Sunday, January 1, 2012

ডাক্তারের উপ্রে মাষ্টারি

ডাঃ শামশের উদ্দিন(ছদ্মনাম) দেশের নামকরা একটা মেডিক্যাল কলেজের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক। প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখেন সন্ধ্যা ছটা থেকে। এক সন্ধ্যায় সিরিয়াল নিয়ে গেলাম চেম্বারে। ঘনিষ্ঠ একজনের বিরল একটা রোগ নিয়ে অনুসন্ধান উদ্দেশ্যে। রোগটি খুব বেশী পরিচিত নয় বলে আমি নিজে ইন্টারনেট ঘেঁটে কিছু তথ্য যোগাড় করি। তাই নিয়ে আলাপ করার জন্যই যাই। উনি জানালেন এখানে ওই রোগ সম্পর্কে খুব বেশী ডাক্তার পড়াশোনা করেনি। তবু পরদিন মেডিক্যাল কলেজে যেতে বললেন অন্য সব সিনিয়র ডাক্তারের সাথে আলাপ করে যতটা সম্ভব সাহায্য করবেন।

ডাক্তারের এই মহানুভবতায় আমি মুগ্ধ। পরদিন মেডিক্যালে গেলে আমার সংগৃহিত তথ্যগুলো দেখতে লাগলেন মনযোগ দিয়ে। সেই ফাঁকে আমি ওই রোগ সম্পর্কে এবং চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে যা জেনেছি তা নিয়ে ছোটখাট একটা লেকচার দিলাম। নিতান্ত সাধারণ জ্ঞানই বলা যায়। কিন্তু উনি আমার সেই সাধারণ জ্ঞানকে অসাধারণ গুরুত্বের সাথে নিয়ে বললেন, আপনি একটু বসেন আমি অন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদেরও ডাকছি।

খানিক পরেই আধডজনের মতো সহকারী আর সহযোগী অধ্যাপক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এসে হাজির হলেন প্রফেসর শামশেরের সাথে।

সবাইকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে আমাকে বললেন, আবার বলেন তো একটু আগে যা যা বলেছেন। আপনারা একটু নোট করে নেন কষ্ট করে। সবার জানা দরকার ব্যাপারটা।

বলে কী? আমি লেকচার দেবো এত এত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের উদ্দেশ্যে? উইকি আর গুগল গুঁতিয়ে যে ক'পাতা পড়েছি তা নিয়ে এই সুখ্যাত মেডিক্যালের বাঘা প্রফেসরদের উদ্দেশ্যে আমি একটা রোগ নিয়ে বক্তৃতা দেবো? ধরনীকে দ্বিধা হতে বলতে পারতাম। কিন্তু অধ্যাপক সাহেবের তাড়ায় আমার পাঁচ মিনিটের সেই লেকচারটা রিপিট করতে হলো।

লেকচার শেষে উপস্থিত এক ডাক্তার পাশের আলমিরা থেকে মোটা একটা বই নামিয়ে আমার সামনে এনে পাতা খুলে দেখালো সেই রোগ সম্পর্কে যা যা লেখা আছে। দেখলাম ওই রোগ সম্পর্কে বিশ বছর আগে প্রকাশিত সেই বইটিতে মাত্র দশ লাইনের একটা প্যারা আছে। বুঝলাম এর বাইরে আর কিছু পড়া হয়নি এদের, তাই আমার সংগৃহিত বাইশ পৃষ্টার সাধারণ জ্ঞান ওদের কাছে মহাভারত মনে হচ্ছে।

এবার অধ্যাপক সাহেব জানতে চাইলেন এত মূল্যবান তথ্য কি করে খুঁজে পেলাম । আমি বললাম, "খুব সহজ। গুগল করেই তো এসব জানা যায়।"
উনি জিজ্ঞেস করলেন, গুগল কি?

তারপরই মজার কথোপকথন পর্ব।

ওনার পাশে দাঁড়ানো অপেক্ষাকৃত তরুণ একজন জবাব দিলেন, ওটা স্যার ইন্টারনেটে পাওয়া যায়।
- আমাদেরও তো ইন্টারনেট আছে, আমরা পাইনা কেন?
- আমরা ইন্টারনেটে ঢুকি না বলে।
- আমরা ঢুকি না কেন?
- পাসওয়ার্ড লাগে ঢুকতে
- পাসওয়ার্ড নাই আমাদের?
- আছে। আপনার ডায়েরীতে লেখা আছে। সেদিন আইএসপির লোকটা লিখে দিয়েছিল।
- আমার ডায়েরীতে আছে? আপনি আগে বলবেন না?
- স্যার..... আমি তো ভেবেছি আপনি জানেন।
- আমি তো জানিই, কিন্তু আমার কি এতসব মনে থাকে?
- তা ঠিক স্যার। এত কিছু মনে থাকে না।
- এখন ইন্টারনেটে ঢুকে দেখেন তো কিভাবে কি পাওয়া যায়।
- স্যার ....আমি আসলে .....আগে কখনো ঢুকিনি। তবে মনে আছে ডায়াল করে ঢুকতে হয়।
- আপনারা এত কিছু জানেন, ইন্টারনেটে কেমনে ঢুকে জানেন না?
- জী....জানি স্যার, পাসওয়ার্ডটা একটু বের করেন, আমি ক্লিক করে দেখি।

