Tuesday, August 12, 2014

নাগরিক পরাধীন পরিবহন যন্ত্রণা এবং যানবাহনের স্বাধীনতা-গনতন্ত্র @চট্টগ্রাম

নাগরিক বাহন হিসেবে রিক্সা এবং টেক্সির অবস্থান অন্যতম সেরা। পাবলিক গাড়িতে যারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না তাদের জন্য রিক্সা বা টেক্সির বিকল্প নেই। আমার নিজের গাড়ি নেই, পাবলিক গাড়িতে স্বচ্ছন্দবোধ করি না। তাই আমাকে রিক্সা টেক্সি ভাড়া খাতে চড়ামূল্য দিতে হয় প্রতিমাসে। গত দশ বছরে এর পেছনে যা খরচ করেছি তাতে দুটো জাপানী রিকণ্ডিশনড গাড়ি কেনা যেতো অনায়াসে। ড্রাইভিং জানলে কিনেই ফেলতাম হয়তো। আলসেমির কারণে ড্রাইভিং শেখা হয়নি আজো। কথা হলো, রিকশা টেক্সি ভাড়া বৃদ্ধির হার বাংলাদেশে যে কোন দ্রব্যের চেয়ে কয়েকগুন বেশী।

আজ থেকে আটাশ বছর আগে আমাদের আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের বাড়িটা তৈরী হয়। সেখান থেকে স্মৃতিচারণ করে বলতে পারি তখন বাসা থেকে রিকশায় চৌমুহনী যাবার ভাড়া ছিল ২ টাকা। দূরত্ব এক মাইল। সাধারণত এক মাইলের ভাড়াকে ন্যূনতম ধরা হয়। কথ্য ভাষায় 'ওঠানামা দুই টাকা'। সেই ভাড়া এখন দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা। পচিশ বছরে এই বৃদ্ধি খুব বেশী মনে হবে না যদি চালের দামের সাথে তুলনা করি। চালের দামও দশগুন হয়েছে পচিশ বছরে। কিন্তু যদি পাঁচ ছয় বছর আগের কথা ধরি তাহলে চমকে উঠতে হয়। ২০০৮ সালেও রিকশাভাড়া ওঠানামা ছিল ৫ টাকা। বেপারী পাড়া টু চৌমুহনী। এই কবছরে তা চারগুন হয়ে গেছে! ভাবা যায়? চালের দাম ২০০৮ সালেও যে চালের দাম ৪০ টাকার মতো ছিল এখন তা ৫০ টাকা। অর্থাৎ চালের দাম বেড়েছে ২৫% কিন্তু রিকশাভাড়া বেড়েছে ৪০০%। এটা রীতিমত ডাকাতি। কথাটা শুধু রিকশা না টেক্সির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সিএনজি টেক্সির ওঠানামা ভাড়া ছিল ২০ টাকা। আগ্রাবাদ থেকে ইপিজেড ভাড়া ছিল ৫০ টাকা। এখন তা হয়ে গেছে যথাক্রমে ৫০ ও ১০০ টাকা। টেক্সি ভাড়া বেড়েছে ২০০% এরও বেশী। এই দামগুলো কেউ নিয়ন্ত্রণ করে না। যে যার খুশীমতো বসিয়ে নেয়। সরকার বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব আমরা অনুভব করি না এই খাতে। সম্ভবতঃ বাংলাদেশে পরিবহন খাতটা সর্বাধিক গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা উপভোগ করে। তাদেরকে ধরা ছোঁয়ার কেউ নেই। এমনকি রাস্তায় কোন গাড়ি চলবে সেটা সরকারও জানে না। যে কেউ কয়টা চাকা লাগিয়ে তার উপর যেনতেন তোবড়ানো টিনের কাঠামো বানিয়ে তাকে নসিমন সলিমন কোন একটা নামে ডেকে চালানো শুরু করতে পারে। কোন লাইসেন্স ইত্যাদির বালাই নেই। ট্রাফিক পুলিশের সাথে সমঝোতা করেই শহর দাপিয়ে বেড়াতে পারে।

আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে। এরকম স্বাধীন জাতের গাড়ির মধ্যে প্রথম চালু হয় টেম্পু। চট্টগ্রামের উদাহরনই দেবো এখানে যেহেতু আমার অভিজ্ঞতা চট্টগ্রামেই। আগ্রাবাদ থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত শেয়ার টেক্সি চালু হলো প্রথমে। কিছুদিন পর টেক্সির সাইজ একটু বদলে যেতে দেখলাম। কোন গ্যারেজে স্থানীয় ভাবে টেক্সিকে একটু মডিফাই করে একটা সিটের বদলে দুটো মুখোমুখি সিট করে দেয়া হয়। তার কিছুদিন পর সিটের দৈর্ঘ বাড়তে থাকে। এরকম গাড়ি একটা দুটো বাড়তে থাকে। প্রথমদিকে খুব আরামদায়ক লাগে। প্রায় বাসের ভাড়া দিয়ে টেক্সিতে চড়ার মজা। সিট ক্যাপাসিটি বলে কথা। তখন আশির দশকের শেষভাগ। শহরে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ছিল দুরকম। লম্বা নাকের মুড়ির টিন নামক কাঠের বাস। আর স্টিল বডির কোস্টার। দুই গাড়ির ভাড়াও দুরকম ছিল। কোস্টারের ভাড়া বেশী। বসার সিট বেশী। মুড়ির টিনের ভাড়া কম, বসার সিটও কম। অধিকাংশ যাত্রী দাড়িয়ে। একদিন সেই মুড়ির টিনগুলো সিট সংখ্যা বাড়িয়ে নিজেদেরকে কোস্টার বলে ডাকতে শুরু করে এবং ভাড়া নির্ধারণ করে কোস্টারের মতো। এটা কিন্তু সরকার করে নি। নিজেরা নিজেরাই সব করেছে। সরকার হয়তো ভেবেছে স্বাধীন দেশ, ওদের যা ভালো লাগে করুক।

কিছুদিন পর লম্বু সাইজের টেক্সিগুলো নিজেদের আলাদা সত্ত্বা গড়ে নেয়। তখন ভারত থেকে চেসিস এনে তেরপলের ছাউনি দিয়ে এখানেই বানানো শুরু হলো নতুন ধরনের যান। আদর করে নাম দেয়া হলো টেম্পু। আনঅফিশিয়াল নাম। লোকের মুখে মুখে চালু হতে হতে নামটা থেকে গেল। টেম্পু জিনিসটা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে গেল। আমার মতো পাবলিক ট্রান্সপোর্টে অনাগ্রহীরা টেম্পু দিয়ে চলাচল শুরু করলো। মাইল প্রতি প্রথম ভাড়া সম্ভবতঃ ৫০ পয়সা। তখন বাসভাড়া মাইল প্রতি ২৫ পয়সা। টেম্পুর জনপ্রিয়তা এবং একচেটিয়াত্ব এক দশকের কম নয়। তারপর একদিন শহর আরেকটু স্মার্ট হলো যেদিন নাভানা ম্যাক্সি নামের কিছু ভ্যান নামায়। টয়োটা ভ্যানের পেছনে তিন সারি সিট দিয়ে চমৎকার সার্ভিস দিয়ে যাত্রা শুরু ম্যাক্সির। দ্রুতগতির বাহন হিসেবে পরিচিতি পায়। ভাড়া মাইলপ্রতি এক টাকা। টেম্পুর দ্বিগুন হলেও মানুষ পছন্দ করে গাড়িটা। কেননা এটি টেম্পুর মতো ধীরগতি না, এক টানে গন্তব্যে পৌছে দেয়। মনে আছে ইপিজেড থেকে না থেমে এক টানে আগ্রাবাদ চলে যেতাম আমরা। নাভানা ম্যাক্সির জনপ্রিয়তায় উত্তরা মোটরস নিয়ে আসে টাটা ম্যাক্সি। একই ভাড়া একই সার্ভিস। কিন্তু এক বছরের মাথায় টাটা জবরজং লোহা। নাভানার সাথে পাল্লা দিতে পারে না। এর পাশাপাশি চালু হয়ে যায় রাইডার, রেঞ্জার নামে দুই রকমের গাড়ি। ম্যাক্সির চেয়ে একটু বড়। কিন্তু একই সার্ভিস প্রায়। এদের জনপ্রিয়তা দেখে বাস মালিকেরা কিছু স্পেশাল বাস নামাতে শুরু করে। বাসগুলো স্পেশাল সিটি সার্ভিস নাম দিয়ে চালু হয়। সিট ক্যাপাসিটি। ভাড়া মাইলপ্রতি ১ টাকা। যেখানে সেখানে দাড়ায় না। টাইম মেনে চলে। চট্টগ্রামে যানবাহনের ক্ষেত্রে সেই এক স্বর্নযুগ এসেছিল। কিন্তু বছর দুয়েক পরে সবগুলো গাড়ি জবরজং হয়ে যায়। কেউ নিয়ম মানে না, যেখানে খুশী দাড়ায, মুড়ির টিনের চেয়ে আরো খারাপ অবস্থা। ভাড়া বাড়াতে থাকে। কিন্তু যাত্রী নেয় বোঝাই করে। এমনকি রাইডারের মধ্যেও দাড়িয়ে প্যাসেঞ্জার নিতে শুরু করে। নগর পরিবহনে নেমে আসে চরম দুর্যোগ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সরকার নীরব দর্শক। সরকারের কিছুই বলার নেই। গাড়িওয়ালাদের কাছে জিম্মি হয়ে যায় সাধারণ মানুষ।

গত পাচ বছরের বেশী সময় ধরে এই অরাজকতা চলছে চট্টগ্রামের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমে। কিন্তু কোথাও কারো কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। আগে বিআরটিসির কিছু বাস চলতো শহরে, এখন সেই বাসগুলোকে দেখি সকাল বিকাল গার্মেন্টস শ্রমিক টানছে। সিটি সার্ভিস নামের চিটিং সার্ভিসের কাছে এরাও আত্মসমর্পন করে নিজেদেরকে বিলীন করেছে স্রোতে।

পাবলিক ট্রান্সপোর্টের এই দুরাবস্থায় আমাকে কয়েকগুন বেশী ভাড়া দিয়ে টেক্সি রিকশায় চড়তে হয়। আমি প্রতিমাসে মাছের বাজারে যে পরিমান খরচ করি, তার দ্বিগুন খরচ করি এসব যানবাহনে। করতে বাধ্য হই। আমি জানি পরিবহন খাতে এত বেশী খরচ করতে না হলে আমাদের জীবনটা আরেকটু স্বচ্ছন্দ হতো। স্বচ্ছলতা একটু হলেও বাড়তো।

এসব ব্যাপারে সরকার নজর দেবে না এটা প্রায় নিশ্চিত। আমাদের দুর্ভোগ যুগের পর যুগ চলে যাচ্ছে। তবু কোথাও নড়ন চড়ন নেই। মানুষও মেনে নিয়েছে অবধারিত দুর্ভাগ্য। অতএব এইসব অনিয়মকে ভালোবেসেই আমাদের দেশপ্রেমের নজির রাখতে হবে।


চক্রপাক

কোন সুগভীর আঘাত আহত করেনি এখনো, তাই ভালো আছি। আমি আশাও করিনা বাকীটা জীবন বর্তমানের মতো নিরুপদ্রপ কেটে যাবে। এখানে ওখানে ওৎ পেতে থাকা সত্য মুখোশের মিথ্যেবাদীরা থাবা বসিয়ে দেবে যে কোন দিন। প্রিয় মানুষেরাও একদিন অচেনা হয়ে যায়, তাও আমি খুব ভালো করে জানি। সময় যা গ্রাস করতে পারেনি, গ্রাস করে নেয় সমাজ। সসংকোচে বেঁচে থাকাটাও কখনো কখনো জরুরী হয়ে যায়। পালিয়ে থাকা যে কাপুরুষেরা বাস করে আমাদের গভীরে, সেখানে সব অন্ধগলি একই সুত্রে গাঁথা। কেউ কেউ মাটির বদলে আকাশে বৃক্ষরোপণ করে অতৃপ্তি রোধের চেষ্টায়। আকাশ অঝোরে বর্ষণ করে তবু সে বৃক্ষে না হয় ফল, না হয় ফুল। নিষ্পত্র মিথ্যা চাষবাস অবশেষে মৃত জনপদে হারিয়ে যায়। সর্বশেষ যে জেগে ছিল তারও ঘুম পেয়ে যায়। তৃষ্ণারা আজ মরে গেছে। বিকল হয়েছে চেতনা। এই সময়টা আমার খুব চেনা। আগেও ছিল, আবার এসেছে ফিরে এই বৃষ্টি দুপুর বেলা।

পাশে একজন এসে ধুপ করে বসতেই চিন্তার সুত্র ছিঁড়ে যায় শাহেদের।

লোকটা বেশ স্বাস্থ্যবান, পেশীবহুল না হলেও টান টান শরীর। এক ধাক্কায় বসে শাহেদকে জানালার সাথে চেপে ধরলো প্রায়।

লোকটার দোষ নেই। এই বাসটার সিটগুলোই এরকম। কোনমতে দুজন শুটকো লোক বা বাচ্চা ছেলে বসতে পারলেও পরিপূর্ন বয়স্ক দুজন বসা খুব মুশকিল। হাঁটু ভাজ করে বুকের কাছে না আনলে সোজা থাকা যায় না। লোকটার আগমনের পূর্ব পর্যন্ত দুই পা চেগিয়ে আরামেই বসেছিল সে।

বাসের কণ্ডাকটর তোবড়ানো বডিতে থাবড়া মারতে মারতে চিৎকার করছে, "......ও-ই, হ-ইইইই, হাটগর, হাটগর..... ফোন্দোরো লম্বর, ফোন্দোরো লম্বর, ফোন্দোরো......."।

বারেক বিল্ডিং চলে এলে গাড়িটা ডানদিকে মোড় নেয়। এবার বৃষ্টির ছাট সরাসরি গায়ে এসে পড়ছে তার। বাতাসও আছে বেশ। সিগন্যাল দিয়েছে সাগরে? শার্টের কাঁধ ভিজে যাচ্ছে। কিন্তু সরে বসার উপায় নেই। পাশে সাক্ষাত দৈত্যটা পিষে ফেলছে তাকে। দৈত্যের শরীরের অর্ধেকটা সিটের বাইরে। সে উঠে দাঁড়িয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েও আটকে গেল। লোকটার বিশাল শরীর ডিঙ্গিয়ে ওঠাও যাবে না। লোকটাকে সরতে বলতে গিয়ে অবাক। এরই মধ্যে ঘুম? নাক ডাকছে তার। এই বেকায়দা আসনে বসে কেউ ঘুমোতে পারে শাহেদ ভাবতেই পারলো না।

সে কখনো কোন অচেনা লোককে ঘুম থেকে ডাকেনি। কিভাবে ডাকতে হয় বুঝতে পারছে না। 'এই যে ভাই' বলাটা কি ঠিক হবে? নাকি গায়ে হালকা একটু ধাক্কা। নাহ, সাহস হয় না ওর।
এমন সময় বাসটা একটা বেমক্কা ব্রেক কষলো। শাহেদ একটুর জন্য প্রায় উড়ে যেতো সামনের সিটে। কোনমতে সামনের রেলিং ধরে সামলেছে। কিন্তু পাশের দৈত্যাকার লোকটা এক সেকেণ্ডেই বাসে কেয়ামত করে ফেলেছে। ধাক্কার চোটে লোকটার ঘুমন্ত শরীর উল্টে পড়লো পাশে দাড়ানো দুজনের গায়ে, সেই ধাক্কার ধারাবাহিক আফটার শক একদম সামনে ইঞ্জিন পর্যন্ত পৌঁছে গেল। শেষপ্রান্তে ইঞ্জিনের সামনে দাঁড়ানো লোকটার উপর সমস্ত ধাক্কা পড়লে একটা ত্রাহি চিৎকার শোনা গেল। সামনের একটা দাঁড়ানো গাড়িকে ধাক্কা মেরেছে এই গাড়িটা। হৈ হৈ শুরু হলো রাস্তায়। মারামারি ভাঙচুর। ড্রাইভার বাসের জানালা দিয়ে নেমে ভাগলো। কণ্ডাকটর ভাগলো দরোজা দিয়ে।

শাহেদ এই ফাঁকে টুপ করে নেমে পড়লো। মাথায় বৃষ্টি নিয়ে এক দৌড়ে ফকিরহাট ওভারব্রিজের কাছে একটা হোটেলে ঢুকে দোতলায় উঠে বসলো। অনেক পুরোনো এই ওরিয়েন্ট রেস্তোঁরা। তরুণ বয়সে অনেক দুপুর বিকেল কাটিয়েছে এখানে আড্ডা দিয়ে। কাছেই জাহাজের মাস্তুল দেখা যায় কর্ণফুলী নদীতে। চায়ের অর্ডার দিয়ে আবারো ভাবতে বসলো।

কিছু কিছু জ্ঞানীর জাহির প্রবণতা অবাক করে। বিনয়ের সাথে জ্ঞানের একটা সম্পর্ক আছে। জ্ঞানের তিনটা ধাপ। প্রথম ধাপে জ্ঞানী নিজেকে জাহির করে। দ্বিতীয় ধাপে জ্ঞানী বিনয়ী হয়। তৃতীয় ধাপে এসে জ্ঞানী বুঝে, এখনো কত জানার বাকী, নিজেকে তখন নিতান্ত অজ্ঞ বলে উপলব্ধি করবে। কিন্তু আজকাল প্রথম ধাপের জ্ঞানীতে শহর বন্দর ভরপুর। তাদের মুখোমুখি হতে ভয় লাগে। জ্ঞানী লোকদের আসর সযত্নে এড়িয়ে চলি আমি। এই যে এখানে, এই রেস্তোরায় অধিকাংশ শ্রমজীবি মানুষ। এটা কুলী মজুরদের কফি হাউজের আড্ডা। এখানে এসে আমার অনেক স্বস্তি। ওদের সারল্য বা কুটনামি সবকিছুতেই একটা স্বাভাবিকত্ব দেখি। কিন্তু আমি ওদের কেউ নই। ওদের চেয়ে অনেক বেশী সুবিধাবাদী শ্রেনীতে আমার বসবাস। পাশে যে লোকটা সুরুত সুরুত করে চায়ে পরোটা চুবিয়ে খাচ্ছে, তার মতো আমিও খেতাম ছাত্র জীবনে। তখন আমারো পকেটে পয়সা থাকতো না। ডাল কিংবা ভাজি কেনার সামর্থ্য থাকতো না বলেই চা পরোটার সম্পর্কটা অত গভীর ছিল।
শাহেদ বহদ্দারহাট থেকে গাড়িতে উঠেছিল শহর দেখতে দেখতে পতেঙ্গা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে বলে। কিন্তু ওই লোকটার পতনে প্ল্যানটা ভেস্তে গেল। এখানে বাসে উঠতে আবার লড়াই করতে হবে। উঠতে পারলেও দাড়িয়ে যেতে হবে। শাহেদের ইচ্ছে করছে না অতটা পথ দাঁড়িয়ে যেতে। তাছাড়া মানিব্যাগ মোবাইল দুটোই চুরি যেতে পারে। চাকরী নেই। গেলে আর কেনা হবে না। বাজার খরচটা চলছে সঞ্চয় ভাঙিয়ে। নতুন চাকরী পাওয়া যাবে না বলে খুঁজছে না। কলম পিষে চলা যায় তেমন একটা কাজ দরকার।

পরিচিত বেয়াড়া এসে জিজ্ঞেস করলো কিছু লাগবে কিনা। শাহেদ বললো একটা সিগারেট এনে দিতে। বৃষ্টি দেখলে তার সিগারেটের তেষ্টা পায়। এমনিতে তেমন খায় না আজকাল। প্রায় ছেড়েই দিয়েছে বলা যায়।

সিগারেট ধরিয়ে আয়েশ করে ধোঁয়া ছাড়লো শাহেদ। ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছাতের দিকে ভেসে যাচ্ছে মেঘের মতো। অনেককাল আগের কথা মনে পড়লো তার। অনেক বছর আগে একজনের সাথে খুব বন্ধুতা ছিল। বন্ধু নাকি অন্য কিছু? দ্বিতীয় জন্মের মতো ছিল ব্যাপারটা। প্রথম জন্মের হাহাকার কেটে গিয়েছিল তার। শাহেদের অনেক বন্ধু ছিল যাদের প্রায় সবাই সহপাঠী। কিন্তু সার্বক্ষণিক সঙ্গসুখের বন্ধু একজনই ছিল। দিন রাতের যে কোন সময় ওর কথা ভাবতে পারতো, ভাবনায় চলে আসতো। দুজনের বন্ধুতা গভীরতার চরমে পৌঁছার পর শাহেদ বুঝেছিল বহুকাল আগেই এরকম একটা সম্পর্ক হতে পারতো। বিচ্ছিন্ন হবার পর এখন সে কোথায় শাহেদ জানে না। দীর্ঘকাল কোন যোগাযোগ নেই। দুজনেরই ঠিকানা বদলে গেছে, মন বদলে গেছে, পরিস্থিতি বদলে গেছে। তবু আজ দীর্ঘকাল পর তার কথা ভাবলো শাহেদ। এই সিগারেটের ধোঁয়াটা সেই স্মৃতিকে উসকে দিল। মনে পড়লো ধোঁয়া ওড়ানো নিয়ে ওর আপত্তির কথা। কিন্তু যেদিন বললো এই ধোঁয়ার মধ্যে ওর মায়ার সন্ধান করে প্রতি সন্ধ্যায়, সেদিন থেকে আর আপত্তি করেনি সে।

নাহ আর বসে থাকা যায় না। উঠে পড়লো সে। বৃষ্টি ধরে এসেছে। বাতাসে ঠাণ্ডা একটা ঘ্রাণ। এরকম আবহাওয়ায় হাঁটতে আরাম। এখান থেকে সোজা সল্টগোলা পর্যন্ত হেঁটে গেলে বাসে সিট পাবার সম্ভাবনা আছে। হাঁটতে হাঁটতে আবারো ভাবছে।

আমি সমুদ্রের চেয়ে পাহাড়কে বেশী ভালোবাসতাম। অথচ পাহাড়ের চেয়ে সমুদ্রেই বেশী গিয়েছি। যারা আমার বাহির দেখেছে তারা ভাববে আমি সমুদ্রকে ভালোবাসি। যারা আমার অন্তর জানে তারা বুঝবে আমি পাহাড়কে ভালোবাসলেও সমুদ্রে পড়ে থাকি বাধ্য হয়ে। পাহাড় আমাকে আশ্রয় দেয় না। অপছন্দের সমুদ্র তীরে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। জীবনটাও এরকম না? যে জীবন আমি ভালোবাসি সে জীবনের কাছে যেতে পারি না। যে জীবন আমি পছন্দ করি না তার মধ্যে আমরণ বসবাস করি। আমার মধ্যে খুব বেশী বৈপরীত্য কি?

মহেশখালের ব্রীজে উঠে অবাক হয়ে গেল শাহেদ। খেয়াঘাটটা এখনো আছে? ছোট একটা নৌকা বাঁধা ঘাটে। বাসে ওঠার বদলে নৌকায় চড়ে বসলো সে। এরকমই সে। তারুণ্যে একবার সন্দীপ যাবার জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে রাঙ্গামাটি চলে গিয়েছিল। বাসায় সবাই জানে সে সন্দীপ গেছে। দুদিন পর সে যখন রাঙ্গামাটি থেকে ফিরে এলো ওদের চোখ কপালে। এরকম দিকহারা পাখি সে। কোথায় যাবে, কিভাবে যাবে তার কোন স্থিরতা নেই। মানুষের জীবনটা অনির্ধারিত গন্তব্যে থেমে যায় না? যে লোকটা ষাট বছর বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিল সে কি চল্লিশে এসে থেমে যায় না?

প্রতিবার নৌকা চড়ার সময় মনে হয় এবার একটা নৌকাডুবি হবে। খুব ছেলেবেলায় একবার নৌকাডুবিতে পড়েছিল সে। জীবনের প্রথম স্মৃতি ওটাই। ভয়াবহ। সে কোনমতে বেঁচেছিল। নদী তাকে নেয়নি। তাই বুঝি সে আজো নদীর প্রেমে পড়ে থাকে। শংখ নদী তার এখনো সবচেয়ে প্রিয় নদী। সেখানেই ডুবেছিল জীবনের প্রথম নৌকাটি।

নদী পার হয়ে ওপারে উঠে গেল। জায়গাটা অচেনা। এটা কি আনোয়ারা না পটিয়া সে জানে না। কিন্তু এই গ্রামটাকে দূর থেকে তার ভালোই লাগতো। কেমন জনমানবহীন। একসময় এই এলাকায় পর্তুগীজ রাজত্ব ছিল। জলদস্যুদের আখড়া। এখনো কোথাও সেই চিহ্ন আছে কি?

বৃষ্টি থেমে গেছে কিন্তু বাতাস এখনো শীতল। মাটির সোঁদা গন্ধটা বেশ ভালো লাগছে। বৃষ্টিতে রাস্তার জায়গায় জায়গায় জল জমে গেছে। কিছুদুর হাঁটার পর একটা বেড়ার চা খানা। সামনের টুলে বসে এক কাপ চায়ের অর্ডার দিল। সিগারেট চাইতে দোকানী বললো, 'গোল্লিপ নাই বদ্দা'। শেষে একটা দুটাকা দামের সস্তা সিগ্রেট ধরিয়ে টানতে টানতে চারপাশ দেখতে লাগলো।

জায়গাটা একটা বাজারের মতো হলেও কেমন একটা ভুতুড়ে রহস্যময়তা পুরো বাজারজুড়ে। একসময়ের খ্যাতিমান জায়গাগুলো পরিত্যাক্ত হবার পর এরকম চেহারা নেয়। তার স্যাণ্ডেলের একটা ফিতা ছিড়ে আলগা হয়ে যাচ্ছে। এখানে কোথাও মুচির দোকান আছে? দোকানী বললো, বাজারের শেষ মাথায় একটা মুইচ্যা আছে।

মুচির দোকানটা খুঁজে পেলেও লোকজন কাউকে দেখলো না ওখানে। কোথাও গেছে। পাশের পানদোকানের ছোকরাকে জিজ্ঞেস করতে বললো, 'বা-রে গেইয়ে, ইত্তিরি আইবো'।

শাহেদ টুলে বসে অপেক্ষা করতে লাগলো। ভাবনাটা আবারো ঘুরতে লাগলো।

জীবনটা গুটিয়ে আসা একটা বৃত্তের মতো। শৈশবে বৃত্তটা অনেক বড় থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বৃত্তটা ছোট হয়ে আসতে থাকে। জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা যতই বৃদ্ধি পাক না কেন, জীবনের বৃত্তটা শুধু ছোটই হতে থাকবে। যেদিন বৃত্তটা একটা বিন্দুতে মিলিত হবে সেদিন সবকিছুর অবসান। আজকাল ঘুমোলেই তার মনে হয় বৃত্তটা একটা বিন্দু হয়ে গেল বুঝি। চমকে জেগে উঠি আমি। মৃত্যুতে আমার খুব ভয় আছে তা নয়। কিন্তু সত্যি সত্যি একদিন চলে যেতে হবে এই ভাবনাটা কেমন কান্নাবোধের মতো জেগে থাকে। তখন আর কিছুই ভালো লাগে না। অথচ আমার আর কিছুই পাবার নেই। জীবনে অগাধ সুখের স্পর্শ করতে পেরেছি বহুবার। এর বেশী কিছু চাইবার নাই। পরকাল বলে কিছু আছে কিনা জানি না। যদি থাকে তাহলে আমার জন্য কঠিন শাস্তি বরাদ্দ আছে। আমি পূন্যার্জনের কোন চেষ্টা করিনি কখনো। জীবনটা আমোদ প্রমোদে কাটাতে চাইলে পূণ্যার্জন করে কেই বা সময় নষ্ট করে। তাই শাস্তি আমার অনিবার্য। আর যদি পরকাল বলে কিছ না থাকে, তাহলে আমি বেঁচে গেলাম। মাটির সাথে মিশে যাবার পর যে রাসায়নিক উপাদান আমার শরীরকে গ্রাস করবে তার সাথে একটা কাক বা টিকটিকির মৃতদেহের খুব বেশী পার্থক্য নেই।


