Monday, May 18, 2020

ভাববাচ্যে নিমজ্জিত তরণী-৩

পাখি আমি তোমাকে ততক্ষণই বাসি যতক্ষণ তুমি আমার ডালে বসে থাকো পোষ মেনে। যখন তুমি এডাল ওডাল করো অন্য মনে তখন আমি তোমাকে ঘেন্না করি। পাখি আমি তোমাকে পোষ মানিয়েছি বলেই ভালোবাসি। অন্যমনস্ক পাখি তুমি মুক্তি চাও মনে মনে তবু দ্বিধা ভর করে বলে বারবার ফিরে আসো। আমি খাঁচায় বিশ্বাস করিনি কারণ ভালোবাসার চেয়ে আর কোন কঠিন বাধন নেই। আমি তোমাকে আলগা করে বেঁধেছি যাতে তুমি উড়ে যেতে পারো স্বেচ্ছায়। মুহূর্তের অমনোযোগিতায় তুমি পালিয়ে বেড়াও, আবার ফিরে আসো ভয় পেয়ে। আলো আর অন্ধকার মিয়ে তোমার আশ্রয় হতে পারে না। তুমি ভালো তাই তুমি আলো হও। অন্ধকার ভুলে যাও।

তুমি পোষ মেনে গেছো বলে আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাই। ঘুমে এপাশ ওপাশ করি, স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন হারিয়ে ফেলি। তুমি উড়ে যাবে না বলে আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাই। তোমার পাখাটা আমার পকেটে জমা করে দিয়েছো বাইশে সেপ্টেম্বর, আমি কস্মিনকালেও ছাই ঝাড়ি না অ্যাসট্রের বাইরে।

আমি এখন তৃতীয় মাত্রার লক্ষ্য নিয়ে ঘুড়ি ওড়াই। বিশ থেকে ত্রিশে আমি হাওয়ায় ভাসছিলাম। ত্রিশে গিয়ে কর্কশ মাটির স্পর্শে দিক বদল করি। ত্রিশ থেকে চল্লিশে আবারো নতুন উড়াল। চল্লিশে এসে চাঁদের মাটি ছুঁয়ে দেই। চাঁদটিতে মাটি আছে পাথর আছে আকাশ আছে, কেবল নেই জল হাওয়া আর নীল। নীলের অভাবে আমি মুষড়ে পড়তে গিয়ে আমি নতুন দিনের মধ্যে স্মৃতির ঘ্রান খুজে পাই। আবার হলো নতুন উড়াল। এবার আমি পঞ্চাশে যাবো অগস্ত্য যাত্রায়। এবার তুমি পাশে নেই, পাশে নেই, পাশে নেই। এবার আমি কেবলই একা তুলট হাওয়ায় ভাসছি।

এখন তোমার নিজস্ব আকাশ। পাখি, তুমি কি এখনো মুক্তির আকাংখায়?


No comments: