অযথা দীর্ঘায়ু মানুষের জীবনকে নষ্ট করে। অল্প সময়ের মধ্যে যেসব কাজ করা যায় সেই কাজগুলো সেরে মোটামুটি মধ্য বয়সে চলে যাওয়াটা সবচেয়ে উত্তম। সেই সময়টা হতে পারে পঞ্চাশের আশেপাশে। পঞ্চাশ বছর বয়সের মধ্যে একটা মানুষের যা যা পাবার, যা যা করার সব হয়ে যাওয়া উচিত।
উচিত। কিন্তু হয় না। কারণ দেশের অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষা এবং জীবিকার সময়ের ভারসাম্য ঠিক থাকে না। যে বয়সে কর্মজীবনে প্রবেশ করার কথা তার চেয়ে পাঁচ সাত বছর পিছিয়ে যায় প্রতিটি মানুষ। তাই সেই সমাপ্তির বয়সটা ৬০ বছর হতে পারে। আমি যতটা দেখেছি এই সময়ের ভেতরে মানুষের প্রায় সব কাজ হয়ে যায়।
তারপরে মানুষ যে আয়ুষ্কাল পায়, সেটার অধিকাংশই অপচয় হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নানা কারণে মানুষের অর্থহীন আয়ুষ্কাল বেড়ে গিয়েছে। এই অর্থহীন আয়ুষ্কালে তেমন কিছুই করতে পারে না। জগত সংসারের কোনো উপকারে আসে না। বরং এই সময়টাতে সারাজীবনের সঞ্চিত সম্পদ ধ্বংস হয় রোগের চিকিৎসা করতে করতে। যে মানুষটা ৬০ বছর বয়সে দারুণ সফল উজ্জ্বল ছিল সেই মানুষটা ৮০ বছর বয়সে গিয়ে নিতান্ত অসহায় অবহেলা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে। তাতে স্পষ্ট যে এই বাড়তি ২০ বছর আয়ুষ্কালের প্রায় পুরোটাই অপচয়।
এক শতক আগেও মানুষ গড়পড়তা ৬০ বছর বাঁচতো। সেই সময়ের ভেতরেই জীবনের সকল কাজ সম্পন্ন করে শান্তিতে মরতে পারতো। ডাক্তার হাসপাতাল নিয়ে যমে মানুষে টানাটানি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে মরতো না।
No comments:
Post a Comment