(দুই ডাক্তারের বাক্যলাপ শুনে আমার পেটে খিল ধরে যাচ্ছিল হাসির ধাক্কায়। চেপে রাখলাম তবু। অধ্যাপকের চেয়ারের পেছনে একটা ডেক্সটপ সাজানো আছে। দীর্ঘদিন কেউ বসেনি মনে হচ্ছে। মডেমের উপর একরাশ ধুলো। তরুণ সহকারী কয়েকবার চেষ্টা করার পর ডায়াল আপ কানেকশানে সংযুক্ত হলো পিসিটা)

সহকারী বললেন, ঢুকেছি স্যার।
-কোথায় ঢুকলেন?
-ইন্টারনেটে
-বাহ। এত সহজে? এবার দেখে বলেন তো এগুলো কোথায় লেখা আছে?
-এগুলা তো স্যার ওই ওয়েবসাইটের তথ্য।
-আপনি এতক্ষণ বললেন ইন্টারনেটে সব আছে, এখন আবার ওয়েবসাইটের কথা বলেন কেন?
-স্যার ওয়েবসাইট হলো ইন্টারনেটের অংশবিশেষ
-ও আচ্ছা! পুরো ইন্টারনেটই আছে আমার পিসিতে, ওখানে ওয়েবসাইট খুঁজে পান না?
-না মানে ওয়েবসাইটের ঠিকানা লিখতে হবে তো। তারপর খুলবে.....
-ঠিকানা লিখেন, মানা করেছে কেউ?
-জী না.......কিন্তু কোথায় লিখবো?
-কেন ইন্টারনেটে লিখবেন
-ইন্টারনেটে তো লেখার জায়গা নাই
-কী বলেন এত বড় ইন্টারনেট, লেখার জায়গা থাকবে না কেন? কই দেখি তো আমাকে দেখান, ইন্টারনেট কোনটা?
-এই যে স্যার এখানে, ছোট ছোট দুটো টেলিভিশনের মধ্যে একটা তার দেখা যায়, এটাই ইন্টারনেটের চিহ্ন।

ডাক্তারের উপর মাষ্টারি করার বিপদ সম্পর্কে আমি জানি। তাই বেদম কঠিন অট্টহাসি পেলেও চেপে রেখে দেখছিলাম প্রফেসারদের কান্ড। ওরা ডায়াল-আপ কানেকশানে ইউজার আর পাসওয়ার্ড লিখে কানেক্ট করেছে ঠিকই। কিন্তু ব্রাউজারটা খোলেনি। নীচে ডায়াল আপ কানেকশানের চিহ্নটাকেই বলছেন ছোট ছোট দুইটা টেলিভিশন। ডাক্তার সাহেব এর পরের ধাপটা ভুলে গেছেন হয়তো ক্লাস কিংবা রোগী দেখার চাপে। ইন্টারনেট কানেকশান পাবার পর যে ব্রাউজার ওপেন করতে হয় সেটা মনে পড়ছে না।

কয়েক মিনিট পর আমি অধৈর্য হয়ে মাউসটা হাত বাড়িয়ে নিয়ে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে ক্লিক করে ওয়েবসাইটটা টাইপ করে খুলে দিলাম। অধ্যাপক শামশের মুগ্ধ হয়ে আমার দিকে তাকালেন যেন আমি এক বিমূর্ত তথ্য যাদুকর।

আমি বুঝে গেছি আমার কাজ শেষ। বললাম, এবার আমি যাই।
উনি বললেন, আপনি চা না খেয়ে যাবেন না। তবে চিন্তা করবেন না। আমরা আরো কিছু স্টাডি করে তারপর আপনার সমস্যার সমাধান বের করবো।
আমি বললাম, জী।

আসলে আমার আগ্রহ অনেক আগেই শেষ। আমি যে কাজে গিয়েছিলাম তার কিছুই এখানে হবার কথা নয়। মন খারাপ হতে পারতো। কিন্তু জীবনে প্রথমবারের মতো ডাক্তারের উপর মাষ্টারি করার তৃপ্তিতে মন খারাপ হলো না।

একাত্তর নিয়ে পাকি লজ্জা এবং আমাদের সংকোচ

পাকিস্তানিদেরও লজ্জা আছে। এটা কি একটা খবর? মোটেও না। আজ সকালে পাক সেনাবাহিনীর সাইটে তাদের প্রস্তুতকৃত ১৯৭১ সালের ইতিহাস পড়ছিলাম। পাক জানোয়ারেরা একাত্তরের গণহত্যাকে তাদের কোন তথ্য ভান্ডারে রাখবে না এটাই স্বাভাবিক। একাত্তর নিয়ে তাদের ইতিহাস নিষ্কলুষ রাখার চেষ্টা করা হবে তাতেও কোন সন্দেহ নেই।

একাত্তর পাকিস্তানীদের জীবনে নিকৃষ্টতম বছর। তাই পাকবাহিনীর একাত্তরের ইতিহাস পর্বের মূল ভাষ্য- রাজনীতিবিদদের দোষে বাংলাদেশের কিছু দুষ্টু ছেলেকে ইন্ডিয়া প্রশ্রয় দেয়াতে পূর্বপাকিস্তানে কয়মাস ব্যাপি যে মারামারি হয়েছিল সেটাই ১৯৭১। এতে ধরে নেয়া যায় বিশ্বের নৃশংসতম বাহিনীটারও লজ্জা আছে। কারণ একাত্তরের বর্বরতার ইতিহাসের লেশমাত্র প্রকাশ পেলেও পাকবাহিনীর ইজ্জত দুর্গন্ধে ভরে যায়।

তাদের লজ্জা নিয়ে আমার আপত্তির কিছু নাই। আমার আপত্তি একাত্তর নিয়ে আমাদের লজ্জা বিষয়ে।

পাকবাহিনীর সাইট বেড়িয়ে এসে আমাদের সেনাবাহিনীর সাইটে ঢুকলাম। সেখানে ইতিহাস অংশটুকু পড়ে আমি বিস্মিত।

১৯৭১ আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবের বছর। সেনাবাহিনীরতো বটেই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যাত্রা শুরু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই। যে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ নিয়ে আমরা গর্ব করি তাদের সবাই প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য। অথচ তার কোন বর্ননা সেখানে নেই। বিন্দুমাত্রও নেই।

অতীব ভাসা ভাসা ইতিহাস বর্ননায় বোঝা মুশকিল আমাদের একটা সুসংগঠিত মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল ১৯৭১ সালে। সেই যুদ্ধে আমরা নয় মাস রক্ত ঝরিয়ে স্বাধীন হয়েছি। সেই যুদ্ধের সময়ই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যাত্রা শুরু করেছে। কিছুই নেই এসবের। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের বর্ননা এত ছাড়াছাড়াভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যেন কেউ আঘাত না পায়, যেন কারো প্রাণে ব্যাথা না লাগে।

তথ্যের চেয়ে ভাবসমৃদ্ধ ইতিহাস অংশটুকু পড়ে আমার মনে হচ্ছিল এই ইতিহাস আমাদের কেউ লেখেনি। অন্য কোন গ্রহ থেকে অচিন কোন প্রাণী এসে লিখে গেছে। প্রায় তিন হাজার শব্দের ওই ইতিহাসে 'Pakistan' শব্দটা খুব তমিজের সাথে ব্যবহার করা হয়েছে। kill, death, rape, genocide শব্দগুলো একবারো আসেনি, freedom fighter শব্দটা মাত্র দুবার এসেছে কায়ক্লেশে। তথ্যের তো কোন বালাই নেই।

অথচ এমনকি পাকিস্তানী সেনাবাহিনীও তাদের সাইটে ১৯৭১ নিয়ে একটা আলাদা পর্ব করেছে। সেটার শুরুতে বলেছে, With 1971 commenced the most tragic year of our history. তারা যে কারণেই মর্মাহত হোক না কেন, কিন্তু উনিশশো একাত্তর যে একটা আর দশটা বছরের মতো স্বাভাবিক বছর না সেটা অন্ততঃ প্রকাশ পেয়েছে।

আর আমাদের সবচেয়ে গর্বের কান্নার রক্তের বছর হয়েও আমাদের সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে ১৯৭১ নিয়ে আলাদা কোন চ্যাপটারই নেই। সেনাবাহিনীতে কি একত্তারের তথ্য সমৃদ্ধ বইয়ের অভাব রয়েছে? নাকি এখনো কেউ কেউ ১৯৭১ কে বিশেষ গুরুত্ব দেয়াকে নিরপেক্ষতার লংঘন মনে করেন?

থাজ থেস?

শিহানের বয়স দুই বছর চার মাস পেরিয়ে গেছে। মুখে এখনো ঠিকমতো কথা ফোটেনি বলে ওর মা বিশেষ চিন্তিত। ওশিন দেড় বছর বয়সে এর চেয়ে স্পষ্ট কথা বলতো। আর এই বয়সে তো প্রচুর বকবক করে মাথা নষ্ট করে দিত। কিন্তু এই পুচকাটা পণ করেছে সে পারতপক্ষে কথা বলবে না। পুরো বাক্যের মধ্যে একটা শব্দ উচ্চারণ করবে, বাকীটা ইশারায় সেরে ফেলবে।

তার শব্দের স্টক দশ পনেরোটার বেশী হবে না। বাবা, মা, আপু, বাবু (সে নিজেকে বলে বাবু), ফুফু, ফুপা, জাউ(দাদুকে এভাবে বলবে), বগি(যাবতীয় গরুছাগল জন্তু তার কাছে বগি), পখি(হাসমুরগী টিয়া ময়নাসহ যত উড়ন্ত প্রাণী সব), কক্ খ(বইখাতা জাতীয় সব জ্ঞানের বিষয়), ডুমডুম (বিয়ে, বাদ্যবাজনা ইত্যাদি উৎসবের সকল শব্দ), থিথি ( হাগু পিসু থেকে ময়লা জাতীয় সবকিছু এই শব্দের আওতায়)। এই কটা শব্দের বাইরে নতুন দুটো শব্দ যুক্ত হয়েছে নভেম্বর মাসে একটা হলো 'লাল' অন্যটা হলো 'টাকা'।

অন্যগুলোর মতো এই শব্দ দুটোও কেউ তাকে শেখায়নি। নিজে নিজে শিখেছে। রং হিসেবে লালটা প্রথম শেখার মতো কিছু কি? তবে ওটাই শিখলো কেন জানি না। একদিন আমার পকেটে হাত দিয়ে কিছু খুঁজতে খুঁজতে পরিষ্কার স্বরে বলে উঠলো 'টাকা'। আমি প্রথমে ভাবলাম ভুল শুনছি। কিন্তু রাতে শোবার আগে আবারো একবার আমার শূণ্য পকেটে হাত গলিয়ে বললো, 'টাকা নাই'। ব্যাটা, এই বয়সে টাকা চিনে গেছিস, তুই যে বড় হয়ে এই লাইনে কামেল হবি তাতে সন্দেহ নেই।

পরশু সন্ধ্যায় সে একটা অকেজো পুরোনো মিনি ক্যালকুলেটর নিয়ে খেলছিল। খেলছিল মানে কাজ করছিল। গম্ভীর হয়ে দুই হাতে ল্যাপটপ চালাবার কায়দায় চালাচ্ছে বাটন টিপে টিপে। বাটন টিপলে ওটা থেকে পি পি টাইপ শব্দ হয়। একসময় শব্দটা থেমে গেল কেন যেন, সাথে সাথে সে বলে উঠলো, 'থাজ থেস'। আমি খানিক অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কি বললি? সে ওটা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে, থাজ থেস। আমার বুঝতে বেশ ক সেকেন্ড সময় লেগে যায় যে কথাটার মানে 'চার্জ শেষ'!!

আসলে সে বুঝে গেছে সবকিছুরই একটা চার্জ আছে, এবং একসময় সেটা শেষ হলে চার্জে দিতে হয়। মোবাইল দেখে শিখে ফেলেছে। ছেলের এই প্রতিভায় আমি রীতিমত মুগ্ধ।

কালকে অফিস থেকে ফিরে নাস্তা সেরে বিছানায় গা এলিয়ে একটা বইতে চোখ বুলাতে বুলাতে ঝিমুনি চলে এসেছিল। সে পাশের ঘরে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর গুটি গুটি পায়ে কাছে এসে আমাকে ধাক্কা দিয়ে জিজ্ঞেস করে, "বাবা বাবা... থা-জ....থে-স?"

একটি অনুমিত ষড়যন্ত্র

সামান্য একটা বোতামের কাছে হেরে গিয়েছিল আবুল হোসেন।

গত অর্ধশতকে তার এরকম ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাটা একবার ঘটলে দুর্ঘটনা বলা যেতো। কিন্তু পরপর তিনবার ঘটার পর মনে হলো এটা দুর্ঘটনা নয়, নিশ্চিত ষড়যন্ত্র।

প্রথমবার যখন বোতামটা ছিঁড়লো তখন সে ডেস্কের সামনে। বসের সাথে কথা বলে চেয়ারে বসামাত্র ফটাস্। কপাল! এটা কিরকম বেইজ্জতি ঘটনা হলো! তবু কপালগুনেই রুমে আর কেউ ছিল না। খুলে পড়া বোতামটা তাড়াতাড়ি পকেটে নিয়ে একটা ফিতে দিয়ে প্যান্টটার রফা করে সেদিনকার মতো বাড়ি ফিরলো।

কিছুদিন পর আবারো ঘটলো একই ঘটনা। এবার সে লিফটে। ভাগ্যিস এবারও সাথে আর কেউ ছিল না। সহকর্মীদের দৃষ্টি এড়িয়ে রুমে ঢুকে দরোজা বন্ধ করে ফিতা খুঁজতে লাগলো। কিন্তু ড্রয়ারে কোন ফিতা নাই, টেবিলে কেবল একটা ফাইল। এই ফাইল থেকে যা কামাবার সব কামানো শেষ। ওটার লালফিতাটা খুলে লাগিয়ে নিল কেউ রুমে আসার আগে।

তৃতীয় ঘটনাটা ঘটে গেলো টয়লেটের অন্দরে। এবার বোতামটা সরাসরি কমোডের ভেতর ডুব মেরে চার চোখ মেলে তাকিয়ে হাসতে থাকলো। এখন উপায়? এই বোতাম তো আর ফেরত নেয়া যায় না। চোরের মতো রুমে ফিরে দেখে টেবিলে কোন ফাইলও নাই আজকে। কোথাও একটা সুতোর চিহ্ন নাই এই চকচকে রুমে।

হঠাৎ মনে পড়লো স্কুলে বয়সের একটা বুদ্ধি.........ড্রয়ার খুলে স্ট্যাবলার নিয়ে তিনটা পিন মেরে বন্ধ করে দিল প্যান্টের জানালা। আপাততঃ বেইজ্জতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেল। কিন্তু বাসায় যাবার আগ পর্যন্ত টয়লেটে যাওয়া বন্ধ।

সে-ই শেষ। দুর্ঘটনাটা চতুর্থবার ঘটার সুযোগ পেল না। কারণ পরদিন থেকে আবুল হোসেন প্যান্টের সাথে স্থায়ীভাবে বেল্ট পরতে শুরু করে। তবু সামান্য একটা বোতামের কাছে হেরে যাওয়ার অনুদঘাটিত রহস্যটা দীর্ঘদিন তার মনোবেদনা হয়ে জেগে রইল।

জ্যামজট

বদ ঝামেলায় পড়া গেল দেখি। অফিসের গাড়ি নেই আজ, তিনজনে আধ কিমি হেঁটে ইপিজেডের মোড়ে আসলাম টেক্সির খোঁজে। ছুটির পর এমনিতেই জ্যাম থাকে এখানে। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে যানজটের গনতান্ত্রিক মচ্ছব। শত শত গাড়ি, বাস-ট্রাক-ট্রেলার-রিকশা-টেক্সি-কার-মাইক্রো একটার পাছায় আরেকটা যে যার মতো গিট্টু লাগিয়ে স্টার্ট বন্ধ করে বসে আছে। ট্রাফিক পুলিশ কোথাও পালিয়েছে। হাজারে হাজারে মানুষ হেঁটে যাচ্ছে।

এমন সময় দেবদুতের মতো কোত্থেকে একটা টেক্সি এসে দাঁড়াতেই কয়েকশো লোক একযোগে ছুটে আসছিল ওটা ধরতে। কিন্তু আবুল হোসেনের কপাল আমাদের। দৌড়ে প্রথম হয়ে তিন জনে চড়ে বসলাম পঞ্চাশ টাকার ভাড়া একশো পঞ্চাশ টাকায় রফা করে। একটা চিপা রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাবে আগ্রাবাদ।

টেক্সিটা চলতে শুরু করতেই অচেনা দুই নাছোড় লোক আঠার মতো টেক্সিঅলার দুপাশে সেঁটে বসে গেল। 'ভাই এটা আমাদের রিজার্ভ টেক্সি, আমরাই যাবো, আপনারা নেমে যান ভাই'- এরকম অনেক অনুনয় বিনুনয়ে কাবু করা গেল না ওদের। টেক্সিওয়ালাও ওদের নামাতে ব্যর্থ হয়ে জনপ্রতি বিশ টাকার ট্যাক্স বসিয়ে নিল। তাতেও রাজী ওরা। এবার টেক্সীওয়ালা খুশী। ১৯০ টাকার কামাই হবে ৫০ টাকার রাস্তায়। দুই যাত্রীও খুশী পঞ্চাশ টাকার ভাড়া ২০ টাকায় পেয়ে। শুধু আমরাই নাখোশ, দেড়শো টাকাই দিতে হবে আমাদের।

বিকল্প চিপাগলি দিয়ে কিছুদূর যাবার পর আবারো নতুন জ্যামে আটকে গেলাম। গলির মধ্যে শতশত রিকশা ধাক্কাধাক্কি করে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে প্রায়। টেক্সি থেমে গেছে। সামনের দুজন টেক্সিওয়ালার সাথে বকবক করে যাচ্ছে শুরু থেকেই। দেখা গেল দুজনের গ্রামের বাড়ি ব্রাম্মনবাড়িয়া। টেক্সিওয়ালারও তাই। দেশীলোক পেয়ে খুশীতে গল্প জমিয়ে মারছে ওরা। রাস্তায় জ্যাম নিয়ে বিন্দুমাত্র উদ্বেগ দেখা গেল না তিনজনের মধ্যে। এই অতি সখ্যতায় আমাদের তিনজনের গা জ্বালা করছে।

জ্বালা কমাতে আমরা নেমে দাঁড়ালাম খোলা বাতাসে। পাশের দোকান থেকে সিগারেট ধরিয়ে টেক্সির পেছনে দাঁড়ালাম তিনজনে। কতোক্ষণ লাগবে এই জট ছাড়তে বলা মুশকিল। হঠাৎ টেক্সিটা স্টার্ট দিল, আমাদের অবাক করে দিয়ে টেক্সিটা আমাদের ফেলে রেখেই ফুড়ুত করে একটানে বেরিয়ে গেল সামনের দিকে। আমরা ডাক দেবার আগেই টেক্সিটা দূরে চলে গেল পেছনের লালবাতি দুটো অদৃশ্য হয়ে গেল অন্ধকারে। ব্যাটা খেয়ালই করেনি আমরা তিনজনের কেউ উঠিনি। এই মাঝপথে নামিয়ে দেয়ার জন্য টেক্সি ড্রাইভারকে শাপশাপান্ত করছি অমনি পারভেজ হো হো করে হাসতে শুরু করলো। কি হইছে জিজ্ঞেস করাতেও হাসছে ব্যাটা। গড়িয়ে পড়ছে হাসতে হাসতে। জুবায়ের ধমকে উঠলো,

-হাসিস কেন ব্যাটা গাড়ল? বিপদে তো তুমিও পড়ছো
-ধুরো ব্যাটা আমার কিসের বিপদ, এখান থেকে তো ত্রিশ টাকা রিকশা ভাড়ায় আগ্রাবাদ পৌঁছে যাবো। আমি হাসছি ওদের কি হবে ভেবে।
-ওদের কি হবে? ওরা তো আরামেই পৌঁছাবে
-পৌঁছালো। তারপর?
-তারপর আর কি, নেমে গিয়ে বাড়ি যাবে
-বাড়ি যাবে, কিন্তু দেড়শো টাকার ভাড়া কে দেবে? ওরে তোদের তিনজনের এই দোস্তালি তো দশ মিনিটেই খতম রে, আমাদের ফেলে গেলি, এখন তো নিজেদের মাংস নিজেরা কামড়ে খাবি। তুর কিয়া হবে রে কালিয়া!

এবার পারভেজের সংক্রামক হাসি তিনজনকেই একসাথে আক্রমন করলো।
অন্যের দুর্দশায় এত হাসি আমরা জীবনে আর কখনো হাসিনি।

ভুল

বাস থেকে নেমে প্যান্টের পেছনের পকেটে হাত দিয়েই টের পেল, নেই।

থাকার কথাও না। চিড়ে চ্যাপটা ভিড়ে জনসমক্ষে মানিব্যাগ খুলে ভাড়া দিয়েছে। ভাড়া মেটানোর পরপরই গেছে বোধহয়। মানিব্যাগে পাঁচশো টাকার আটটা নোট ছিল, কিছু খুচরো দশ-বিশ-পঞ্চাশ টাকার নোট, কিছু টুকরো মলিন কাগজ, লন্ড্রির স্লিপ, কয়টা আধময়লা ভিজিটিং কার্ড এবং সিনে ম্যাগাজিন থেকে কেটে রাখা মডেল জয়ার ছবি।

তিন তারিখে দেবার হলেও দিচ্ছে দিবে করে আজকেই দিল টিউশানীর টাকাটা। মাকে দুটো, ভাইকে দুটো, চারটায় নিজের সারা মাস, এভাবেই হিসেবটা করা ছিল।

চারপাশে প্রচন্ড ভিড়। বাসে, রাস্তায়, ফুটপাতে। মানুষের ধাক্কায় মানুষ গড়িয়ে চলছে। স্বাধীন হাঁটা অসম্ভব। গুলিস্তানের এই জায়গাটা পকেটমারের স্বর্গ। ঈদ মৌসুমে পকেট বাণিজ্য আরো চরমে। ঢাকার দুষিত বাতাস ইফতারীর গন্ধে চোঁ বোঁ করছে। মানুষের পকেটভর্তি টাকা। দুয়েকটা বুক পকেটে পাঁচশো টাকার আবছা নোটগুলো ভেংচি কাটতে দেখা যাচ্ছে। সুযোগসন্ধানী হলে নিজেও দুয়েকটা মানিব্যাগ কামাই করে বাড়ি ফিরতে পারতো আজ।

মনটা চুপসে গেছে। মাসের মাত্র তেরো তারিখ। ঈদের কথা বাদ। বাকী সতেরো দিনের কি হবে? উদাস মনে ধাক্কার স্রোতে এগিয়ে চললো। দুনিয়ার কিচ্ছু ভাল্লাগছে না আর।

হঠাৎ বুকের উপর কারো হাতের একটা ধাক্কা। সরু কালো হাতটা ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে যাবার সময়ই বুঝলো আসলে এইমাত্রই খোয়া গেল মানিব্যাগটা। ভাড়া মিটিয়ে তাড়াহুড়োয় বুক পকেটে রেখেছিল।

ছোট্ট ভুল, কিন্তু ক্ষমার অযোগ্য।

লানত

রাজনীতির প্রতি তার কোন আগ্রহ বা যোগাযোগ ছিল না ৬২ কি ৬৬তেও। এমনকি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও সে নিবিষ্ট মনে চাকরী করে যাচ্ছিল। কিন্তু জেলফেরত শেখ মুজিবকে তার বিশেষ পছন্দ হয়ে গেল। মাওলানা ভাসানীর চেয়েও ব্যক্তিত্ববান নেতা মনে হলো শেখ মুজিবকে। রাজনীতি না করলেও শেখ মুজিবের ভাষণের জন্যই তার শক্ত ভক্তে পরিণত হয় সে। ইলেকশনের সময় অফিস কামাই দিয়েও ভোটের কাজ করেছে সে(আসলে সিনিয়রকে ভোটের প্রচারের কথা বলে ঘরে এসে ঘুমিয়েছে)। তবে শেখ মুজিবকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে ভালোই লাগতো তার।

১৯৭০ এর নির্বাচনে শেখ মুজিবের বিপুল বিজয়ের মিষ্টি খাওয়ার কিছুদিন পর সে একটা দাওয়াতে গিয়ে দেখা পেল মিনারা বেগমের। সেদিন থেকে তার চোখ থেকে দেশের স্বপ্ন মুছে গিয়ে নতুন স্বপ্ন জায়গা করে নিল। চুড়ান্ত সুখের সময় মিনারা বেগমের সাথে বিয়েটা যখন ঠিকঠাক, দেশে স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দিল শেখ মুজিবুর রহমান।

সেই উত্তাল সময়ে মিনারা বেগমের পরিবার বিয়ের অনুষ্ঠান করতে রাজী তো হলোই না বরং ঢাকা শহর অনিরাপদ জায়গা বলে ১৫ মার্চের দিকে মিনারাকে নিয়ে গ্রামের দিকে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল। মাথায় বাজ পড়লো যেন তার। প্রেমটা ক্রোধে রূপ নিয়ে মিনারা বেগমের দিক থেকে ঘুরে গিয়ে শেখ মুজিবের দিকে নিবদ্ধ হলো। এরকম সুন্দর সময়ে আন্দোলনের ডাক দেবার কোন মানে আছে? দুদিন পরেই ক্ষমতায় বসবি। দেশ জাহান্নামে যাক, আমি মিনারাকে চাইই।

কিন্তু মিনারকে পেতে হলে শান্তি আসতে হবে দেশে। তার মতো ইয়াহিয়াও শান্তির খোঁজে পাগল তখন। সশস্ত্র পাক আদম আসতে শুরু করে জেটপ্লেনের পেট ভর্তি হয়ে। আন্দোলন থামিয়ে শান্ত করা হবে দেশ।

পাকি মিলিটারি ২৫শে মার্চের এক রাতেই হাজার হাজার ঘুমন্ত মানুষকে পরপারে পাঠিয়ে ঢাকা শহরকে রক্তে স্নান করিয়ে শান্ত করে দিল। পাকিস্তানী ক্র্যাক ডাউনের পরপর সেও আর দেরী না করে শান্তির পক্ষে যোগ দিল। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তি কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রতিদিন সে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলো শান্তির। শান্তি খোঁজার ফাঁকে ফাঁকে শান্তিবালাদেরও মাঝে মাঝে ধরে এনে খানসেনাদের সাপ্লাই দেয়। মাঝে মাঝে নিজেও তাদের মধ্যে দুয়েকটাকে নিয়ে মিনারাকে না পাওয়ার খেদ মেটায়।

