আমরা যতক্ষণ বেঁচে থাকি স্বার্থপরের মতো জীবন কাটাই। এটা অনিবার্য এক স্বার্থপরতা। টিকে থাকার জন্য প্রাণীসুলভ স্বার্থপরতা। জগতের সব প্রাণী এই স্বার্থপরতা নিয়ে টিকে থাকে। মানুষ একটু ব্যতিক্রম। বন্ধু স্বজন ভালো না থাকলে সেও ভালো থাকে না। বিষন্নতা গ্রাস করে তাকে। সেও একটু একটু ক্ষয়ে যেতে থাকে। কিন্তু যার দায়িত্বে একটা পরিবার আছে তাকে এসব গ্রাস করলে চলবে না। টিকে থাকার জন্য তাকে স্বার্থপর হয়ে, অনেক কিছু ভুলে প্রতিদিন বাঁচতে হয়। গ্লাণি, অপরাধবোধ এসব তখন কাজ করবে না। প্রতিটি প্রাণী আসলে নিজেকেই ভালো রাখতে চেষ্টা করে। নিজের জন্যই বাঁচে। সে যতক্ষণ বাঁচুক।
প্রবোধ দেবার চেষ্টা করছি না। কিন্তু এই সান্ত্বনাবাক্য কেবল নিজের জন্যই খাটে। কারণ যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ। কঠিন অবস্থায় পড়ে গেছে আমার প্রিয় কয়েকজন মানুষ। পরিবার এবং পরিবারের বাইরে। একসময় নাম ধরে বলতাম, অমুক ভালো নেই, তমুকের এই সমস্যা। এখন সংখ্যাটা এত বেশি হয়ে গেছে, আর নাম বলা যাচ্ছে না। তখন নিজের সমস্যাকে খুব তুচ্ছ মনে হয়। মনে হয় এখনো তো পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়িনি। এখনো যুদ্ধ করতে পারছি। প্রতিদিনের যুদ্ধে যে মানসিক ও শারিরীক শক্তি দরকার, সেটা এখনো তো আছে। এখনো তো বলতে পারছি, লিখতে পারছি।
যেদিন ‘ভালো নেই’ কথাটা আর লিখতে পারবো না, সেদিনই শেষ। লেখক জীবন এবং বাস্তব জীবন, দুটোই।
No comments:
Post a Comment