আমার জীবনে আমি মাত্র তিনবার ভোট দিয়েছি। তিনবারের অভিজ্ঞতায় আমি উপলব্ধি করেছি বাংলাদেশে নির্বাচন বা গণতন্ত্র নামের যেটাকে গেলানো হয় সেটা একটা প্রহসন। নির্বাচনের আগে আমাকে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার একটাও পালিত হয়নি। ফলে আমি প্রতারিত বোধ করেছিলাম। অতঃপর আমি ব্যক্তিগতভাবে বাকী জীবনের জন্য একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমি আর কখনো বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনে অংশ নেবো না। গত দেড় যুগ আমি সেই সিদ্ধান্তে অটল আছি। ভবিষ্যতেও থাকবো। আমি বিশ্বাস করি ভোট দেয়া যেমন একটা অধিকার, তেমনি না দেয়াও একটি নাগরিক অধিকার। আমাদের দেশে যারা নির্বাচনে দাঁড়ায় তারা যত ভালো মানুষই হোক না কেন, ভোটের সময় তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমনসব প্রতিশ্রুতি কিংবা বাণী দিতে থাকে, সেটা ভোটার তো বটেই তাদের নিজের কাছেও আত্মপ্রতারণার সামিল। এবারের নির্বাচন তো আরো জটিল। এখানে মিথ্যার ছড়াছড়ি আরো অনেক বেশি। যখন যেদিকে সুবিধা হচ্ছে সেরকম প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জটিল বিষয় হলো গণভোট। এটা থেকে মানুষ কি পাবে সেটা নিজেরাও জানে না। যারা ভোট দিতে বলছে তারাও বোঝে কিনা সন্দেহ আছে। কিন্তু এদেশে গণভোটের ইতিহাস বলে সবসময় হ্যাঁ ভোট জেতে। এবারও তাই হতে পারে। সাধারণভাবে গণভোটের অন্তর্নিহিত বার্তা হলো আয়োজককে হ্যাঁ বলুন। এবার আর অন্তর্নিহিত বার্তা নেই। সরাসরি হ্যাঁ ভোট দিতে বলা হচ্ছে আয়োজনকদের পক্ষ থেকে। সেই সুযোগ তাদের আছে। সুতরাং এখানে হ্যাঁ জিতুক, কিংবা না জিতুক, আমাদের মতো নির্দলীয় মানুষদের কোনো লাভ নেই। যারা ক্ষমতা নিয়ে কাড়াকাড়ি করবে এটা তাদের ইস্যু। কিন্তু এই নির্বাচন নিয়ে আমার মতো সাধারণ মানুষদের একটাই আশাবাদ। যে দলই জিতুক, যে দলই ক্ষমতায় আসুক, পুরো প্রক্রিয়াটা যেন শান্তিপূর্ণ হয়। মানুষের জীবন যেন নিরাপদ থাকে। দেশের অর্থনীতির চাকা যেন সচল থাকে। দেশটা সিঙ্গাপুর হবার দরকার নাই, মানুষ কাজকর্ম করে দুটো খেতে পাবে, ওই সুযোগটা যেন অব্যাহত থাকে।
No comments:
Post a Comment