কিন্তু মরার দেশ। আপন পর বুঝলো না। ইন্ডিয়ার চক্রান্তে পা দিয়ে ছেঁড়া লুঙ্গি গেঞ্জি পরে কাঁধে রাইফেল ঠেকিয়ে এক লাখ পাকিস্তানীকে পেঁদিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করালো। দেশ স্বাধীন হয়ে গেল ১৬ই ডিসেম্বর। সব হিসেব উল্টে যাওয়াতে সে ১৭ই ডিসেম্বর রাতেই ইঁদুরের গর্তে ঢুকে গেল।

গিরিগিটি রক্ত তার গায়ে। তিন বছর গর্তে থাকার সময়ও ভাবছিল এবার কোনমতে রক্ষীবাহিনীর সাথে খাতির করা যায় কিনা। কিন্তু গর্ত থেকে বেরুবার সাহস হচ্ছিল না। কেবল দুর্ভিক্ষের দোলাচলে গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে এলো। বেরিয়ে এসে মিনারার খোঁজ পেয়ে গেল অন্য ঘরে। মিনারা তখন দুই বছরের এক বাচ্চার মা। বিয়ে হয়ে গিয়েছিল তার স্বাধীনতার পরপরই।

মিনারার বিয়ের খবরে সে গজব বর্ষণ করলো শেখ মুজিবের চোদ্দ গুষ্টির উপর। খোদার লানত বর্ষিত হোক তার উপর।

মার্চে প্রদত্ত লানত আগস্টে ফলে যাওয়াতে সে বুঝে যায় খোদার কতবড় পেয়ারা বান্দা সে। চাহিবামাত্র দাবী পূরণ করলো খোদা। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ তার ঈদের দিন। পরদিন থেকে সে যেন আবারো স্বাধীনতা ফিরে পেল। দেরী না করে এবার ইসলামের খেদমত করার সুযোগ করার জন্য দুটো বিবি হাসিল করে নিল পাঁচ বছরের ব্যবধানে। ইসলামের খেদমত করতে করতে একটা ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হয়ে গেল জামাতে ইসলামীর সদস্য মর্যাদায়। এতদিনে মানুষ ভালো জিনিসের কদর করতে শিখেছে।

সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল দুই যুগ। ২০০৭ সালে এসে ক্ষমতার বিরাট পালাবদল ঘটে গেল আবারো। ইসলাম আবারো ফসকে গেল দেশ থেকে। ২০০৯ সালে মরহুম শেখ মুজিবের দল ক্ষমতায় এলো। তাতেও ইতরবিশেষ হতো না তার। গিরিগিটির মতো রং বদলাতে শিখে গেছে ততোদিনে।

কিন্তু তার লুঙ্গি ধরে টান দিল অন্য একজন। ২৩ নং ওয়ার্ডের এক বুড়ি গত মাসে পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছে ১৯৭১ সালে কমপক্ষে তিনটা খুন আর অসংখ্য ধর্ষণের জন্য দায়ী ড. শামশের উদ্দিন এখন মধ্যপ্রাচ্য প্রাইভেট ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক। পত্রিকায় সাফিয়া খাতুনের নাম দেখেই মনে পড়লো মিনারা বেগমের এই বান্ধবীকে পাকিস্তানীদের হাতে তুলে দেবার আগে নিজেও একবার স্বাদ নিয়েছিল।

সেই এক রাতের চেনা মেয়েটি তাকে এত বছর পরেও মনে রেখেছে দেখে সে শিউরে উঠলো। কিন্তু সে বুঝলো না এত বছরে এত পরিবর্তনের মধ্যেও প্রায় অচেনা মেয়েটা তার খোঁজ রাখলো কি করে। (শামশের শুনলে জ্ঞান হারাতো যে তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানোর আকাংখায় এত বছর অনুসরণ করেছে তারই এককালের প্রেয়সী মিনারা বেগম।)

ধীরগতির ট্রাইব্যুনাল আর তদন্ত প্রক্রিয়ার বেড়াজাল পেরিয়ে ফাঁসির দড়ি তাকে খুঁজতে শুরু করার আগে সে আবারো গা ঢাকা দিল মধ্যপ্রাচ্যের এক ইঁদুরের গর্তে। শেখের বেটির উপর আরেকটা লানতের অপেক্ষায় আছে সে।