিয়েছিলাম। সেই যাত্রায় আমার পকেটে একটা পাঁচশো টাকার নোট দিয়ে বলেছিল, এটা রাখ, যদি লাগে। আমার চোখ ভিজে গিয়েছিল। সে কিভাবে বুঝলো আমার কাছে টাকা নেই। ফেরিতে মাঝরাতে যমুনা নদী পার হচ্ছিলাম। কানে হেডফোনে সুমনের গান বাজছিল। হেডফোনটা রুপুর। সে আমাদের আরেক প্রিয় বন্ধু। দারুণ ছবি আঁকতো। ফকিরাপুলের সেই বাসাতেই থাকতো। নদীর জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর মাথার ওপরে একটা গোল চাঁদ এখনো চোখে ভাসছে। তিনবিঘা করিডোর ঘুরে চেঙ্গড়াবান্দা সীমান্তে রঙিন পানি খেয়ে ঢাকা ফিরেছিলাম দুদিন পর। কী অসাধারণ সময় ছিল সব। তারপর আমিও পাশ করলাম। চাকরিতে ঢুকলাম। এত ব্যস্ত চাকরি। তবু ঢাকা যাবার সুযোগ পেলেই দুজনে দেখা করতাম। আড্ডা দিতাম একটা বেলা। সে একটা বিদেশী কোম্পানির ঢাকার বড় কর্তা। সোনারগাঁও হোটেলের উল্টো দিকে একুশে টাওয়ারে অফিস। চট্টগ্রামে আসতো অফিসের কাজে। আসলে স্টেশন রোডের হোটেল মিসকার বিশাল কক্ষ নিতো আমাদের আড্ডার জন্য। সব বন্ধু গিয়ে জুটতাম। দেদারসে উপহার বিলাতো সব বন্ধুদের। কার্টুন ভর্তি শার্ট, টিশার্ট আরো কত কিছু। মৌমাছির মতো ভিড় করতো বন্ধুরা। বছরের পর বছর সেই আনন্দময় সময় কেটেছে। বিয়ে করলো, সংসার হলো। সেখানেও মিসকার আড্ডা জড়িত। আরো অনেক বছর পার হবে। তারপর একদিন কঠিন একটা রোগ ধরা পড়বে। আমরা দুজনই দীর্ঘ সময় পর জীবিকাচ্যুত হয়ে পড়েছি। বয়স বেড়েছে, শরীরে ক্ষয় ধরেছে। পকেটে টান পড়েছে। সংসারে চাপ বেড়েছে। জীবনের সম্পন্ন অধ্যায় পার হবার পর ‘নাই নাই’ হাহাকার অধ্যায় শুরু হয়েছে। তখনই সেই দুঃসংবাদ। তিন বছর কোনোমতে ধুঁকতে ধুঁকতে কেটে যাবার পর এসে গেল মাহেন্দ্রক্ষণ। গত দুমাস হাসপাতালের বিছানা আঁকড়ে আছে সেই সজীব প্রাণবন্ত হাসিখুশি বন্ধু। ওই হাসি আর কখনো দেখা হবে না আমাদের।
তোর অসুস্থতা আমাকে অপরাধী করে দেয় বারবার। কথা ছিল আমরা দুজন পরস্পরের বিপদে কাছে থাকবো। কিন্তু হলো না। আমি এক বিপদে চাটগাঁ আটকে আছি। তুই ঢাকার হাসপাতালে। আমাদের শেষ দেখা হবে না। ২০২০ সালের পর আমরা আর কখনো একসাথে বসার সুযোগ পাইনি। জীবন এমন। জীবন তেমন। দুমাস আগে তোর কথা বন্ধ হয়ে গেছে। শেষবার ফোনে কথা বলেছিলাম দুমাস আগে। সর্বশেষ পতনের আগে। বলেছিলি, আমরা বিশ-বাইশ বছরে জীবনকে কতভাবে উপভোগ করেছি। আর আমার ছেলেমেয়ে দুটো বাবার চিকিৎসার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হচ্ছে। ওদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। জীবন এমন কেন?
আমাকে ক্ষমা করিস। আমি পারলাম না। আমি নিজেও একটা অক্ষমতার জালে আটকে আছি। যতটা দরকার ছিল ততটা পারিনি। তোর সাথে শেষ দেখাটাও বোধহয় হবে না। তোর ছেলে-মেয়ে আমাকে বলেছে আমার নাম শুনলে তুই এখনো চিনতে পারিস। মুখ ফুটে কিছু বলতে পারিস না। শুধু নীরব অশ্রু ঝরে চোখ থেকে। ওখানে কী ভাষা থাকে আমি কখনো জানতে পারবো না। মিসকার দিনগুলো মনে আছে? ফকিরাপুলের রাত জাগা কিংবা শহীদ মিনারের উল্টো দিকে পামগাছ দুটোর নীচে চায়ের স্টলের আড্ডা? বইমেলা? জেড-সিক্স? সিটি কলেজ? মসজিদ মার্কেট, নয় নম্বর মাঠ, হাসপাতালের সিঁড়ি, পাওয়ার হাউসের আড্ডা। সব তো নেই হয়ে গেছে। আমাদের মধ্যে কে আগে যাবে জানার উপায় নেই। আরো কয়েকজন চলে গেছে করোনার সময়। যারা টিকে গেছে তারা এখন যাবে, একের পর এক পালা আসবে।
আমি অনেক দিন ঢাকা যাই না। ২০২০ সালের পর একবারও যাইনি। তুই অচল হয়ে পড়ার পর আমার ঢাকা যাওয়ার ইচ্ছে উবে গেছে। ঢাকায় আমি একা চলতে পারি না। পথ হারিয়ে ফেলি। তুই আমার একমাত্র পথপ্রদর্শক ছিলি। তুই না থাকলে আমি কোথায় হারিয়ে যাবো, সেই ভয়ে আমি ঢাকা যাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। আমি জানি তুই শুনলে হাসবি। কিন্তু তুই ছাড়া ঢাকা আমার কাছে অর্থহীন। আমি একটা অর্থহীন শহরে কেন যাবো? আমাকে প্রকাশক সম্পদক লেখক সবাই অনুরোধ করে। একবার গিয়ে যেন তাদের সাথে বসি। কিন্তু আমার এক ফোঁটা ইচ্ছা করে না। আমি এখানে বসেই সব কাজ করি। এখান থেকেই যতটুকু পারা যায়। ঢাকা না গেলে নাকি বড় লেখক হওয়া যায় না। আমার হবার দরকার নেই। তুই ভালো থাকলে আমার বড় লেখক হবার সুযোগ ছিল। তুই এখন এইসবের উর্ধ্বে উঠে গিয়েছিস। আমি একটা দুঃসংবাদের আশঙ্কায় বসে আছি। কিন্তু তোর নাম্বারে আর কখনো ফোন করবো না এটা জেনে গেছি। আমরা বিদায় বলবো না। পরের ট্রেনেই হয়তো উঠে পড়বো। কে জানে?
[৮-০১-২০২৬]
** অল্প কিছু সৌভাগ্যবান বাদে মানুষের জীবনের শেষ সময়টা কঠিন। যাদের দীর্ঘদিন কঠিন অসুখে ভুগে ধুকতে ধুকতে পার করতে হয়। মনে হয় ৫৭ বছর এমন কি বয়স। অথচ সেই সাতান্নতেই তুই পুরোপুরি ধ্বসে পড়লি। বিছানায় দিনের পর দিন যে যন্ত্রণাকাতর সময় কাটছে, তার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়। এমন যন্ত্রণা হলে আমি পরিবারকে বলতে চাইতাম, একটা দীর্ঘ ঘুমের ওষুধ দিয়ে আমাকে চিরঘুমের দেশে পাঠিয়ে দাও। তোমরাও মুক্তি পাও, আমারও মুক্তি হোক। কিন্তু যখন আমাদের বাকশক্তি রহিত হয়ে যায়, আমরা মুখ ফুটে কিছু বলতে পারি না, তখন কাকে কিভাবে বলবো। প্রিয় সন্তান, পরিবারকে ছেড়ে কে চলে যেতে চায়। তবু মনে হয় চলে যাওয়াই বুঝি ঢের ভালো। এভাবে নিদারুণ যন্ত্রণায় কতটা সহ্য করে বেঁচে থাকা যায়। সব আশা ফুরিয়ে আসছে। সবাই সময় গুনছে। প্রতিদিন। প্রতিদিন....
[৭-৩-২০২৬]