Tuesday, March 31, 2026

জাতীয়তাবাদের বিপক্ষে

জাতীয়তাবাদ জিনিসটা সবসময় ভালো না। যদি একই সীমান্তের মধ্যে অন্য জাতির বসবাস থাকে তখন শক্তিশালী জাতীয়তাবাদ দুর্বল জাতিদের কাছে ফ্যাসিবাদ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। আমি যখন শক্তিশালী জাতির প্রতিনিধি হিসেবে দেশপ্রেমে গর্বিত হয়ে আমার জাতীয়তাবাদের শ্লোগান দেই, তখন হয়তো  আমার চোখের আড়ালে অন্য ক্ষুদ্র জাতিগুলো ভয়ে কুঁকড়ে যায়। নিঃসন্দেহে  যে কোনো মতবাদের চেয়ে মানবতাবাদ অনেক বেশি জরুরী। শিক্ষাদীক্ষায়  মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার জন্য যে কয়েকটি মন্ত্র আছে এটি তার মধ্যে অন্যতম। ব্যাপারটা শুধু জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে নয়, জাতি, ধর্ম, বর্ন, গোত্র নির্বিশেষে সব শক্তিমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যাকে আমরা ফ্যাসিবাদ বলছি, সেটা অনেকের ভেতরেই সুপ্ত অবস্থায় থাকে, অনুকূল পরিবেশ পেলেই প্রকাশ পায়। ভারত, বাংলাদেশ, বার্মা, ইসরায়েল কিংবা উগান্ডা বুরুণ্ডি সব দেশেই কমবেশি একই ঘটনা।


Monday, March 30, 2026

একুশ শতকের হিরোশিমা-নাগাসাকি

 ইরানের সাথে প্রচলিত যুদ্ধে পেরে উঠছে না আমেরিকা-ইসরায়েল একত্রিত হয়েও। এক মাস পার হয়ে গেছে। শুরু থেকে আমার আশঙ্কা ছিল আমেরিকা ইরানে আরেকটা হিরোশিমা-নাগাসাকি সৃষ্টি করবে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার। পৃথিবীতে নরক সৃষ্টির জন্য অমর হয়ে থাকবে ট্রাম্প নেতানিয়াহু। সম্ভবত হামলাটা ইসরায়েলের মাধ্যমে ঘটানো হবে। তাতে বৃহত্তর ইসরায়েল পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হবে আশপাশের দেশগুলো দখল করার মাধ্যমে।

আমার আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হোক।

Friday, March 20, 2026

আমেরিকা- একুশ শতকের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

ছুটির সকালে ঘুম থেকে ওঠার এক ঘন্টার মধ্যে ইলেকট্রিসিটি কয়েকবার আসা যাওয়া করলো। এদেশে নতুন কিছু না। কিন্তু সাথে সাথে মনে পড়লো পুরো পৃথিবী জুড়েই লোডশেডিং বা জ্বালানী সংকট এগিয়ে আসছে। আমাদের জন্য আরো অনেক আশঙ্কা তৈরি করেছে ইরান যুদ্ধ। প্রতিদিন টিভি খুলে ভয়ে থাকি এখনই কোনো ভয়ানক সংবাদ ভেসে উঠবে।

ইতিহাস বারবার ঘুরে ফিরে পুরোনো গল্পই বলে। পুরোনো চশমায় যদি নতুন বাস্তবতাকে দেখি তাহলে বলবো- পৃথিবীতে এখন যা ঘটছে সেটা উপনিবেশ যুগে ভারতবর্ষে যা ঘটেছিল তার নতুন সংস্করণ। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যেভাবে বাণিজ্যের অধিকারের মাধ্যমে দেড়শো বছরের মধ্যে পুরো ভারতবর্ষ দখল করেছিল, আমেরিকাও ঠিক সেভাবে ধীরে ধীরে পুরো পৃথিবী গ্রাস করেছে গত ৭০ বছরে। আমরা স্বীকার করি বা না করি, আমেরিকা ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’ বলতে পুরো পৃথিবীকেই বোঝায়। ইসরায়েল হলো মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গ। সপ্তদশ শতকে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম ছিল একটা বিদেশী সাম্রাজ্যে তৈরি করা কৃত্রিম শহর। বলেছিল নিজেদের বাণিজ্য স্বার্থ রক্ষার জন্য এই দূর্গ প্রয়োজন। ইসরাইয়েলও মধ্যপ্রাচ্যে সেরকম একটা আমেরিকান দূর্গ। ছদ্মবেশটা হলো বিদেশি অঞ্চলে একটা কৃত্রিম রাষ্ট্র। রাজনীতির ভাষা বদলে গেছে এখন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো মুখ ফুটে বলেনি ওটা মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের তেল বাণিজ্য দেখাশোনা করার দূর্গ। ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে বলে পুরো আরব অঞ্চলে ঘাঁটি তৈরি করে রেখেছে আমেরিকা।
সিরাজউদ্দৌলার আগে ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গ নিয়ে কেউ আপত্তি করেনি। সিরাজই প্রথম ফোর্ট উইলিয়াম আক্রমণ করে, সে কারণে কোম্পানি পাল্টা হামলা চালিয়ে বাংলা দখল করে নিয়েছিল। এখনো তাই ঘটছে। ইরান ছাড়া আর কেউ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করেনি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি। ডিভাইড এন্ড রুল নীতি এখনো সক্রিয়। উপনিবেশ পূর্ব ভারতবর্ষের রাজ্যগুলোর মধ্যেকার অনৈক্যের সুযোগে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তার বাম হাত ঢুকিয়ে দিতে পেরেছিল।
আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে ঘাঁটি করার সময় আরব দেশগুলোকে বলেছিল, আমরা তোমাদের নিরাপত্তা দেবার জন্য এসেছি। ডাহা মিথ্যা। আরব দেশগুলো থেকে ট্রিলিয়ন ডলারের চাঁদাবাজি করা বাদে আর কোনো উপকার করেনি। এবারের ইরানের পাল্টা আক্রমণে মুখোশটা খুলে পড়েছে। ইরানের আক্রমণে কোনো আরব দেশকে রক্ষা করতে পারেনি আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যের মূর্খ শেখগুলো এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। কিন্তু দেরি হয়ে গেছে। এই দেরির জন্য অপুরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।
একসময় হয়তো আমেরিকা তার সব ঘাঁটি তুলে নিয়ে ভেগে যাবে আরব অঞ্চল থেকে। ততদিনে মধ্যপ্রাচ্যের তেল গ্যাসের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙ্গে যাবে। হয়তো পরবর্তী একশো বছরেও আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না। আর যদি তার উল্টোটা ঘটে তাহলে কি হবে? আমেরিকা যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভেগে যাবার বদলে পুরোটা দখল করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নতুন সংস্করণ তৈরি করে? তাহলে আমরা একটা নতুন পৃথিবী দেখতে পাবো।
কোনটা ঘটবে সেটা সময়ই বলবে।
আপাতত আমরা দেখতে পাচ্ছি ইরান যুদ্ধ শুরু হবার তিন সপ্তাহ পর এশিয়া, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে গত পঞ্চাশ বছরের ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। আমেরিকা তার মিত্র দেশগুলোকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি। একের পর ইরানী মিসাইলের আক্রমণে নিজেদের জানমাল নিয়ে তটস্থ আছে আরব শেখরা। ফলে আমেরিকার বন্ধু বলে কথিত আরব দেশগুলো এখন নতুন বন্ধুর খোঁজ করছে। আজকের সংবাদে দেখলাম আরবরা এখন নিজেদের মধ্যে আলাপ করছে আমেরিকাকে বাদ দিয়ে ইউরোপ, চীন, জাপানের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা যায় কিনা। তাতে মনে হয় আমেরিকান মাতব্বরীর কারণে গত অর্ধ শতাব্দী ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা চলছে, সেটা কমার জন্য এই বিকল্প চিন্তাভাবনা সামনে আসছে। যদি আরেকটা মহাযুদ্ধ না করে এই পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হয়, তাহলে পুরো পৃথিবীর জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে।
কিন্তু সেই মঙ্গলময় ঘটনাটি কি ঘটবে? আমার মনে হয় না। বরং উল্টোটি ঘটার সম্ভাবনা বেশি। আমেরিকা বহুদিন নতুন তৈরি করা পরমানু বোমাগুলো পরীক্ষা করার মতো উপযুক্ত স্থান বা অজুহাত পাচ্ছে না। ইরানের বিস্তীর্ণ ভৌগলিক অঞ্চল সেই পরীক্ষার একটা সুযোগ করে দিতে পারে। পুরো পৃথিবীকে কাঁচকলা দেখিয়ে ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বাস্তবায়নের একমাত্র উপায় সেটি।
আমেরিকানরা যদি অবিলম্বে তাদের দানবটাকে কান ধরে নামিয়ে না দেয়, তাহলে পৃথিবীর মানুষের সামনে মহা দুঃসময় অপেক্ষা করে আছে।

Tuesday, March 17, 2026

অ্যান্ডরয়েড মাকড়সা

অ্যান্ডরয়েড প্রযুক্তি আবিষ্কার হবার পর সোশ্যাল মিডিয়ার একটা অভিনব যুগ শুরু হলো। তারপর থেকে অনেক মানুষের জীবনের বড় অংশ ৬ ইঞ্চি পর্দার ভেতর আটকে গেছে। ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়। এটা একটা নেশা। বহু মানুষের পক্ষে এই নেশা কাটানো অসম্ভব। কিন্তু নেশাটাকে কাজে পরিণত করার কৌশলটা জানা থাকলে সোশ্যাল মিডিয়া আপনাকে গ্রাস করতে পারবে না। আমি বহুবছর ধরে কৌশলটা প্রয়োগ করার চেষ্টা করি। কৌশলটা কঠিন কিছু না। আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে ওই ছয় ইঞ্চি পর্দা যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ না করে। আপনিই ওটাকে নিয়ন্ত্রণ করবেন। চাবিটা যেন আপনার হাতে তাকে। সে আপনাকে যেসব জিনিস জোর করে গেলাতে চাইবে আপনি সেদিকে তাকাবেন না। আপনি শুধু গুরুত্ব দেবেন আপনার প্রয়োজনকে। আপনার প্রয়োজন মেটানোর জন্য ওই জিনিস কিনেছেন নগদ পয়সা খরচ করে। ফেসবুক একসময় নিরীহ একটা প্ল্যাটফর্ম ছিল। যেখানে বন্ধুবান্ধবেরা মিলে আড্ডা দিতো। বছর দশেক আগেও আপনাকে ফেসবুকের কোনো উৎপাত সহ্য করতে হতো না। কিন্তু এখন ফেসবুক খুললেই এমনসব জিনিস এসে হাজির হয় যেটা আপনি চান না। আপনাকে এমনসব দৃশ্য দেখতে হয় যেটা আপনি দেখতে চাননি। ফেসবুকের এলগরিদমের কৌশলের কাছে আপনার প্রতিরক্ষা ভেঙ্গে যায়। কিন্তু আপনার হাতের আঙুল এবং চোখ দুটো আপনার নিয়ন্ত্রণে। আপনি এক টিপে বেরিয়ে আসতে পারেন। অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু চোখের সামনে পড়লে শুধু এই কাজটা করবেন। আর কিছু লাগবে না। এক্সিট বাটন ঠিক সময়ে কাজে লাগাতে পারলে আপনি রক্ষা পাবেন। কিন্তু আমরা প্রায়ই ‘আরেকটু দেখি’ বলে সময় নেই। তাতেই আটকে পড়ি মাকড়সার জালে।

Saturday, March 14, 2026

ইতিহাস স্রোতস্বিনী নদী

আমি সবসময় মনে রাখি ইতিহাস বদ্ধ ডোবা কিংবা পাঁকে আটকে থাকা জলাভূমি নয়। ইতিহাস হলো স্রোতস্বিনী নদীর মতো। সে তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলে। নদীর অংশ না হয়েও স্রোতের সাথে অনেক খড়কুটো আগাছা কচুরিপানাও ভেসে চলে। সেইসব আগাছা শেষমেষ কোথায় হারিয়ে যায় কেউ জানে না। আগাছাদের কেউ মনে রাখে না। তবু একটা নদীতে নানা রকম আগাছা, কচুরিপানা কিংবা বর্জ্য পদার্থের উপস্থিতি কেউ অস্বীকার করতে পারে না। আবার সেটাকে কেউ নদীর অংশ বলে মনে করে না। আমরা আমাদের ভবিষ্যত বদলাতে পারি, নতুন করে নির্মান করতে পারি। কিন্তু অতীত একেবারেই অপরিবর্তনীয়। ফলে ইতিহাস বিকৃতি নিয়ে আমার কখনো তেমন মাথাব্যথা হয় না। যেমন মাথাব্যথা হয় না কারো চিন্তার বিকৃতি কিংবা মস্তিষ্কের ভারসাম্যহীনতা নিয়েও।

Monday, March 9, 2026

পাঁচটি পর্যবেক্ষণ


১. তোমার কাছে কি রিসোর্স আছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় তুমি সেটা কত ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারছ সেটাই হলো গুরুত্বপূর্ণ ।

২. তোমার কাছে কি পরিমান সম্পদ আছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় তুমি কত কম সম্পদে নিজেকে বেশি সুখী রাখতে পারো সেটাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ।

৩. বছরে তুমি কয়টা বই প্রকাশ করছো সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয় কতজন পাঠক তোমার বই পড়ে আনন্দ পাচ্ছে সেটাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

৪. তুমি যতই জনপ্রিয় ব্যক্তি হও না কেন তোমার পরিবার যদি অসুখী থাকে তাহলে তোমায় সব জনপ্রিয়তা বৃথা।

৫. সুসময়ে তোমার কতজন বন্ধু আছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। দুঃসময়ে একজন থাকলেও তুমি ভাগ্যবান।

দুই দানবের ধ্বংস কবে?

মানব ইতিহাসের মধ্যে একুশ শতকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর দানব দুটো ধ্বংস হবে না? ওদের মৃত্যু নেই?

বইমেলা: সবকিছু যখন গল্প হয়ে যায়

তুমি চলে যাবার পর থেকে আমার আর বইমেলা যেতে ইচ্ছে করে না। সেবার প্রথম সিআরবি শিরীষতলায় বইমেলার আসর বসেছিল। আমার দুটো নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। তোমার শরীর তখন খারাপের দিকে যাচ্ছিল। বইমেলার একমাস আগে আমি তোমাকে বাসায় গিয়ে দেখে এসেছি। তোমার আঁকা একটা ছবি নিয়ে এসেছি। তুমি অসুস্থ শরীরেও আপ্যায়ন করতে বাদ রাখলে না। ভেতরে যাই থাকুক, মুখে তোমার হাসি উচ্ছ্বাস তখনো ছিল। 

আমার বই নিয়ে তোমার বরাবরই উৎসাহ ছিল। প্রথম বই প্রকাশের খবর পেয়ে করোনার মধ্যেও বাসায় ছুটে এসেছিলে। ছবি তুলে পোস্ট দিয়েছিলে ফেসবুকে। তখন তুমি পুরোপুরি সুস্থ। 

তখনো কি জানতাম দুবছরের মধ্যে তোমার শরীরে মরণব্যাধি বাসা তৈরি করবে? চিকিৎসা চলছিল। তোমার বর, তোমার পরিবার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে চিকিৎসা করে যাচ্ছিল। তুমি সুস্থবোধ করছিলে। হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছিলে। কিন্তু পরের বছর হঠাৎ করে আবারো বিগড়ে যেতে শুরু করলো শরীর। তার মধ্যেও তুমি যখন শুনলে আমার নতুন বই এসেছে, তুমি বাসার সবাইকে নিয়ে বইমেলায় ছুটে এলে। আমি বারণ করেছিলাম, বই বাসায় পৌঁছে দেবো বলেছিলাম। তুমি কিছু শুনতে রাজী ছিলে না। মেলা থেকে বই কিনে আমার অটোগ্রাফ নিতে হবে। 

আমি বইমেলায় গেলাম। তুমি বই দুটো কিনে স্টলে দাঁড়িয়ে অটোগ্রাফ নিলে। তোমার এত উচ্ছ্বাস উৎসাহ দেখে মনে হচ্ছিল তুমি সুস্থ হয়ে গেছে। গত মাসে যে তোমাকে অসুস্থ দেখে এসেছি সে এখন প্রাণবন্ত। তোমার বর, তোমার বোন, তোমার মা, সবাই মেলায় এসেছে। তুমি সবাইকে গর্ব করে বলছো, তোমার ভাই কত ভালো লেখক। অটোগ্রাফ দিয়ে তোমাদের বিদায় দিলাম। 

মেলা ঘুরে ফিরে যাবার সময় হঠাৎ খেয়াল করলাম মেলার গেটের কাছে রাস্তার পাশের সিঁড়ির ধাপে তুমি বসে আছো। তোমার মা, বোন, বর তোমাকে ঘিরে আছে। শুনলাম তোমার হঠাৎ জ্বর এসেছে। হাঁটতে পারছো না। গাড়ি আনতে লোক গেছে। তোমাকে ধরাধরি করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো বাসায়। তারপর ডাক্তার, হাসপাতাল, বাসা, ঢাকা, চট্টগ্রাম কত কত ঘটনা। সব ঘটনা পেরিয়ে, সবাইকে মুক্তি দিয়ে তুমি পাড়ি জমালে অনন্তের উদ্দেশ্যে।

তারপর থেকে আমার বইমেলা ভালো লাগে না। বছর বছর মেলা আসবে। আমার আর কখনো মেলাকে আগের মতো লাগবে না। আমার নতুন বইয়ের কোনো খবর তোমার কাছে পৌঁছাবে না। আমার ভাবতে ভালো লাগে না। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাই উপাধি পাওয়া মানুষটা তোমার জন্য কিছু করতে পারলো না।

[মাঝে মাঝে মনে হয়, এটা কি কোনো গল্পের অংশ? সবকিছু একদিন গল্প হয়ে যায়।]

Saturday, March 7, 2026

আমাদের অন্ধকার দিন এগিয়ে আসছে

ইরানের ওপর আমেরিকা-ইসরায়েলের এই যৌথ বর্বরতা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পৃথিবী জুড়ে অন্ধকার নামিয়ে আনবে। বাংলাদেশ আক্ষরিক অর্থেই সেই অন্ধকার যুগের প্রথম শিকার হবে। এই যুদ্ধ আমাদের জন্য লোড শেডিং, মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্যাভাবের মতো ভয়ানক সংকট নিয়ে আসছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা টের পেতে শুরু করবো।


Sunday, March 1, 2026

আমেরিকা, তুই এখানে কেন? দূরে গিয়া মর!

১.
মানবজাতির দুর্ভাগ্য পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বর মানুষগুলো সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্রের প্রধান হয়। ওরাই সবচেয়ে বেশি মারাণাস্ত্রের মালিক হয়, যাদের থামানোর মতো কোনো শক্তি সৃষ্টিজগতে থাকে না। দেশে দেশে স্বৈরাচার সৃষ্টি করে, তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে, জোর করে সম্পদ কেনে, হিসেবে গোলমাল লাগলে তাদের উচ্ছেদ করার জন্য ষড়যন্ত্র করে কিংবা সরাসরি যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়। পৃথিবীর অনেক দেশেই স্বৈরাচার-দুরাচার সক্রিয়, কিন্তু আমেরিকার পছন্দের স্বৈরাচারদের কিছু হয় না। ভিন্নমতের ওপরই আগ্রাসন হবে, এটাই নিয়ম।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ কতদূর বিস্তৃত হয় জানি না। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়া আমাদের মতো দেশগুলোর জন্য ভয়ানক বিপদ ডেকে আনতে পারে। আমরা অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারি। ওদের থামাবার মতো কোনো সংঘ বা রাষ্ট্র নেই এই গ্রহে। মহাজাগতিক কিছু না ঘটলে যুদ্ধটা থামবে না। অন্তত দুটো উল্কাপিণ্ড এসে যদি ওই দুই দানবের ঘাড়ে পড়তো, তাহলে এই যুদ্ধ সাথে সাথে থেমে যেতো।
গত কয়েক বছরে এই দুটো বর্বর বদ্ধ উন্মাদের পাল্লায় পড়ে গেছে পুরো পৃথিবী। আমাদের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।


২.
ইসরায়েলের আক্রমনে ইরানের একটা স্কুলের দেড়শো জন শিশু মারা গেছে। একই সাথে ইরানের প্রধান ধর্মীয় নেতা সপরিবারে নিহত হয়েছেন তাঁর নিজের দফতরেই। ইরানের পাল্টা হামলায় আমেরিকার নাগাল না পেলেও দুবাই আবু ধাবির বিলাসবহুল টাওয়ারগুলো হুমকির মধ্যে আছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূগোলই বদলে যেতে পারে। ইরান ধ্বংস হয়ে যাবে ইরাকের মতোই। সাথে প্রতিবেশি দেশগুলোকেও আংশিক মেরে যাবে। দুই পক্ষই মরণ কামড়ের হুমকি দিচ্ছে।


৩.
আমরা খুব বেশি দূরে নয়। আমাদের অনেক আত্মীয় বন্ধু মধ্যপ্রাচ্যে আছে। সবাই বিপদে পড়ে গেছে। টিভি খুলতেই ভয় করে পরবর্তী ভয়ানক ধ্বংসের ফুটেজ কোনটা দেখতে হয়। এই বিপদ থেকে পৃথিবীর কেউ নিরাপদ না। এশিয়া সবচেয়ে বেশি।


মাঝে মাঝে ভাবি, যদি এমন হয় সব এশিয়ান দেশ এক জোট হয়ে এশিয়া মহাদেশ থেকে আমেরিকাকে বিতাড়িত করেছে।
আমেরিকা, তুই এখানে কেন? দূরে গিয়া মর!