আরেকটা সিগারেট ধরালো শাহেদ। ছোট্ট দোকানটা। এটা ঠিক দোকান না। একটা বন্ধ দোকানের সম্মুখভাগ। মাথার ওপর একটা তেরপল দেয়া। তিনকোনা একটা দোকান। কৈশোরে এরকম একটা দোকান ছিল তাদের পাড়ায়। রমেশকাকার দোকান। দোকানটা ওর খুব প্রিয় ছিল। ওদের বাড়ির সব পুরোনো জুতো স্যাণ্ডেল মেরামত করার জন্য শাহেদ ওই দোকানে যেতো। রমেশকাকার কাজ দেখতে তার ভীষণ ভালো লাগতো। এত সুন্দর করে সেলাই করতো, যেন একটা শিল্পকর্ম। রমেশকাকার দোকানটা আসলে বাসা কাম দোকান। শাহেদ সারাজীবন যত মানুষের জীবনযাত্রা দেখেছে তার মধ্যে রমেশকাকার জীবনটাই সবচেয়ে পছন্দের ছিল। সে চাইতো ওরকম একটা জীবনের অংশ হতে। কিন্তু ভদ্রলোকের ছেলে কি মুচিগিরি করবে? কাউকে বলা হয়নি কথাটা। এতকাল পর রমেশকাকার কথা ভেবে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে গেল ভেতর থেকে। সে নিজেই এখন রমেশকাকার বয়সে এসে পৌঁছে গেছে।

দোকানী ফিরে এলে সে অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলো। এ কী? রমেশকাকা কোত্থেকে। এতদিনে তো তিনি তো মরে স্বর্গে চাষবাস শুরু করার কথা। কিন্তু সেই স্বাস্থ্য সেই চেহারা, অবিকল রমেশকাকা। কাকা বলে ডাক দিতে গিয়েও থেমে গেল সে। সে নিজেই তো এখন কাকার বয়সী। দাদা বলা যায় বড়জোর। তবে কন্ঠ শুনে ভুল ভাঙলো শাহেদের। কাকার গলাটা বেশ দরাজ ছিল। এই গলাটা অচেনা। তবু কৌতুহল জেগে থাকলো। কাজ শেষ হবার পর মানুষটার নাম জিজ্ঞেস করতেই বললো, নাম পরেশ। বাবার নাম? রমেশ।

এই তো, এই তো! শাহেদ ঠিকই ধরেছিল। বুকের ভেতর কেমন একটা আনন্দস্রোত বয়ে গেল। সে জড়িয়ে ধরলো পরেশকে। পরেশবাবু অবাক। ব্যাপার কি? সে তো শাহেদকে চেনে না।

জানা গেল রমেশকাকা মারা যাবার পর পরেশ শহরে ব্যবসা জমাতে পারেনি। দায়দেনা শোধ করতে দোকান বিক্রি করতে হয়েছিল। তারপর এদিকে চলে এসেছে। আনোয়ারার এই গ্রামে ওর শ্বশুরবাড়ি। এখানে শ্বশুরপক্ষের একজনের দয়ায় এই দোকানটা করছে। দোকানটা সাজিয়েছে বাবার মতো করেই।

বউটা মরে গেছে আরো বছর দশেক আগে। একটা মেয়ে ছিল বিয়ে দিয়েছে। সংসারে সে এখন একা। শ্বশুরের দেয়া ঘর একটা থাকলেও সে ওখানে খুব একটা যায় না। কেউ নেই, গিয়ে কী হবে। দোকানে কাজ করে এখানেই শুয়ে রাতটা পার করে দেয়।

আলাপ করতে করতেই শাহেদ ভালো করে দোকানটা দেখতে লাগলো। এই দোকান রমেশকাকার চেয়েও ছোট। এক পাশে একটা লম্বা টুল। দৈর্ঘে সাড়ে চারফুট হবে, দোকানের দৈর্ঘের সমান, প্রস্থ দেড়ফুট। টুলের ওপর চাটাই বিছানো। ওটাই বিছানা মনে হয়। রমেশকাকার দোকানেও তেমন ছিল। সেই টুলের সামনে তক্তায় বসে কাজ করে পরেশ। পেছনে কিছু জুতো স্যাণ্ডেল ঝোলানো। সামনে জুতো সেলাই এবং পালিশের যন্ত্রপাতি মালমশলা।

তবে রমেশ কাকার দোকানটি আরো সমৃদ্ধ ছিল। টুলের উপরটা বেডরুম, টুলের নীচে কিচেন। ওখানে থাকতো একটা স্টোভ। দুটো ছোট ডেকচি। কিছু বৈয়াম বোতল ইত্যাদি। কাকা কাজ করতে করতেই চুলায় ভাত ফোটাতেন। তরকারীর ঝোল নাড়াতেন। ফেরীওলার কাছ থেকে সবজি কিনতেন। আমি অবাক হয়ে দেখতাম একটা বেগুন, পাঁচটা শিম, একটা ফাইস্যা শুটকি কিনেই কাকার বাজার শেষ। দু তিন টাকার বেশী খরচ লাগতো না এসব বাজারে। শাহেদের চোখে এখনো ভাসছে কাকা ছোট একটা ফাইস্যা শুটকি দিয়ে বেগুনের ঝোলটা রান্না করছে লাল বাটা মরিচ দিয়ে। কী দারুন ঘ্রান আসছিল! শাহেদ নেশাড়ুর মতো তাকিয়ে থাকতো মুগ্ধতা নিয়ে। কাকাকে কখনো বলা হয়নি আপনার ডেকচি থেকে এক থালা ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত নিয়ে ওই বেগুনের ঝোল মেখে খেতে ইচ্ছে করছে। কাকার সেই সামান্য জীবনের প্রতি তার একবার লোভ হয়েছিল। কিন্তু সেই চাইলেই অমন জীবন পেতে পারে না। তাকে পড়াশোনা শেষ করতে হবে, বড় চাকরী করতে হবে, দেশ বিদেশের সুনাম কুড়াতে হবে।

তখন বড় চাকরী মানে বিসিএস পাশ বোঝাতো। কিন্তু বিসিএস পাশ করে কত টাকা বেতন পাওয়া যায় সেটা জানলেও ওই টাকায় সংসার কিভাবে চলে তার কোন ধারণা ছিল না। কেননা দেখেছে যারাই বিসিএস নামের সোনার হরিণ ধরতে পেরেছে তারাই রাজা উজির মেরে বেড়াচ্ছে। ছোটচাচা বলতো, তোকেও পারতে হবে। এটা আমাদের বংশের চ্যালেঞ্জ।

এখনো হাসি পায় ছোট চাচার সেই কথা মনে পড়লে। বংশের কি এমন ছিল যে ওই চ্যালেঞ্জ নিতে বলেছিলেন তিনি? পরীক্ষা দিয়েও ছিল। পাশও করেছিল ভাইবার আগ পর্যন্ত। ভাইবাতে ফেল করার পর আরেক মুশকিল দেখা দিল। যে কোন অনুষ্ঠানে বড়সড় লোক দেখলে যে কোন অজুহাতে তার বিসিএস পরীক্ষা দেবার কথাটা তুলবেই। বলতো, ও তো বিসিএস পাশ করেছিল। কিন্তু অল্পের জন্য চাকরীটা হলো না। ভাইবাতে ষড়যন্ত্র করে ফেল করিয়ে দেয়া হয়েছে। বুঝেনই তো একদম সোজা ছেলে। একদম বুঝতে পারেনি।

এধরণের পরিস্থিতিতে অপমানে লজ্জায় সে মাথা নীচু করে থাকতো। কিছু বলতে পারতো না। কেননা ছোটচাচা প্রবল ভালোবাসা দিয়ে কথাগুলো বলতো। কে জানে হয়তো বিশ্বাসও করতো। মনে আছে ভাইবার আগে তার জন্য সুপারিশ করার জন্য মন্ত্রীকে ধরার জন্য ছোটচাচা একদিন ঢাকা যাবার জেদ ধরেছিল। পরদিন ভাইবা। সেই রাতেই ঢাকা পৌছাতে হবে। কিন্তু প্লেনে কোন সিট নেই। কিন্তু কিভাবে যেন ছোটচাচা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সেই ফ্লাইটেই ঢাকা চলে গিয়েছিল পাইলটের পাশের সিটে বসে। আশ্চর্য এক মানুষ ছিলেন। তার চাকরীটা হয়নি যথারীতি। তবু পাগলামিটায় এখনো ভালোবাসার স্মৃতি মাখানো রয়ে গেছে।

শাহেদ হঠাৎ করে পরেশ বাবুকে বলে বসলো, "আজ রাতটা আমি এখানেই থাকি?"
পরেশবাবুর চোখ কপালে উঠলো। "কি বলছেন বাবু। এখানে জায়গা কোথায়?"
শাহেদ অনড়। "এখানে, এই দোকানের ঝাঁপির নীচে"।
পরেশবাবু রাজী না। "তা হয় না বাবু। আপনি চাইলে আমি আমার বাড়িতে ঝেড়ে মুছে ব্যবস্থা করে দিতে পারি। কিন্তু এই খুপড়ি দোকানে? এটা অসম্ভব। মাফ করবেন বাবু।"

অসম্ভব বুঝতে পেরে শেষমেষ হাল ছেড়ে শাহেদ উঠে পড়লো। থাকার জায়গা না পেলেও ভালো লাগছে এতকাল পর রমেশকাকার ছেলের সাথে দেখা হলো। আবার আসা যাবে একদিন।

লোকজনের কাছে পথের দিশা জেনে হাঁটতে হাঁটতে বড় রাস্তায় উঠে এলো শাহেদ। এবার কোথায় যাবে? বাঁয়ে গেলে শহর, ডানে গেলে আরো গভীর গ্রাম। কোথায় যাবে সে?

টস করার মতো ভাবলো যেদিকের বাস আগে আসবে সেদিকে উঠে পড়বো। প্রথম বাসটা এলো শহরের পথে। এটায় উঠলে ঘন্টাখানেকের মধ্যে বহদ্দারহাট। যেখানে সে ফিরতে চায় না। অন্ততঃ আজকের রাতটা। উঠতে চাইছিল না কিন্তু হঠাৎ ঝেঁপে বৃষ্টি এলো। মাথা বাঁচাতে বাসে উঠে গেল আত্মরক্ষার স্বাভাবিক প্রবণতায়।

অতঃপর মানুষকে যুগ যুগ ধরে যা করতে হয়েছে তাকেও তাই করতে হবে। কোন কারণ ছাড়াই ফিরতে হবে ঘরে। কোন কারণ ছাড়াই সে বেরিয়েছিল সকালে। আবার এই সন্ধ্যেবেলা ফিরে যাচ্ছে কোন কারণ ছাড়াই। এমনকি সে বেঁচে আছে কোন কারণ ছাড়াই। বেঁচে থাকার জন্য ফিরছে না সে, ফিরছে বেঁচে আছে বলেই।

বাসায় ঢোকার আগে মোড়ের ভ্রাম্যমান চা বিক্রেতা বুড়োর কাছে গিয়ে বললো, "এই অকর্মন্য জীবনে আরেক কাপ চা পাওয়া কি সহজ হবে?"

পরিচিত বুড়ো অবাক হয়ে তাকিয়ে চা বানিয়ে ওর হাতে তুলে দিল।

সে চুমুক দিতে দিতে মনে মনে হাসছে। ঘরে কখনো অসময়ে চা খেতে ইচ্ছে করলে যা বলে, বুড়োকে তাই বলে ভড়কে দিয়েছে।

এতক্ষণে তার মুখে একটু হাসি ফুটলো। পকেটে থাকা শেষ দশ টাকার ছয় টাকা বুড়োকে দিলে বাকী থাকে চার টাকা। তামাকের ব্যবস্থা হয়ে যাবে তাতে।

সেই সকালে একশো টাকা নিয়ে বেরিয়েছিল। এখন সেই ১০০-র ১ বাদ দিয়ে দুটো ০০ নিয়েই বাড়ি ফিরবে। ক্লাস থ্রিতে তাদের ক্লাসে একটা ছেলে অংকে ০০ পেয়েছিল বলে স্যার বলেছিলেন, খাতাটা বাড়ি নিয়ে মামলেট করে খেতে। দুটোই নাকি হাসের ডিম ছিল। অসময়ে এসব কথা কেন মনে পড়ে কে জানে।

Sunday, August 3, 2014

বন্ধুতার কোন দিবস রজনী নাই

.
সারাবছর যে বন্ধুর সাথে কাটাই তাকে বিশেষ কোন দিবসে আলাদা করে শুভেচ্ছা দিতে কেমন বিব্রত লাগে। সৌজন্য বস্তুটা বন্ধুতার সাথে সম্পূর্ণ বেমানান। বন্ধুর কোন কাজ করে দিলে যদি ধন্যবাদ পেতে হয়, সেই কাজটা ছোট হয়ে যায়। ঠাট্টা বাদে সিরিয়াস শুভেচ্ছা বা ধন্যবাদ কখনো দেইনি বন্ধুকে। যেমন দেইনি বিশেষ দিবসের কোন রঙিন কার্ড। তার চেয়ে ক্যামেরায় একটা ক্লিক করে ছবিটা বন্ধুর কাছে পাঠাই। নইলে  সাদা খাতায় আঙুল বুলিয়ে কিছু আঁকিবুকি। আমার তেমনি ভালো লাগে। খুব সাদামাটা কিছু। অথবা ছোট্ট কোন রেস্তোঁরায় বসে ধোঁয়া ওঠা চায়ের সাথে মুচমুচে পিয়াজু সালাদ। সাথে খানিকটা বৃষ্টি হলেও হতে পারে, না হলে কিছু মেঘের দল ভাসতে ভাসতে দক্ষিণ সমুদ্র থেকে উত্তর হিমালয়ের পথে চলে যেতে পারে।


২.
ভাগ্যিস ফেসবুক ছিল, নইলে এত দিবস কেমনে মনে রাখতাম। দিবসটিবসগুলো মনে করিয়ে দেবার জন্য ফেসবুকের দরকার আছে। আজ বন্ধুদিবস জানার পর টের পেলাম আমার অধিকাংশ মাইট্যা বন্ধুর কোন ফেসবুক নাই। যে কয়জন আছে তারাও নিয়মিত না, মাসে দুচারবার ঢোকে কিনা সন্দেহ আছে। ফেসবুকে শুভেচ্ছা দিলে তাদের কারো কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নাই। আবার তাদেরকে যে সুমধুর (!) ভাষায় শুভেচ্ছা দিতে অভ্যস্ত সেই ভাষাও ফেসবুক এথিকসের বাইরে। যাশশালা তাইলে আজ তোদের কাউরেই শুভেচ্ছা দিলাম না। বিফলে যাক বন্ধু দিবস। তয় নিজ নিজ দায়িত্বে ভালো থাকিস তোরা। হুটহাট কারো হার্ট অ্যাটাকের সংবাদ শুনতে যেন না হয়। মেজাজ খারাপ লাগে।


৩.
মাঝে মাঝে এরকম দিনগুলোতে আরো ভালো থাকতে ইচ্ছে করে। তুই থাকলে দিনটা আরো ভালো থাকে, বিকেলটা আরো সুন্দর, সন্ধ্যেটা আরো রঙিন। এরকম সময়ে তোর সাথে কোথাও বসতে ইচ্ছে করে। 

Tuesday, July 22, 2014

বালিশ

হাদিমের পেটে ভুটভুট আওয়াজ হয়। গুহায় কোন শব্দ নাই, আলো নাই। অন্ধকারে ভুসভুস করে নাক  ডেকে ঘুমায় একপাল মানুষ। হাদিম ঘুমাতে পারে না। গুহামুখে গিয়ে কিছুক্ষণ বসে আকাশ দেখে। চিকচিক করে অনেক তারা। আজকে চাঁদের থালিটা নাই। মেঘও নাই।

সারাদিন ধকল গেছে। শিকার ধরতে বেগ পেতে হয়েছে অনেক। একটা গণ্ডারের তাড়া খেয়ে গাছে উঠে বেঁচেছে। শেষে বনের এক পাশে গাছতলায় পড়ে থাকা হাবিজাবি ফলমুল খেয়ে পেট ভর্তি করে আসার পথে একটা খরগোশের বাচ্চা চোখে পড়লো। দেখামাত্র দেরী না করে নিখুঁতভাবে পাথর নিক্ষেপ করলো হাদিম। অব্যর্থ লক্ষ্য। চামড়া ছিলে এতটুকুন মাংস মিললো। কিন্তু এটুকুনে কি পেট ভরে? তবু পাথর ঘষে আগুন জ্বালানোর ঝক্কি ঝামেলায় না গিয়ে কাঁচাকাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেললো নাড়িভুড়ি সহ।

সেই থেকে অশান্তির শুরু। পেটটা ঢোল হয়ে আছে। কতক্ষণ গড়াগড়ি খেল সে মাটিতে। তবু ঢোলটা কমে না। কী মুশকিল। দুহাতে পেট চাপড়ালো, খামচি দিল বড় বড় নখে। কোথাও ফুটা করে দিতে পারতো যদি। পায়খানার বেগও আসছে না যে কিছু জায়গা খালি করবে।

হাদিমের মনে হচ্ছে খরগোশটা জীবিত হয়ে পেটের মধ্যে ঢুশ মারছে। হারামজাদা! এত ছোট্ট জিনিসের এত শক্তি কেমনে হয়? অন্ধকারে শুয়ে শুয়ে হাদিম ভাবতে থাকে কি করলে ঘুম আসবে। হাই উঠছে কিন্তু ঘুম আসে না। চোখ বুজতেই পেটে ঢুশঢাশ শুরু হয়। ভুটভাট শব্দটা মাঝে মাঝে এত জোরে হয় যে কানে এসেও বাজে।

শুয়ে বসে কিছুতে শান্তি নেই। মাঝরাতে সে উঠে বাইরে যায়। কাজটা সারতে পারলে আরাম হতো। একটু দূরে গর্তের পাশে বসে যায় আবার। কিন্তু অনেক কোৎকাত করেও কাজ সারা যায় না। অসমাপ্ত রেখে উঠে পড়ে।

শুনতে পায় দূরে গর্জন করছে হিংস্র প্রাণী। কিন্তু ভয় লাগছে না আজ, পেটের অশান্তিতে ভয়ডর চলে গেছে। আবার গুহায়ও ফিরতে ইচ্ছে করছে না এই অশান্তি নিয়ে। শরীরে কেমন আলস্য ধরে গেছে। হাদিম শুয়ে পড়ে একটা জঙ্গলের পাশে। কিন্তু মাথাটায় যেন আরাম লাগছে না। ব্যথা ব্যথা অনুভব। হাদিম কিছু ঘাস পাতা জড়ো করে মাথায় দিল। তাও হয় না। আরো কিছু লতাপাতা দিয়ে এক মাথা উচু করে মাথা রাখলো। এখন বেশ আরাম লাগছে। ঘুম চলে আসছে তার। পেটের ভুটভাটগুলো গলার ঢেকুর হয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। টেরই পেল না কখনো ঘুমিয়ে পড়েছে। সেই ঘুম ভাঙলো একদম সূর্য ওঠার পর। আজ প্রথম গুহার বাইরে রাত কাটালো। বিপদ হতে পারতো। দলের সবাই তিরস্কার করলো হাদিমকে।

কিন্তু হাদিমের শরীর একদম ঝরঝরে হয়ে গেছে। সে ভাবলো রাতে ঘুমোবার সময় মাথার নীচে দেয়া ঘাস লতাপাতার বোঝাটাই পেটের ভুটভাট দূর করে শান্তির ঘুম এনে দিয়েছে। তখন থেকে সে প্রায়ই ঘুমোবার আগে জঙ্গল থেকে ঘাসলতাপাতা ছিড়ে এনে মাথার নীচে দেয়। বাকীরা দেখে দেখে হাসে। ব্যাটা পাগল নাকি। কিন্তু হাদিম পাত্তা দেয় না ওসব।

কিছুদিন পর গুহার আরো একজনের সেরকম ভুটভাট সমস্যা হলো। হাদিম তাকেও ঘুমাবার সময় ঘাসপাতা দিয়ে শুতে বললো। প্রথমে সে অবিশ্বাস করলেও যখন সে ঘাসপাতা দিয়ে শুলো, তার ঘুম এসে গেল। ভুটভাট কমে গেল। তখন বুঝলো জিনিসটা কামেল আছে। তারপর থেকে আস্তে আস্তে পদ্ধতিটা জনপ্রিয় হতে থাকে।

যখন পাড়ার সর্দারের কাছে ঘাসপাতা মাথায় দিয়ে ঘুমানোর উপকারীতার কথাটা পাড়লো একজন, তখন সর্দার একটু ভেবে হুকুম দিল ঘাস পাতা নয়, তার জন্য ভেড়ার চামড়া আর লোম দিয়ে অমন একটা বোঁচকা তৈরী করে দিতে। ওটা মাথায় দিয়ে সর্দার ঘুমাতে শুরু করলো প্রতিদিন।

সর্দারকে ভেড়ার চামড়া ব্যবহার করতে দেখে কিছুদিন পর বাকীরাও ঘাসপাতা বাদ দিয়ে চামড়া ব্যবহার শুরু করলো এই কাজে। এদ্দিন ধরে কোমরে আর মাথায় এক টুকরো চামড়া পরা হতো বিশেষ উৎসবের দিনে নাচানাচি করার জন্য। এখন চামড়ার চাহিদা অনেক বেড়ে গেল বোঁচকা বানাবার কাজে।

ভুটভাট সমস্যা প্রায় সবারই থাকে। কিন্তু সেই সমস্যার চেয়েও বোঁচকার প্রয়োজনটা বাড়লো ঘুমের আরামের জন্য। মাথার নীচে একটা বোঁচকা দিলে ঘুমটা কেমন স্বর্গীয় আনন্দের ব্যাপার হয়ে যায়। এই জিনিসটা আস্তে আস্তে মানুষের কাছে অপরিহার্য হয়ে উঠতে লাগলো এবং একসময় জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে গেল।

নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন কাহিনীটা কি? হ্যাঁ, সেটাই। সেই থেকে চালু হওয়া বোঁচকটা কয়েক হাজার বছর পর বালিশ নামে পরিচিত হলো। আজ বালিশের নাম সবাই জানে কিন্তু হাদিমের নামটা বেমালুম ভুলে গেছে মানুষ।


[পাদটীকাঃ আদিম মানুষদের কোন নাম ছিল না। তবু  আধুনিক যুগের এক মানুষের কাছে 'হাদিম' নামে একজন ধরা দিল কল্পজালে। হাদিমের যুগ দশ হাজার বছরেরও পুরোনো। আধুনিক মানুষের মতে খ্রিষ্ট্রপূর্ব ৭০০০ সালের দিকে মেসোপটমিয়ার মানুষ প্রথম বালিশ ব্যবহার করে। কিন্তু তারো কয়েক হাজার বছর আগেই কোন এক গুহাবাসী হাদিম বালিশের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে সেটা কোন রেকর্ডে নেই। তাই আজ হাদিমকে চেনে না কেউ। হাদিম আজ কল্পলোকের বাসিন্দা হলেও মাঝে মাঝে সে আপনাদের সামনে আসবে তার আদিম আবিষ্কারের আরো বিচিত্র অভিজ্ঞতা নিয়ে। ]

ফতমে ডং গসসো খেনো?

আকাশে মেঘটেঘ দেখলে মনটা একটু উদাস হয়। বাঙালী মনের ধরণটাই এরকম। একটু দুঃখ দুঃখ ভাব নিয়ে মেঘ দেখবে, বৃষ্টির গান শুনবে, স্মৃতিচারণ করবে। এই দুঃখবোধ আসলে সত্যিকারের কোন দুঃখ না। সুখী জীবনের কোন একটা অংশ দুঃখের এই প্রকাশ। জীবনকে যারা উপভোগ করে তারাই এই দুঃখ বিলাস করে। সত্যিকারের যন্ত্রণা নিয়ে যারা দিন কাটায় তাদের এই বিলাসীতার অবকাশ একেবারেই নেই। মাঝে মাঝে ভালো সময়ে আমিও এই দুঃখবিলাসে জড়াই। বৃষ্টির ছাঁটের মধ্যে অচেনা কোন স্মৃতির কান্না খুঁজি, খুঁড়ে খুঁড়ে বেদনা বের করি সুখের অতল থেকে। কারণ আমি নিজেও আদি অকৃত্রিম বাঙালী।

আজ সকালের মেঘলা আকাশ, ঝড়ো হাওয়া, জানালার কাঁচে আছড়ে পড়া বৃষ্টি দেখতে দেখতে উদাস হয়ে ভাবছিলাম আজ দিনটা খারাপ না। এখনো কোন দুঃসংবাদ পীড়িত করেনি। ফেসবুকে বন্ধুদের কয়েকটা টোকা দিয়ে চোখে পড়লো একটা মজার লেখা। এটা ইতিমধ্যে অনেকের পড়া হয়েছে ফেসবুকে। আমি তবু কপি করে রাখার লোভটা সংববরন করতে পারলাম না।

চাটগাইয়া প্রেমালাপ

আশিকঃ Hi, খি গত্তেসো?
তানিয়াঃ বাত কাচ্চি।
আশিকঃ ওবাইজ্জাখোদা! লুজা লাকোনি থুমি?...
তানিয়াঃ নাহ।
আশিকঃ খেনো?
তানিয়াঃ আম্মু মানা গসসে। আমার ফরীক্ষা ছলতেসে তো, ফুরাদিন লুজা তাকলে মন দিয়ে ফত্তে ফারবো না। সেজইন্ন সবগুলা লাকতে অবেনা। শুক্কুরবারে লাকতে বলসে।
আশিকঃ আচ্চা... খি দিয়ে বাত কাচ্চো?
তানিয়াঃ ডাইন আত দিয়ে।
হি হি হি...
আশিকঃ আল্লা! আমি মনে গসসি মুক দিয়ে কাচ্চো। হো হো হো...
তানিয়াঃ থুমি বেসি বান্দর অই গেসো। থুমাকে মাইর দিতে অবে।
আশিকঃ দ না! আমি খি থুমাকে দরে লাকসি?
তানিয়াঃ হুমম... বাত কানা শেষ।
আশিকঃ বালো। খালকে খি ফরীক্কা থুমাদের?
তানিয়াঃ ইংলিশ ফতম ফত্র।
আশিকঃ ঠেনসটা বালো গরে ফড়বা। ফুরো ইংলিশ সাবজেক্ট ঠেনসের উফর।ঠেনস যথ বালো ফারবা ইংলেজিত থথ বেশি লম্বর ফাবা।
তানিয়াঃ ওবুক! থুমি তো বৌত কিসু ঝানো!
আশিকঃ হুমম...আমি ইংলিশে অনাস গত্তেসি তো...
তানিয়াঃ ওমারে! থুমি বেশি ফাখাফাখি গরো।
আশিকঃ ফাখাফাখি না গরলে মাইয়া ফঠাতে ফারবো নাথো।
তানিয়াঃ হইসে আর বেড বেড গত্তে অবে না। লুজা তেকে মানুষ এথ খতা খেমনে বলে! মারেম্মা!
আশিকঃ খে বেড বেড গত্তেসে? আমি না থুমি? ফল হন্ডেয়ার!
তানিয়াঃ থুমি ফল!
আশিকঃ তাপ্পর হাবে একন!
তানিয়াঃ থুমি কাবে!
আশিকঃ আমি কাবো না। লুজা তাকসি।
তানিয়াঃ হা হা হা... বান্দর।
আশিকঃ থানিয়া...থুমাকে একটা খতা বলবো।
তানিয়াঃ বলো।
আশিকঃ থুমার সুকগুলো কুব ঠানা ঠানা । আমার মনে খয়, সারাদিন থাকাই তাকি।
তানিয়াঃ যাহ্! আমার শরম লাগতেসে! থুমি লুজা তেকে এগুলো কি সুরু গসসো?
আশিকঃ চ্যরি...আচ্চা একটা খতা বলি?
তানিয়াঃ একন বলসো না একটা!
আশিকঃ হিটা না, আলেকটা।
তানিয়াঃ ও.খে। বলো।
আশিকঃ আমি থুমাকে অনেক বালোবাশি। থুমার মথামথ কি? থুমি খি আমাখে বালোবাশো?
তানিয়াঃ আমার খাজ আসে। কুদা হাফেজ। ফরে কতা হবে। বাই।
আশিকঃ আমার ফশ্নের উত্তর দি যাও!
তানিয়াঃ খিসের ফশ্ন?আমি খিসু শুনি নাই। ফরে কতা অবে, বাই।
আশিকঃ ফরে আর কথা অবে না। আমি আজখে তেকে আমার পেসবুকের একাউন্ট ডিট্টেবেট গরে দিব।
তানিয়াঃ দাওগা। আমাখে বলতেসো খেনো?
আশিকঃ আচ্চা, বাই। বালো তেকো। কুদাফেজ।
তানিয়াঃ এই শুনো! এথ ফাট দেকাও কেন?
আশিকঃ খে দেকাসসেদে ফাট? আমি না থুমি?
তানিয়াঃ থুমি একটু বেশি মাতো। খতা খম বলবে।
আশিকঃ হুমম... আমি আর খতাই বলবো না। থুমি খি আমার ফশ্নের উত্তরটা দিবে?
তানিয়াঃ হুমম...
আশিকঃ হুমম... খি? হ্যাঁ নাখি না?
তানিয়াঃ হ্যাঁ... আমিও থুমাকে বালুবাশি।
আশিকঃ থুমিও বাজী... এত লং গত্তে জানো যে!
ফতমে ডং গসসো খেনো?

......................................................................................................

হাসির গল্প কি? হাসতে হাসতে তবু চেয়ার থেকে পড়ে যাচ্ছি কেন।

Thursday, July 10, 2014

দুটো স্মৃতি এবং একটি সম্পর্কহীন গল্প


লাইব্রেরী ভ্রমণ

বহুদিন ধরে যাবো ভাবছিলাম। শেষবার গিয়েছি দুই দশক আগে। এমরানই নিয়ে গিয়েছিল। প্রাচীন একটা দালান। আবছা অন্ধকার ধোঁয়াশা ঢাকা একটা ঘর। টিমটিমে আলো জ্বলছে সিলিং থেকে। লম্বা টেবিল ঘরের মাঝখানে। সারিবদ্ধ চেয়ার। সারি সারি বইয়ের তাক দেয়াল জুড়ে।

ঘরজুড়ে অতি প্রাচীন একটা গন্ধ। যেন টাইম মেশিনে চড়ে হঠাৎ করে উনিশ শতকে চলে এসেছি। ঐ তো ওদিকে বঙ্কিম, রামমোহন, বিদ্যাসাগর। তার পাশেই তরুণ রবীন্দ্রনাথ কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নজরুল হামাগুড়ি দিচ্ছে ধুলোমাখা উঠোনে। জীবনানন্দ আচড় কাটছে মেঝেতে। এরা সব আমার চেনা।

আমি একটা চেয়ার নিয়ে বসে পড়লাম। মোটা একটা জার্নালে বুঁদ হয়ে গেলাম। এই তো এদের খুঁজছিলাম আমি এতকাল। সেই শেষ। দুই দশক ওমুখো হইনি। সময় পাইনি।

সেদিন আবারো ঝোঁক চেপে গেল। অফিসে ফাঁক বের করে আবারো ছুটলাম। ভেতরে ঢুকলাম। দুপুর একটা বাজে। নীরব নিস্তব্ধ পুরো দালান। একটা দরোজা খোলা। আমি আলগোছে ঢুকলাম। কেউ নেই। দিনের আলো যথেষ্ট ঢোকেনি। ঘুপঘুপ করছে অন্ধকার। চেয়ার টেবিল সব আগের মতন, আরো পুরোনো হয়েছে ২০ বছরে। একটাও মানুষ নেই।

না আছে। পেছন থেকে একজন কথা বলে উঠলো।
-কী চাই?

চমকে উঠে জবাব দিলাম,
-ইয়ে, পুরোনো কিছু বই পত্রিকা চাই।

-বই আছে পত্রিকা নাই।
-পত্রিকা কোথায়
-পত্রিকা সের দরে বিক্রি হয়ে গেছে।
-বইগুলো দেখতে চাই
-আপনি অসময়ে এসেছেন। এই লাইব্রেরী খুলবে দেড়টায়। বন্ধ হবে পাঁচটায়। আপনি এখন বাইরে যান।

আবছা আঁধারে মানুষটার দিকে দেখলাম ভালো করে। অসন্তুষ্ট চেহারা। বইপত্রের চেয়ে নিয়ম মানার দিকে আগ্রহ বেশী। বেরিয়ে এলাম। পুরোনো হতাশা এসে গ্রাস করলো। আমাদের লাইব্রেরীগুলো কেন যেন পড়াবান্ধব না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরী নিয়েও একই হতাশা ছিল।

মলিনতম অবহেলিত সেই প্রাচীন লাইব্রেরীটার নাম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশান লাইব্রেরী।


হারানো বন্ধু

রাঙ্গুনিয়া পেরিয়ে আরো বেশ কিছুদূর যাবার পর আমাদের বাসটা থামালো সরকারী বাহিনী। এক বিডিআর জওয়ান গাড়িতে উঠে কিছু একটা খুঁজছে।

আমরা তিনজন। দুজন জেগে আছি, মাঝখানের জন ঝিমাচ্ছে। বিডিআর আঙুল তুললো তার দিকে।

বললো, ওনাকে নেমে যেতে হবে। ...
আমরা জিজ্ঞেস করলাম, কেন, সমস্যা কি?
বিডিআর জওয়ান বললো, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন বিদেশী নাগরিক নিষিদ্ধ।

আমরা তাকালাম আমাদের লালগোঁফের বন্ধুটার দিকে।
ঝাঁকি দিয়ে জাগিয়ে তুলে বললাম, "ঐ বেডা তোরে ত নামি যন ফড়িবু। তোর বাড়ি হন্ডে, রাশিয়া না?"

সে ধড়মড় করে জেগে উঠে বললো -"ধুর বেডা মশকারি নচুদাইস"।

বিডিআর জওয়ান ওর ভাষা শুনে চোখ কপালে তুলে সুরসুর করে নেমে গেল। গাড়ি আবারো চলতে শুরু করলো।

সেই বন্ধুটির নাম হোসেন শহীদ। সে আজো দুনিয়াতে আছে একই শহরে আছে, কিন্তু আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছে অজ্ঞাত কারণে।


মহাচোর

দেশের উজির অনেক উচ্চ বংশীয় লোক। সমাজে সম্মানিত। অর্থে প্রতিষ্ঠিত। ক্ষমতায় দম্ভিত। শুধু একটি অতি গোপনীয় সমস্যা তার। উজির ভদ্রলোক সপ্তাহে একদিন চুরি করেন। চুরি করেন রাজকোষ থেকে। রাজা প্রতি রোববার শিকারে বেরোন, তখন তিনি চুরির কাজ সারেন। চুরির কথা রাজকোষ প্রহরী ছাড়া আর কেউ জানে না। প্রহরীকে বলে দিয়েছেন কাউকে জানালে চাকরী তো যাবেই, সাথে জানও। প্রহরী নিশ্চুপ।

একদিন ভদ্রলোকের নিজের ঘরে চোর ঢুকলো। চোর চুরি করে পালাবার আগেই ধরা পড়ে গেল। প্রকাশ্য রাজ দরবারের বিচারে সাজা হলো শূলে চড়ানো। শূলে চড়ার আগে চোর একবার রাজার সাথে দেখা করতে চাইল। রাজা অনুমতি দিল। চোর তার কোচড় থেকে একটি স্বর্ণমুদ্রা বের করে রাজার সামনে ধরলো।

রাজা বললো, "এ কী!!! এ তো রাজকোষের স্বর্ণ!!!!"
চোর বললো, "মহারাজ একটি স্বর্ণমুদ্রা চুরির সাজায় যদি শূলে চড়তে হয়, পুরো রাজকোষ চুরির সাজা কি?"

