Friday, February 6, 2026

দেশ, মানুষ, রাজনীতি বিবিধ ভাবনা

 রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামানো ছেড়ে দিয়েছি বহু বছর আগে। এই দলকানাদের দেশে রাজনীতির মাঠে বিচরণ করে ভণ্ড আর বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরা। কিন্তু দেশ নিয়ে মাঝে মাঝে ভাবতে বাধ্য হই। কারণ দেশের সাথে আমার অস্তিত্বের প্রশ্ন আছে। আমাদের জীবন একরকম কেটে গেছে। এখন আমার সন্তানদের পালা। ওদের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে এইসব ভণ্ড আর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী রাজনৈতিক কর্মীদের কারণে। আমি নিশ্চিত সংখ্যায় তারা বেশি নয়, কিন্তু তাদের দাপটে সারা দেশ কাঁপে। কারণ তারা শক্তি প্রয়োগে নিজ নিজ মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। মতবাদেরও কোনো ঠিক নেই। নিজেই নিজের মতবাদের বিপরীত আচরণ করে। যে আচরণ অন্য দলের কাছ থেকে অন্যায় বলে মনে করা হয়, নিজেরাই আবার সেই আচরণ করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। সুবিচার বা ন্যায়বিচার এই কথাগুলো সত্য হয় তখনই, যখন সেটা নিজের পক্ষে যায়। টিভি, পত্রিকা কিংবা সোশাল মিডিয়াতে যতটুকু দেখা যায় তাতে মনে হয় আমাদের জীবনটা আর কখনো শান্তির দেখা পাবে না। প্রতিটি দলই পরস্পর মারমুখী। কেউ কাউকে সহ্য করছে না। 

আগামী সপ্তাহে একটা নির্বাচন আছে। সেই নির্বাচন নিয়ে আমি দেশে আবারো নতুন করে একটা অস্থিরতার আশঙ্কা করছি।

গত পনের বছর নির্বাচনে শুধু আওয়ামী লীগ থাকতো। যেনতেন করে একটা নির্বাচন প্রহসন করে নিজেদের ক্ষমতা রিনিউ করতো। এবার তার শাস্তিস্বরূপ আওয়ামী লীগ নিজেই খেলা থেকে আউট। বাকী আছে বিএনপি, জামাত এবং অল্প কিছু ছোট দল। মূল খেলা বিএনপি এবং জামাতের মধ্যে। কে জিতবে?

অনুমান করা হচ্ছে বিএনপি জিতবে। কারণ দেশে ওদের সমর্থনই বেশি। দীর্ঘদিন ক্ষমতা বঞ্চিত দলটা। কিন্তু বিএনপির অনেক দুর্নাম আছে। দলটির সমর্থক থাকলেও সাংগঠনিক দুর্বলতা অনেক বেশি। সেই তুলনায় জামাত অনেক শক্তিশালী। তাই এবার জামাত জিতে যাবার সম্ভাবনা আছে। তার চেয়েও বড় কথা হলো জামাতের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক একটা গুজব শোনা যাচ্ছে। যদি ওটা সত্যি হয় তাহলে বিএনপি হেরে যাবে। জামাত সরকার গঠন করবে, বিএনপি বিরোধী দলের চেয়ারে বসবে। ব্যাপারটা কেমন শোনাচ্ছে? খুব অবাস্তব মনে হচ্ছে? মনে হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এরকম কিছু মেনে নেবার জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে।

জামাত ক্ষমতায় আসলে দেশে কী কী পরিবর্তন আসতে পারে? ওরা কথায় কথায় ইসলামী বিপ্লবের শ্লোগান দেয়। নির্বাচনে জিতলেও কী সেই শ্লোগান দেবে? আমার মনে হয় না। নির্বাচনে জেতার পর ওরা নানান ভুল ভ্রান্তি করতে শুরু করবে। এমনসব সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করবে যেগুলো সাধারণ মানুষের বিপক্ষে যাবে।  মানুষ বিরক্ত হতে থাকবে। যারা এতকাল সরল বিশ্বাসে জামাতকে সমর্থন করেছিল তাদের সমর্থন হারাবে। সেই সুযোগে বিরোধী দলগুলো আবারো নতুন আন্দোলন শুরু করবে। আবারো অস্থির হবে দেশ।

এবার তৃতীয় একটা সম্ভাবনার কথা ভাবা যাক। আগামী সপ্তাহে যদি নির্বাচনটা না হয়? যদি এমন কিছু ঘটে নির্বাচন ভণ্ডুল হয়ে গেল, তাহলে?

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেবে। নতুন একটা সরকার গঠিত হতে পারে। সেই সরকারটা কাদের নিয়ে গঠিত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর একেবারেই অনিশ্চিত।

কিন্তু সাধারণ মানুষের চাওয়া দেশটা যাদের হাতেই থাকুক, দেশের অর্থনীতির চাকা যেন সচল থাকে। দেশে যেন কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি না হয়। হোক সেটা গৃহযুদ্ধ কিংবা প্রতিবেশিদের সাথে যুদ্ধ। আমাদের মতো পেটে-ভাতে খাওয়ার দেশে যুদ্ধের মতো ব্যাপার হলো অভিশাপ। যে অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর অনেক দেশ। স্পষ্ট করে বলতে গেলে মুসলিম দেশ। নিজেদের ভালো নিজেদের বুঝতে হয়। নইলে অন্য দেশের মোড়ল এসে আমার ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। যে আমি নানান টানাপোড়েনের মধ্যেও এখনো একটা শান্তির পরিবেশে মাথার ওপর ছাদওয়ালা বাড়িতে ঘুমাচ্ছি, সেটা থাকবে না। শরনার্থী জীবন বেছে নিতে হবে আফ্রিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মতো। সেই অভিশাপ থেকে বাংলাদেশ মুক্ত থাকুক।


 





No comments: