১. সুখ একটি অস্থায়ী আপে্ক্ষিক বিষয়।
২. মানুষ তার বর্তমান সুখকে বর্তমান সময়ে উপলব্ধি করতে পারে না। আমরা যখন ভবিষ্যতে পৌঁছাই, তখন ফেলে আসা বর্তমানের জন্য দীর্ঘশ্বাস ফেলি, অথচ বুঝতে পারি না যে সেই মুহূর্তটিই ছিল আমাদের জীবনের সর্বোচ্চ সুখ।
৩. সুখের পূর্বশর্তসমূহ: সপরিবারে শারীরিক আর মানসিক ভাবে সুস্থ থাকা । জীবিকার একটা নিরুপদ্রপ ও নিয়মিত উৎস থাকা। বসবাসের জন্য একটা সুসমন্বিত বাসস্থান থাকা। ব্যাংকে এমন পরিমান নগদ টাকা থাকা যেখান থেকে মাঝে মধ্যে কিছু খসিয়ে নিলেও টান পড়ে না। একটা কিছু স্থায়ী সম্পদ যেটা ভবিষ্যত প্রজন্মকে কিছুটা ভরসা দিতে পারে।
৪. আনন্দ একটি কল্পনা। মানবজাতির এই ব্যাপারটি খুব অদ্ভুত এবং বৈচিত্রময়। জগতের আর কোন প্রাণীর এই সুবিধা নাই। কল্পনা ব্যাপারটা এমন যে আমার যা আছে তা নিয়ে যেমন আমি সুখী হতে পারি, আমার যা নেই তা নিয়েও আমি সুখী হতে পারি। সব থেকেও অনেকে সুখী নয়। কেন? কারন তার যে আছে সেটা নিয়ে সে কল্পনায় মাতে না, কল্পনা ভোতা হয়ে গেছে সব পেয়ে। এরকম নানান উপাদানে মানুষ সুখী হতে পারে। এর সবই কল্পনা। ব্যাপারগুলো আমার থাকলেই হবে না। সেটা নিয়ে কল্পনা চালু থাকতে হবে। একটার পর একটা সুখের কল্পনা যদি ধারবাহিকভাবে চলতে থাকে তাহলেই মানুষ নিরন্তর সুখীজীবন কাটাতে পারে। উপরে যেসব সুখের উপাদান বলেছি তার বাইরে আরো অনেক আছে। থাকলেই হবে না। ওগুলো নিয়ে মাথার মধ্যে খেলা করতে হবে সময়ে অসময়ে। রাতে যখন ঘুম আসে না তখন সুখের বিষয় নিয়েই মাথা খেলাতে হয়। মানবজীবনের এই সুবিধা সবার থাকে না। আমি বলছি তাদের জন্য যাদের এই সুখের উপাদানগুলো আছে।
৫. টাকা আসে তেমন কিছু না করলে জীবনটা অর্থহীন। মানুষকে টাকার জন্যই কাজ করতে হবে, এটাতেই সমাজ আমাদের বাধ্য করতে চায়। আমি সেই নিয়ম ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে চাইছি। আমি বলছি, যদি তোমার বেঁচে থাকার মতো সঙ্গতি থাকে, পরিবারকে খাওয়া পরার নিশ্চয়তা দেবার মতো সঞ্চয় থাকে, তাহলে তুমি টাকার জন্য কাজ না করে আনন্দের জন্য কাজ করো।
৬. মানুষের আয়ু সীমিত। আমি যদি গোটা জীবনটা উপার্জনের জন্য বিলিয়ে দেই তাহলে আমার জ্ঞানার্জনের কোন পথ থাকবে না।
৭. আয় করলেই একটা মানুষের জীবনের লক্ষ্য পূর্ণ হয়ে যায়? এর বাইরের জীবনটা কেন? অধিকাংশ মানুষ টাকার জন্য বাঁচে। বেঁচে থাকার টাকা। টাকা দিয়ে বেঁচে থাকা যায়, বেঁচে থাকার পর যদি উদ্ধৃত্ত সময় থাকে সেই সময়টাকে কেন কাজে লাগানো হবে না?
৮. টাকা দিয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা যায় না। বেঁচে থাকার সময় টাকাটা কাজে লাগে। মৃত্যুকে ঠেকাতে টাকা বড়জোর কিছু সময় বিলম্বিত করতে পারে। আর কিছু না।
৯. মানুষ একটি কুযুক্তি সম্পন্ন জীব। বাঙালীরা কখনো খারাপ কাজ করে না। এরা যে যাই করে সবই সঠিক। এখানে কোথাও কোন ভুল নেই। চোর চুরি করার পেছনে যুক্তি আছে, ডাকাত ডাকাতি করার পেছনে যুক্তি আছে। এখানে 'আমি' সব ভালো কাজ করি, খারাপ কাজ যা করে তা করে 'ওরা'।
১০. মানুষ সবসময় স্বগোত্রীয়দের সাথে সহজ থাকে। মানুষ হিসেবে না, আর্থিক স্বগোত্রীয়দের সাথে। মানুষ খুব স্বার্থপর প্রাণী। যাদের সাথে আর্থিক অবস্থানের পার্থক্য বেশি তাদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখে।
১১. যে তোমার জন্য অপেক্ষা করে সে তোমাকে ভালোবাসে। যে তোমাকে অপেক্ষা করায় সে ভালোবাসে না, বড়জোর করুণা করে।
১২. গিরাবিহীন মানুষ কি সোনার পাথর বাটি? প্রত্যেক মানুষের জীবনেই এক বা একাধিক গিরা আছে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের গিরাকে নিয়ে চিন্তিত। ভাবে, আহা এই গিরাটা যদি ছুটে যেতো, আমি মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে যেতাম। কিন্তু একটা গিরা ছুটলে আরেকটা গিরা যুক্ত হয়। এইটা বোধহয় বিশ্ববিধাতার নির্মান প্ল্যান। গিরা ছাড়া কোন বান্দা দুনিয়াতে থাকতে পারবে না। গন্ধম খাবার শাস্তি এই গিরাগুলো। কিন্তু সব আদমের গিরা একরকম না। কোন কোন আদম আছে পেটের খিদার গিরায় আটকানো। প্রত্যেক বেলায়ই তার গিরা। খিদা লাগলেই গিরা লাগে। দুপুরে খাবার পর চিন্তা করতে হয় রাতের খাবার কেমনে জুটবে। রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাবার আগে ভাবতে হয় সকালে কি জুটবে। এটা হচ্ছে সবচেয়ে ক্রিটিকাল গিরা।
১৩. প্রয়োজনের অধিক আয়ুষ্কাল লাভ করা একটা অভিশাপ। ... আমি পরনির্ভরশীল আগেই মৃত্যুবরণের পক্ষপাতি। সেটা আর্থিক পরনির্ভরশীলতা হোক বা শারিরীক পরনির্ভরশীলতা হোক।
১৪. মানুষের সুখের মূল ভিত্তি তিনটি—আর্থিক স্বচ্ছলতা, শারীরিক সুস্থতা এবং পারিবারিক শান্তি। কিন্তু অপ্রিয় বাস্তবতা হলো, এই তিনটির সহাবস্থান কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না; যেকোনো একটি নড়বড়ে হলেই সুখের দিন নিমেষে শেষ হয়ে যায়।
১৫. জীবন নিয়ে কখনো অতিরিক্ত গর্ব বা অহংকার করা উচিত নয়। বড়জোর ক্ষণিকের জন্য আত্মতৃপ্ত হওয়া যেতে পারে ।
১৬. মানুষের জীবনে এক অদ্ভুত সমীকরণ কাজ করে; যখন মানুষ স্বচ্ছলতার দিনে এসে দাঁড়ায়, তখন তাঁর কাছে ফেলে আসা দারিদ্রের কঠিন স্মৃতিগুলোও মধুর মনে হতে শুরু করে।
