Saturday, December 28, 2024

রাজরোগ

মানবজাতির সবচেয়ে বড় অংশ দুবেলা পেট ভরে খেতে পারলেই সন্তুষ্ট। তাদের আর কোনো চাওয়া নেই। শুধু খাদ্য। সেটাই কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় অনেক জায়গায়। আবার যাদের যথেষ্ট খাদ্য আছে তাদের একটা অংশ নিজেদের মতবাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য দুনিয়া জুড়ে দাঙ্গাহাঙ্গামা লাগাতে ব্যস্ত। ভূগোল দখলের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় ব্যস্ত থাকে আরেকটা অংশ। সারা পৃথিবীতে ইউরোপ, আমেরিকা আর পূর্ব এশিয়া নিজেদের ভালো বুঝতে পেরে যুদ্ধের খেলা থামিয়ে দিয়ে উন্নতি করে যাচ্ছে গত অর্ধশতাব্দী ধরে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার প্রায় পুরোটা এখনো নির্বুদ্ধিতার জগতে বাস করছে। এরা ধর্ম, গোত্র, জাতি ইত্যাদি নানান মতবাদে বিভক্ত হয়ে অশান্তি জারি রেখেছে বছরের পর বছর। বাংলাদেশে সেই নির্বোধদের একটা অংশ প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে। এই দেশের বড় অংশের মানুষ চোর, প্রতারক, ভন্ড। একইসাথে এরাই আবার প্রচণ্ড ধার্মিক। উপমহাদেশের প্রধান দুই ধর্ম হিন্দু আর মুসলমান এই মানুষগুলোর আশ্রয়। এরা নিজেদের মধ্যে দাঙ্গা করে আবার পরস্পরের সাথেও দাঙ্গা করে। এরা নিজেদের কেবল শ্রেষ্ঠ বলার জন্য অগণিত খুনাখুনি করতে পারে। এরা নিজেরা নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলতে চায়। এরা বোঝে না নিজেকে নিজে কেউ শ্রেষ্ঠ বললে সেটা দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব বোঝায় না। অন্যেরা যখন শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃতি দেয় তখনই কেউ শ্রেষ্ঠ হতে পারে। নিজেকে নিজে শ্রেষ্ঠ বলা মূর্খতা এবং লজ্জার বিষয়। কিন্তু লজ্জার বদলে অহমিকা তাদের অন্ধ করে রেখেছে তাই নিজেদের শ্রেষ্ঠ ভাবার অসুখ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। এই অসুখে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশ বাংলাদেশ ও ভারত।

Sunday, December 22, 2024

মূর্খতার প্রতিযোগিতা



সারা পৃথিবীর সভ্য মানুষের উদাহরণগুলো ধারণ করে না উপমহাদেশের অসভ্য নির্বোধ মূর্খ সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো। সাধারণ শিক্ষিত মানুষের ভেতরেও সফলতার সাথে এইসব মূর্খতার সফল অনুপ্রবেশ ঘটাতে পেরেছে এরা। একশো বছর আগে উপমহাদেশে যেসব শিক্ষা সভ্যতা আলো প্রবেশ করেছিল, এই সময়ে সেই জায়গাগুলো কালিমালিপ্ত হয়ে গেছে। অন্তত কিছু মানুষের চোখে এইসব অন্ধতা গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে। এদের হাস্যকর অন্ধযুক্তিগুলো নিয়ে এরা ক্রমশ পিছিয়ে যেতে থাকবে বাকী পৃথিবী থেকে। মূর্খতার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।

জুলাই মাসে যারা বিপ্লব করলো সে বিপ্লবে দেশের বিরাট অংশের মানুষ সমর্থন করেছিল। পর্বতসমান সমর্থন নিয়ে সরকারের পতন ঘটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ৫ আগষ্টের পর থেকে সেই সমর্থন ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। গত ৫৩ বছরের ইতিহাসে যে কয়টি গনঅভ্যুত্থান হয়েছে তার কোনোটিতেই এমন হয়নি। এবার কেন এমন হলো। যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে সেই জনপ্রিয় ছাত্র সমন্বয়কগুলো ধীরে ধীরে অপ্রিয় হয়ে উঠতে লাগলো। দুমাস যাবার পর তাদের অবস্থা প্রায় গণধিকৃত হয়ে পড়েছে। কেন এমন হলো?

কারণ তারা একটা বিশাল প্রতারণা করেছে জাতির সাথে। মুখোশ পরে আন্দোলন করেছে। একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠির হয়ে কাজ করেছে। যে গোষ্ঠি বাংলাদেশে ঘৃণিত। ঘৃণিত বলেই তারা আন্দোলন করার সময় তাদের ব্যানারে রাস্তায় নামতে পারেনি। এমনকি তাদের নাম নিতেও কুন্ঠিত ছিল ৫ আগষ্টের পরেও। মানুষকে মিথ্যে কথা বলে প্রতারণা করে যখন স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছে এবং আন্দোলনে গণমানুষের অংশগ্রহনকে অস্বীকার করে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করছে, তখনই মানুষ ঘৃণায় সমর্থন তুলে নিয়েছে। ফলে এই আন্দোলনের যে ফসল ঘরে তোলার কথা ছিল তার বদলে দেশজুড়ে চরম অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে। এই দেশকে সিরিয়া না হলেও মোটামুটি পাকিস্তানের মতো পঙ্গু অথর্ব রাষ্ট্রে পরিণত করবে। বাংলাদেশের গৌরব করার মতো কোনো কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এরা নিজেরাও ডুববে, বাংলাদেশকেও ডোবাবে। কিন্তু সেটা বুঝতে অনেক লম্বা সময় লেগে যাবে। কেননা আওয়ামী লীগের মতো এরাও দলকানা। এদের অন্ধতা মূর্খতা অতীতের সকল মূর্খতাকে ছাড়িয়ে গেছে। আমরা ভবিষ্যতে এমন একটা বাংলাদেশ দেখবো, যেটা আগে কখনো কল্পনা করিনি। দক্ষিণ এশিয়ায় পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান মানুষ বাস করে, একই সাথে এখানে আছে মানুষ নামের একদল পঙ্গপাল, যারা ভালোমন্দ না বুঝে মতলবাজ ইনফ্লুয়েন্সারের কথায় গাধার জীবন বেছে নিতে পারে।

Friday, December 13, 2024

এমনি কাঁদিয়ে পোহাইবে যামিনী



না সজনী,না,আমি জানি জানি,সে আসিবে না।
এমনি কাঁদিয়ে পোহাইবে যামিনী,বাসনা তবু পূরিবে না।
জনমেও এ পোড়া ভালে কোন আশা মিটিল না॥
যদি বা সে আসে,সখী,কী হবে আমার তায়।
সে তো মোরে,সজনী লো,ভালো কভু বাসে না--জানি লো।
ভালো ক'রে কবে না কথা,চেয়েও না দেখিবে--
বড়ো আশা করে শেষে পূরিবে না কামনা॥

পাপিয়া সারোয়ারের কন্ঠে এই গানটা আমার কানে স্থির হয়ে আছে । তাঁকে কখনো মুখোমুখি দেখিনি। কিন্তু কৈশোর থেকে রেডিওতে বহুবার শুনেছি গানটা। গানটা আর কারো কন্ঠেই এত ভালো লাগেনি। ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে তিনি চলে গেলেন। একই দিনে আমার আরেকজন প্রিয় মানুষের প্রস্থান ঘটলো। সেও অনেক বাসনা পুরণ না করে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল।


পাপিয়া সারোয়ার চলে যাবার খবরটা পেয়েছি লেখক ইমতিয়ার শামীমের পোস্ট থেকে। সেটাই তুলে রাখলাম এখানে।

সেই কৈশোরেই আমাদের জানা হয়ে গিয়েছিল, ‘জনমেও এ পোড়া ভালে, কোনো আশা মিটিল না’; জানা হয়ে গিয়েছিল, ‘এমনি কাঁদিয়ে পোহাইবে যামিনী, বাসনা তবু পুরিবে না’; জানা হয়ে গিয়েছিল— কেননা এমন কোনও দিন ছিল না, যেদিন একজন পাপিয়া সরোয়ারের কণ্ঠ বেতারে শোনা যেত না, ইথারে ভেসে ভেসে ধরা দিত না আমাদের শ্রুতিজগতে।
গাঁয়ে আমার মা-বাবা বাড়ির পূবদুয়ারি যে ঘরটির দক্ষিণদুয়ারি একটি কোঠায় একদা আমি বাস করতাম, যে ঘর কিংবা কোঠার কোনো অস্তিত্ব এখন আর নেই, সেখানে কখনো লালরঙা রেডিওটায় ‘ হোল না লো হোল না লো সই ‘ বেজে উঠলেই বাড়ির ভেতরের উঠান থেকে ভেসে আসত কাজের মেয়ে কোমেলার তীব্র হাসি; কিন্তু কখনো সেই একই কণ্ঠ ‘নাই টেলিফোন নাই রে পিওন নাই রে টেলিগ্রাম’ গেয়ে উঠলে তাকে আর হাসতে দেখা যেত না।
তখন খুব বেশি মানুষজন রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনতেন না, গাইতেন তো একেবারেই হাতেগোণা কয়েকজন। কিন্তু আমাদের অজ পাড়া গ্রামটিতে অদ্ভূত এক কারণে সবাই রবীন্দ্র সঙ্গীতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল। গাঁয়ের রাখালদেরও যখন-তখন দেখা যেত গরু চড়াতে চড়াতে গাইছে, ‘ওগো নদী আপন বেগে পাগলপারা...’, গাইছে ‘ ভেঙে মোর ঘরের চাবী, নিয়ে যাবি কে আমারে...’। ছায়ানটের একেবারে প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন আমাদের এক ফুফাতো ভাই, যাকে আমরা ডাকতাম ঢাকার খোকন ভাই নামে। কী যে তাঁর হয়েছিল, লেখাপড়া বাদ দিয়ে গাঁয়ে গিয়ে থেকেছিলেন তিনি বছরের পর বছর। কামরুল হাসানের ব্রতচারী বিদ্যায় দীক্ষিত সেই ভাই সকাল বিকাল শুধু ব্যায়াম করতেন আর হারমোনিয়ামে রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইতেন। আরও একটা কাজ ছিল তাঁর, গাঁয়ের পুকুর আর জলাভূমিতে ছিপ ফেলে ধৈর্য ধরে বসে থাকতেন পারে। অমন গভীর মনযোগ দিয়ে মাছ ধরতে আমরা আর কাউকেই দেখিনি। কী অদ্ভূত, গোপীবাগের সেই খোকন ভাইয়ের রবীন্দ্র সঙ্গীত গাওয়াকে ভ্যাঙচাতে ভ্যাঙচাতেই আমরা গাঁয়ের আপামর জনগণ বেসুরো কিন্তু নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়লাম রবীন্দ্র সঙ্গীতের সঙ্গে।
ওই বয়সে, খোকন ভাই যখন বলতেন, একেবারে মুখোমুখি বসে গান শুনেছেন পাপিয়া সারোয়ারের, তখন খুব অবাক হয়ে যেতাম—সত্যি বলছে তো?!
যেভাবে হুট করে এসেছিলেন, কয়েক বছর বাদে তেমনি হুট করে আবারও গোপীবাগমুখো হলেন খোকন ভাই। আমি বলি, সেদিন থেকে আমাদের গাঁয়ের মানুষজন হারাতে শুরু করল মাছ ধরার অপরিসীম ধৈর্য্য, হারাতে বসল জীবনের সুর ও রবির প্রাণশক্তি। তবু বেতারে পাপিয়া সারোয়ার কিংবা কাদেরী কিবরিয়ার কণ্ঠ ভেসে আসত, আর আমরা উপলব্ধি করতাম, ‘বাসনা তবু পুরিবে না।’
তারপর বয়স বেড়েছে, আরও কতজনের রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনেছি, কবে যে প্রিয় শিল্পীর গান বেছে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি, শুনতে শুনতে কবে যে পাপিয়া সারোয়ারের কথা ভুলে গেছি, তা আর বলতে পারব না। কিন্তু এখন দেখছি, না, তাকে ভুলে যাইনি, হারিয়েও ফেলিনি; মনে করিয়ে দিলেন অন্তরতর তিনি; মনে করিয়ে দিলেন ‘বড় আশা করে শেষে পুরিবে না কামনা।’
পাপিয়া সারোয়ার
(২১ নভেম্বর ১৯৫২—১২ ডিসেম্বর ২০২৪)

Tuesday, October 22, 2024

শেয়াল ও শকুনের রাজত্বে

এদেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান দুর্বলতা হলো মানুষকে মানবিক, যৌক্তিক এবং একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে না পারা। আদিকাল থেকে জেনেটিক কারণে এই অঞ্চলের মানুষেরা দুই রকম। একদল খুব সরল, আরেকদল খুব গরল। সরলদের একাংশ প্রায়ই গরলদের পাল্লায় পড়ে বলদে পরিণত হয়। সেই বলদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। এদেরকে নানান হাটে বিক্রি করা যায়। কেউ বিক্রি হয় ধর্মের হাটে, কেউ বিক্রি হয় রাজনীতির হাটে, কেউবা প্রতারণার হাটে। মতলববাজরা এখানে সবসময় সফল হয়। একসময় অশিক্ষিত বলদের সংখ্যা বেশি ছিল। এখন শিক্ষিত বলদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। দেশে এমনসব উচ্চশিক্ষিত বলদ আছে, তাদের শিক্ষার পেছনে রাষ্ট্র যে ব্যয় করেছে সেটা পুরোপুরি অপচয়। শিক্ষিত বলদ চেনার জন্য ফেসবুক সবচেয়ে উপযুক্ত হাট। ফেসবুকের হাটে পালে পালে বলদের দেখা মেলে, যারা নিজ নিজ খোয়াড়ের প্রতি পক্ষপাত দেখাতে নানান হাস্যকর যুক্তি উপস্থাপন করে। 

সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র নির্মোহ যুক্তিসঙ্গত মানুষের সংখ্যা এতই কম যে, এদেরকে খালি চোখে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অনুবীক্ষণিক জীব হয়ে অদৃশ্য জীবনযাপন করে। তাদের যুক্তির কথা কোনো বলদের কানে পৌঁছায় না। ফলে কোনো না কোনো মতলবাজ এদেশে ফটকাবাজী করে যায় সারা বছর। গত অর্ধ শতাব্দী এমনই চলছে। এই বলদদের নেতা হয় শেয়াল শকুনের দল। তাদের পেছনে নিয়ে কেউ কেউ রাষ্ট্রক্ষমতা পর্যন্ত দখল করে। তাই আমরা দেখি এক শেয়াল যাবার পর আরেক শকুন আসে। শেয়ালপর্বের বলদেরা শকুনের বিরুদ্ধে, শকুনপর্বের বলদেরা শেয়ালের বিরুদ্ধে লড়তে থাকে। বাংলাদেশ এই সব বলদের কারণেই কখনো শেয়াল ও শকুনমুক্ত হতে পারলো না। আগামীতেও পারার কোনো লক্ষণ এখনো দেখছি না। যে ছেলেটা কিশোর বয়সে দারুন যুক্তিবাদী স্মার্ট হিসেবে বড় হচ্ছিল, সে তারুণ্য পেরোবার আগে শকুন বা শেয়ালের পাল্লায় পড়ে বলদে পরিণত হয়। তাদের ইশারায় সকল তৎপরতা চালায়। তার নিজস্বতা বলে কিছু দেখা যায় না। 

আমরা জানি আবার নতুন কিছু ঘটবে। এই বলদেরাই আবার ঢুশাঢুশি করবে। এখন কিছু অবসরপ্রাপ্ত বলদও দেখা যাচ্ছে, যারা শেয়াল ও শকুনের হাতিয়ার হিসেবে জোয়াল টেনে যাচ্ছে। যে শেয়াল এতদিন গর্তে ছিল, তারা বেশিয়ে এসেছে, যে শকুন এতদিন লাশের সন্ধানে ছিল, তারা অনেকগুলো লাশ পেয়েছে। শেয়াল-ও শকুনের রাজত্বে মানুষেরা গৃহবন্দী হয়ে থাকে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের প্রজন্ম মানুষের শাসন দেখেছে খুব অল্প সময়ের জন্য। আমাদের পরের প্রজন্ম হয়তো পুরোটাই শকুন রাজত্ব দেখবে। তাদের জন্য সমবেদনা।


Thursday, October 17, 2024

ইতিহাস=অতীত

 ইতিহাস=অতীত। যাহাই অতীত, তাহাই  ইতিহাস। 


অতীতকালের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এটা পৃথিবীর যে কোনো শক্তির ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আপনি ভবিষ্যতকে বদলাবার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু অতীতকে এক বিন্দুও বদলাতে পারবেন না। কিছুতেই না। অতীতকে কেউ জোর করে তৈরি করতে পারে না, কেউ জোর করে মুছতেও পারে না। মিথ্যে ইতিহাসকে জোর করে গেলানোও অসম্ভব সেটাও বারবার প্রমাণিত।


অধিকাংশ তৃতীয় বিশ্বের ক্ষমতাবানরা ইতিহাসকে নিজেদের মতো লিখতে চেষ্টা করে। এটা একটা মূর্খতা কিংবা হাস্যকর মানবিক দুর্বলতা।


মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রধান স্তম্ভ। সেই স্তম্ভে কার কী ভূমিকা ছিল, সেটা লেখা হয়ে গেছে। মিথ্যে শব্দে কাগজের ইতিহাস নয়, সময়ের খাতায় লেখা ইতিহাস। 


ইতিহাস আজকে যে সত্য বলবে, একশো বছর পরও সেই সত্য বলবে, পাঁচশো বছর পরেও তাই বলবে। মানুষ সংকীর্ণ দৃষ্টির কারণে বেশি দূরের জিনিস দেখতে পায় না। 


সভ্যতার নিরিখে ১০০ বছর কোনো সময়ই না। এক হাজার বছর পর বাংলাদেশের গত ১০০ বছরের সকল ঘটনার মধ্যে হয়তো মাত্র একটা টিকে থাকবে। যদি একটি মাত্র ঘটনাপর্ব টিকে থাকে তাহলে সেটি হবে ১৯৭১ সাল। একাত্তরে কার কী ভূমিকা ছিল সেটা কোনো রিসেট বাটনে টিপ দিয়ে বদলানো যাবে না। ইতিহাস নিজের শক্তিতেই টিকে থাকবে। কোনো ক্ষমতাবানের শক্তি নেই তাকে বদলানোর। যুগ যুগ ধরে যারা নিজস্ব ন্যারেটিভ তৈরি করে বদলানোর চেষ্টা করেছে তারাই ইতিহাসের নর্দমাতে ঠাঁই পেয়েছে। 


 ব্যক্তিগতভাবে আমি অন্তত ৭৫-৮০টি দেশের ইতিহাস পড়েছি। তাতে যা দেখেছি ইতিহাস কীর্তিকেই ধারণ করে। সুকীর্তির কারনে ব্যক্তিকে মনে রাখে।  ক্ষমতাবানদের বুদ্ধি থাকলে তারা ইতিহাস বদলানোর চেষ্টা না করে সুকীর্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করতো। তাই ইতিহাস বদলানোর সংকট নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত থাকি না।


Monday, September 30, 2024

লেভান্টের দানব

ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে যেখানে তুরস্ক, লেবানন, সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল, প্যালেস্টাইনের অবস্থান, সেই এলাকাকে সম্মিলিতভাবে লেভান্ট অঞ্চল বলা হতো। সেটা ছিল পৃথিবীর প্রাচীনতম মানব সভ্যতার কেন্দ্রভূমি। মানবজাতির প্রধান খাদ্যশস্যের প্রাচীন উৎসভূমিও ছিল ওই অঞ্চল। কয়েকশো বছর আগে সেই এলাকা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। অটোমান সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা সেই অঞ্চল দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যে সুবিধা করতে না পেরেই কলম্বাস, ভাস্কো দা গামাকে পুরো দুনিয়া চষে বিকল্প রাস্তা বের করতে হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেই সুখী সমৃদ্ধ অঞ্চলে ইসরায়েল নামের একটা বিষফোঁড়া বপন করলো ইউরোপ-আমেরিকার সম্মিলিত শক্তি। চারপাশের আরব দেশের মাঝখানে একটা হাইব্রীড রাষ্ট্র। সেই রাষ্ট্র পুরো লেভান্ট এবং আরব অঞ্চলকে অশান্ত করে রেখেছে গত ৫০ বছর ধরে। এই বিষফোঁড়া যদি পৃথিবী ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দানবীয় তাণ্ডব গাজা ছাড়িয়ে লেবানন ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এটা ইরান তুরস্কসহ আরো অনেক দেশকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেললে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠবে। আর মানবজাতির হাতে যে পরিমাণ বিধ্বংসী অস্ত্র আছে তাতে এই গ্রহের কোনো অংশ রক্ষা পাবে বলে মনে হয় না। যেখানে সরাসরি যুদ্ধ হবে না, সেখানেও মানুষ কাতারে কাতারে মরতে থাকবে দুর্ভিক্ষ আর মহামারীতে। বিষাক্ত বায়ুতে পৃথিবীর প্রাণ প্রকৃতিও অবশিষ্ট থাকবে না। বৃটেন-আমেরিকার পোষ্য এই দানব দুদিন আগে লেবানন আক্রমণ করে ধ্বংসের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করেছে। নেতানিয়াহু নামের এই দানবকে থামাতে না পারলে ইউরোপ আমেরিকার শান্তিপূর্ণ জীবনও অক্ষত থাকবে না। দেরি হয়ে যাবার আগে তাকে কেউ থামাবে?

Wednesday, September 25, 2024

পাহাড় বিক্রির বিজ্ঞাপন

 পাহাড় বিক্রির বিজ্ঞাপন: চিঙ ওয়েঙ

যারা পাহাড়ে জমি কিনতে চান আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। একটা পাহাড় কিনে দিব। তবে বউ বাচ্চা নিয়ে বাড়ি বানিয়ে থাকতে হবে। আপনার বউ সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠে পাহাড়ের নিচে ছড়া তে পানি আনতে যাবে।  সেই পানি মাথায় করে বাড়িতে নিয়ে আসবে আপনার বউ। আর হে, শীতকালে কিন্তু ছড়ার পানি শুকিয়ে যাবে!আপনি জুম চাষ করবেন পাহাড়ে।( তবে এই জুম চাষ শুধুমাত্র বর্ষাকালে করা যাবে। বাকি মাস ৪০০ টাকার মজুরি তে জংগলে কাজ করতে হবে)।  দূপুর বেলা আপনার বউ  তেল ছাড়া খাবার নিয়ে আসবে জুম ঘরে! নতুবা জুমের সবজি, ছড়ার কাঁকড়া ধরে বাঁশের চুঙ্গাই ভরে রান্না করে খাবেন তেল আর মসলা ছাড়া। মাঝে মাঝে আমরাও গেলাম আপনার অতিথি হতে। এক দুই দিন আপনার পাহাড়ের ভিলাতে থেকে আসলাম। আর হে আপনার বাচ্চাদের কিন্তু ইস্কুলে পাঠাতে হবে। ইস্কুলে যেতে দুই তিন কিলো হাটা লাগবে কিন্তু!!! 

কেউ চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন। দেখলাম আমার পরিচিত অনেকেই পাহাড় কিনতে চাচ্ছেন । 

জমির দাম একরে ১০ হাজার টাকা মাত্র!!!

----------------------------------


বন্ধুতালিকার একজনের শেয়ার করা বিজ্ঞাপন পোস্টটি পড়ে আমার কয়েক বছর আগের সাজেকের একটা অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ল। সাজেকের প্রাইমারী স্কুলটার পেছনদিকে একটা রাস্তা নেমে গেছে খাড়া নীচের দিকে। মনে হলো সেদিকে একটা পাড়া  আছে। একদিন ভোরবেলা নাস্তা করার আগে হোটেল থেকে বেরিয়ে আমি কৌতূহলী হয়ে সেই পথ দিয়ে পাহাড়ের নীচের দিকে নেমে গেলাম। অনেকটা পথ নামার পর দেখলাম মাথায় দুটো কলসী(একটার ওপর আরেকটা) বসিয়ে একটা বাচ্চা ছেলে উঠে আসছে। ওকে একটু থামিয়ে আলাপ করলাম। জানতে চাইলাম কোথা থেকে পানি আনছে। সে জানালো নীচের দিকে একটা ঝরনা আছে সেখান থেকে ঘরের জন্য পানি আনছে। সেই ঝরনার খোঁজে আরো নীচে নেমে যেখানে গেলাম, সেখান থেকে  উঠে আসতে খালি হাতেই আমার দম বেরিয়ে যাবার দশা। আমি তখন ভাবছিলাম ওই ৯/১০ বছরের বাচ্চাটার মাথায় রাখা কলসীগুলোর কথা।