[বাংলাদেশেও বড় বাটপার ছোট বাটপারকে শাস্তি দিতে পারদর্শী যদি না তার রাজনৈতিক যোগাযোগ মজবুত থাকে]

=======================================================



Tuesday, July 8, 2014

যে চিঠি রাষ্ট্রনায়ক কখনো পড়বেন না

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

একজন সাধারণ নাগরিকের সমস্যার কথা আপনার কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা শতকরা ১ শতাংশের কম জেনেই আমি লিখছি। চিঠিটা যদি কোন সুত্র বা শাখা প্রশাখায় ভর করে আপনার কাছে পৌঁছে যায় একদিন!

আপনি বলতে পারেন এই সমস্যার কথা কেন আমি স্থানীয়ভাবে সমাধান করছি না। বাংলাদেশে অনেক সমস্যা স্থানীয়ভাবে অবহেলিত হয় অথবা স্থানীয় প্রশাসনের স্বার্থবিরোধী হবার কারণে সমাধান হয় না।

আমি বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানী প্রক্রিয়া করণ অঞ্চল চট্টগ্রাম ইপিজেড থেকে লিখছি। দশ বছর আগেও এই ইপিজেডের অবস্থা এতটা খারাপ ছিল না। পনের বছর আগে এই ইপিজেড সত্যি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিশ্রুতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু এই ইপিজেড গত পাঁচ ছয় বছর ধরে জঘন্য অবস্থায় আছে। আমি মাত্র চারটি সমস্যার কথা লিখবো আজ-

১. ইপিজেডের কুরুক্ষেত্র প্রবেশমুখ
একটা সময় ইপিজেডে গাড়ি ঢুকতে এমনকি ব্রেক কষারও দরকার হতো না। এতই মসৃন ছিল রাস্তা ঘাট প্রবেশপথ। ঢোকার পথ, বেরোবার পথ দুটো পথই ছিল মসৃন সুন্দর সুশৃংখল। এখন ইপিজেডে ঢোকা এবং বের হওয়া একটা দুঃস্বপ্ন বিশেষ। ইপিজেডের প্রবেশমুখে বসানো হয়েছে একটি কন্টেইনার ডিপো। সেই ডিপোর শত শত ট্রাক, ট্রেলার আসা যাওয়া করে রাস্তায় প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি করে, রাস্তাগুলো গর্ত হয়ে গেছে,  রাস্তার দুই তৃতীয়াংশ জায়গা ট্রাক পার্কিং হয়ে গেছে। ফলে এখানে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ও শত শত গাড়ি ঢুকা ও বের হবার জন্য লড়াই করে। শুনে অবাক হবেন, শুধু গেট অতিক্রম করতে একেকটি গাড়ির কমপক্ষে আধঘন্টা সময় লাগে।

আপনি এসব কিছুই দেখেন না, কেননা আপনি সকাল সাতটায় কোনদিন ইপিজেডে আসেননি। আর আপনার আসার আগেই রাস্তাঘাট পবিত্র করার কর্মসূচি চলে। বাংলাদেশের কোন সরকার দেশের বিশ্রী চেহারা দেখার সুযোগ পান না এই পবিত্র কর্মসূচির বলে।

২. ইপিজেডে ঢোকার অপ্রয়োজনীয় সিংহ দরোজা
আপনি জেনে অবাক হতে পারেন ইপিজেডে দুটো সিংহ দরোজা বানানো হয়েছিল কোন এক উর্বর মস্তিষ্কের পরামর্শে। যদিও আরো চারটি গেট আগে থেকেই আছে। তবু সেই ব্যয়বহুল সিংহ দরোজা বানানো হয়েছিল। সেই দরোজা দুটির একটি দিয়ে ঢোকা অন্যটি দিয়ে বের হবার পথ। গাড়ি ঢুকার জন্য দুটো ফোকড় রাখা হলেও মানুষ হাঁটার জন্য রাখা হয়েছে তিনফুটের একটা ফোকড়। সেই ফোকড় দিয়ে একজনের বেশী ঢুকতে পারে না। ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের শ্রোত ওখানে আটকা পড়ে এবং বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা গাড়ির রাস্তা দখল করে হাঁটতে থাকে। এতে শতশত গাড়ির জট লেগে যায় মুহুর্তেই। সেই জট বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত পৌঁছায় এবং সেই সড়কের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে নরক কাণ্ড চলে।

আপনাকে হয়তো বলা হবে গেট দুটো নিরাপত্তার জন্য বসানো হয়েছে যাতে অবৈধভাবে কেউ মালামাল চুরি করে নিয়ে যেতে না পারে। বলে রাখি, ইপিজেডে যারা চুরি করে তারা পুকুর চুরিই করে। পুরো ট্রাক ভর্তি করে গেটে টাকা দিয়ে মালামাল হাপিস করে দেয়। এই চুরির সাথে গেটের সব রকমের কর্মকর্তা জড়িত।

৩. ইপিজেডের অনাকাংখিত জলাবদ্ধতা
গত বিশ ত্রিশ বছরের ইতিহাসে ইপিজেডে বৃষ্টির পানিতে বন্যা হবার নজির গত চার পাঁচ বছরেই দেখা গেছে। এর আগে কোনদিন চিন্তাই করা যেতো না এখানে বন্যা হতে পারে। ইপিজেডে বন্যা হবার কয়েকটা কারণের অন্যতম হলো, পানির চলাচলের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে ইপিজেড থেকে অনুমোদিত বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। গেটের মধ্যে কন্টেনার ডিপো এবং পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ জায়গার একটা ফ্যাক্টরী এই জলাবদ্ধতার জন্য অন্যতম দায়ী। এই হলো ইপিজেডের মূল প্রবেশপথের জলাবদ্ধতা। এছাড়া ইপিজেডের খালে বাধ দিয়ে একটি পানি শোধনকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ওরা ইপিজেড থেকে বের হওয়া পানিগুলো আটকে রাখার ফলে বৃষ্টি হওয়ামাত্র খালটি উপচে রাস্তায় পানি উঠে যায়। সেই পানি আমাদের ফ্যাক্টরীর আঙিনাকেও প্লাবিত করে।

আপনাকে এই বন্যা কখনো দেখতে হয়নি কেননা আপনি এসব কুক্ষণে ইপিজেড সফরে বের হন না। আপনাকে এসব সমস্যার কথা কখনো বলা হয় না। সব কিছু ঠিক আছে, সবদিকে মসৃন সৌন্দর্যশুধুই উন্নয়ন আর অগ্রগতি। আপনাকে এই বলে ভুলিয়ে রাখা হয়। অথচ আপনি জানতেও পারেন না আইল্যাণ্ডের যে পাশে আপনি যাবেন শুধু সেই পাশে চুনকাম করা আছে, বাকী পাশটা খালি।


৪. ইপিজেডের প্রধান সড়কের আবর্জনার ভাগাড়
ইপিজেডের সামনে বিমানবন্দর সড়ক। সকল এয়ারপোর্ট যাত্রী এবং ইপিজেডের শ্রমিককর্মী এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। সকালবেলা একটা ভয়াবহ বিশ্রী একটা দৃশ্য দেখতে হয় প্রতিদিন। সড়কের পাশে একটা কাঁচাবাজারের আড়ত। সেই আড়ত ফুটপাতের পুরোটা দখল করে নিয়েছে। ফুটপাতের পাশে রাস্তার অর্ধেক জুড়ে ময়লা আবর্জনার স্তুপ। গলিত পচিত আবর্জনারা সমস্ত রাস্তাময় এমনভাবে ছড়িয়ে আছে যে গাড়ি ছাড়া কোন মানুষ হেঁটে পার হবার উপায় নেই। আপনি যদি এসি গাড়িতে চোখ বন্ধ করে থাকেন তাহলে এই বিভৎসতা আপনাকে স্পর্শ করবে না। নগরকর্তারা হয়তো তাই করে থাকেন তাই এই দৃশ্যগুলো সমাধান হয় না। এই আবর্জনা আর আড়ত একই সুত্রে বাঁধা। এখন সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে মানুষ চলাচলের পথে আড়ত আর আবর্জনার পর্বত জেগে থাকবে কিনা। লজ্জিত হয়ে ভাবি এই রোডকে ভিআইপি রোডও বলা হয় মাঝে মাঝে।

আপনি এই দৃশ্য কখনো দেখেন না কেননা আপনি আসার আগে ময়লা আবর্জনা ডাস্টবিন সব সরে যায়। আপনার ভিভিআইপি গাড়িবহর বিনা বাধায় পার হবার জন্য আমাদের দুই ঘন্টা আটকে রাখা হয় ফটকের ভেতরে।

আপাততঃ এই চারটি সমস্যার কথাই থাকুক। বাকীটা অন্য কোন একসময়।

আপনার সার্বিক মঙ্গল কামনায়-


একজন সাধারন কর্মী
চট্টগ্রাম ইপিজেড,দক্ষিণ হালিশহর
চট্টগ্রাম।
৭ জুলাই ২০১৪