১৭. মানুষ টাকার জন্য জীবনভর যতই হাহাকার করুক না কেন, মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা সবাই অত্যন্ত অসহায়। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের অপেক্ষায় যখন নাকে-মুখে পাইপ দিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়, তখন কোনো টাকাপয়সাই আর কাজে আসে না।
১৮. তীব্র শারীরিক অসুস্থতার চেয়ে অভাব অনেক কম যন্ত্রণাদায়ক। অভাবের দিনে মানুষ কেবল তিন বেলা খাবারের চিন্তায় অস্থির থাকে, কিন্তু ধনী ও স্বচ্ছল মানুষদের ঘরে টাকা আসার সাথে সাথে হানা দেয় বড় বড় রোগ। এ দেশে যার যত টাকা, তার তত রোগ; কারণ স্বচ্ছল মানুষেরা জীবনযাত্রায় ও খাদ্যাভ্যাসে অন্ধভাবে পশ্চিমা সভ্যতার দিকে তাকিয়ে থাকে।
১৯. সরল ও সৎ পথে থেকে যারা জীবিকা অর্জন করে, তারা জীবনে কখনো অনেক সম্পদ জমাতে পারে না। আর সমাজ এই রুঢ় সত্যটা মনে করিয়ে দেয় যে—মানুষ দরিদ্রদের কখনোই পছন্দ করে না ।
২০.মানুষ কত বড় ভণ্ড হতে পারে তা ভাবলে অবাক হতে হয়। আমরা জীবনভর অজস্র পাপকর্মে লিপ্ত থেকেও অবচেতনভাবে আশা করি যে মৃত্যুর পর লোকে আমাদের "খুব ভালো মানুষ ছিল" বলে স্মরণ করুক।
২১. কোনো মানুষ যদি নিজের কাছে নিজে সৎ থাকতে না পারে, তবে সে ধীরে ধীরে মানুষের খোলস থেকে অমানুষে পরিণত হয়।
২২. আমাদের বর্তমানের স্বাচ্ছন্দ্য অনেক সময় পূর্বপুরুষের নেওয়া কোনো প্রাচীন সিদ্ধান্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। তারা নিজেরাও হয়তো জানতেন না যে তাঁদের নেওয়া ছোট্ট সিদ্ধান্তটি ভবিষ্যতে পরবর্তী প্রজন্মের গতিধারা ও জীবনকে কতটা আলোকিত করে যাবে।
২৩. পারিবারিক গুরুদায়িত্ব ও জীবনের কঠিন বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ করতে করতে মানুষ একসময় নিজের অজান্তেই তার সমস্ত স্বপ্ন ও আকাঙ্খার ডানা হারিয়ে ফেলে; সহজ কথায়, মানুষ তখন "উড়তে ভুলে যায়"।
২৪. সময়কে অস্বীকার করে পৃথিবীতে কোনো মানুষ কোনোদিন টিকে থাকতে পারেনি। সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, জীবনের বেশিরভাগ সময় যারা কেবল বেঁচে থাকার কঠোর সংগ্রাম করে কাটায়, তারা শেষপর্যন্ত সুখের মুখ দেখার ঠিক আগেই পৃথিবী থেকে টুপটাপ ঝরে যায়।
২৫. সন্তানদের পাশে একজন পিতার জীবিত ও সুস্থ থাকাটাই যেকোনো চাকরি বা অর্থের চেয়ে সবচেয়ে বড় ভরসা ও সুখের বিষয়।
২৬. একটা সময় তেলের সাথে ঘিয়ের তুলনা হতো, তারপর সরিষার তেল আর সোয়াবিন তেলের তুলনা, তারও পরে দেখলাম সোয়াবিন আর পাম অয়েলের তুলনা। আর আজকাল তুলনা নামতে নামতে দেশের এত উন্নতি হয়েছে যে ঘিয়ের সাথে গুয়ের তুলনাও করা হয়।
No comments:
Post a Comment