Sunday, February 22, 2026

নির্বাচন এবং অতঃপর

১২ ফেব্রুয়ারী তারিখে নির্বাচনটা হয়ে গেল। কমিশন সূত্রমতে ৬০ ভাগ মানুষ ভোট দিয়েছে। আমি দুটো ভোটকেন্দ্রে গিয়েছি। লোকজনের ভিড় দেখিনি তেমন। ভোট সুষ্ঠু হয়েছে বলেই মনে হয়েছে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। একদল মানুষ জামাতকে ক্ষমতায় বসাতে মরিয়া ছিল। আরেকদল জামাতকে ঠেকাতে মরিয়া ছিল। দুই পক্ষের চেষ্টা শান্তিপূর্ণ ছিল। তেমন দাঙ্গাহাঙ্গামা হয়নি। দুয়েকটা বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া ভালোই হয়েছে নির্বাচন। অবশেষে ২১২ আসন নিয়ে বিএনপি জোট সরকার গঠন করেছে। ৭৭ আসন নিয়ে জামাত বিরোধী দলে বসেছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ বলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। না হলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো। যাই হোক, এখন আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে যাবে?


বিএনপি ক্ষমতা নেবার পর প্রগতিশীল ফ্রন্টে আনন্দের বন্যা। কেননা গত দেড় বছর তাদের জন্য একটা অস্বস্তিকর সময় ছিল। দেশে কারো কোনো নিয়ন্ত্রন ছিল না। মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ জঙ্গীবাদী দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। প্রতিদিন নানান হুংকার শোনা যেতো। পারলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে এমন হৈ হল্লা। একদল উন্মাদের হাতে পড়ে গিয়েছিল দেশটা। এখন পাগলের দল গর্তে ঢুকে পড়েছে আপাতত। আবারো সুযোগ পেলে মাথাচাড়া দেবে। দেশ সবসময় মধ্যপন্থীদের হাতে নিরাপদ, এটাই প্রমাণিত। আমরা কখনোই উগ্রতার পক্ষে ছিলাম না। উগ্রতা একটা দেশকে কি বানিয়ে ফেলে সেটা সিরিয়া বা আফগানিস্তানের দিকে তাকালে বোঝা যায়।


কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই। আমাদের চারপাশে জটিল ভূ-রাজনীতির খেলা। আমেরিকা-রাশিয়া-চীন-ভারত প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ আছে। সেই স্বার্থে আঘাত লাগলে নির্বাচিত সরকারও নিরাপদ থাকে না। আপাতত রাজনৈতিক অঙ্গন শান্ত হয়েছে। এটাও সাময়িক। ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যাবে কদিন পরেই। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে সেটা বোঝা যাচ্ছে।


সবচেয়ে স্বস্তির কথা হলো একটা ব্যর্থ অথর্ব সরকারের বিদায়। আঠারো মাসে কাজের কাজ কিছু করতে না পারলেও অপকর্মের পরিমাণ নেহায়েত কম নয়। অনেক দেশ বিরোধী চুক্তিটুক্তি করেছে। এমন কিছু ঝামেলা রেখে গেছে যেগুলা এই সরকারকে ভোগাবে। দেশের কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে তাদের এগিয়ে আসতে দেখিনি। অদ্ভুত একটা নীরবতা ছিল যে কোনো অরাজকতার সময়। ড. ইউনুসকে নিয়ে আমি সবচেয়ে হতাশ হয়েছি। আমি রীতিমত প্রতারিত বোধ করেছি তাঁর কাজকর্ম দেখে। দেশের কোনো সংকটে তাঁর হস্তক্ষেপ দেখিনি।


No comments: