১.
মানবজাতির দুর্ভাগ্য পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বর মানুষগুলো সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্রের প্রধান হয়। ওরাই সবচেয়ে বেশি মারাণাস্ত্রের মালিক হয়, যাদের থামানোর মতো কোনো শক্তি সৃষ্টিজগতে থাকে না। দেশে দেশে স্বৈরাচার সৃষ্টি করে, তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে, জোর করে সম্পদ কেনে, হিসেবে গোলমাল লাগলে তাদের উচ্ছেদ করার জন্য ষড়যন্ত্র করে কিংবা সরাসরি যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়। পৃথিবীর অনেক দেশেই স্বৈরাচার-দুরাচার সক্রিয়, কিন্তু আমেরিকার পছন্দের স্বৈরাচারদের কিছু হয় না। ভিন্নমতের ওপরই আগ্রাসন হবে, এটাই নিয়ম।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ কতদূর বিস্তৃত হয় জানি না। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়া আমাদের মতো দেশগুলোর জন্য ভয়ানক বিপদ ডেকে আনতে পারে। আমরা অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারি। ওদের থামাবার মতো কোনো সংঘ বা রাষ্ট্র নেই এই গ্রহে। মহাজাগতিক কিছু না ঘটলে যুদ্ধটা থামবে না। অন্তত দুটো উল্কাপিণ্ড এসে যদি ওই দুই দানবের ঘাড়ে পড়তো, তাহলে এই যুদ্ধ সাথে সাথে থেমে যেতো।
গত কয়েক বছরে এই দুটো বর্বর বদ্ধ উন্মাদের পাল্লায় পড়ে গেছে পুরো পৃথিবী। আমাদের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।
২.
ইসরায়েলের আক্রমনে ইরানের একটা স্কুলের দেড়শো জন শিশু মারা গেছে। একই সাথে ইরানের প্রধান ধর্মীয় নেতা সপরিবারে নিহত হয়েছেন তাঁর নিজের দফতরেই। ইরানের পাল্টা হামলায় আমেরিকার নাগাল না পেলেও দুবাই আবু ধাবির বিলাসবহুল টাওয়ারগুলো হুমকির মধ্যে আছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূগোলই বদলে যেতে পারে। ইরান ধ্বংস হয়ে যাবে ইরাকের মতোই। সাথে প্রতিবেশি দেশগুলোকেও আংশিক মেরে যাবে। দুই পক্ষই মরণ কামড়ের হুমকি দিচ্ছে।
৩.
আমরা খুব বেশি দূরে নয়। আমাদের অনেক আত্মীয় বন্ধু মধ্যপ্রাচ্যে আছে। সবাই বিপদে পড়ে গেছে। টিভি খুলতেই ভয় করে পরবর্তী ভয়ানক ধ্বংসের ফুটেজ কোনটা দেখতে হয়। এই বিপদ থেকে পৃথিবীর কেউ নিরাপদ না। এশিয়া সবচেয়ে বেশি।
মাঝে মাঝে ভাবি, যদি এমন হয় সব এশিয়ান দেশ এক জোট হয়ে এশিয়া মহাদেশ থেকে আমেরিকাকে বিতাড়িত করেছে।
আমেরিকা, তুই এখানে কেন? দূরে গিয়া মর!