কিছু অথর্ব অপরিমাণদর্শী মানুষের জন্য পুরো বাংলাদেশ হয়তো অতি দ্রুত অন্ধকার, কর্দমাক্ত, পিচ্ছিল খাদে পড়ে যাবে, যেখান থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হবে না। একটা রাষ্ট্রের অযোগ্যতা, অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা কতটা চূড়ান্ত পর্যায়ে উঠতে পারে গত রাতে সেটা আবারো প্রমাণিত হলো। একদল উগ্র মানুষ অন্যের কুচক্রে পা দিয়ে নিজেদের পায়ে কুড়োল মারলো। যে বিপদটা আসছে সেটার কথা উল্লেখ করতে চাই না। কিন্তু অনিবার্য একটা খারাপ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমার বাংলাদেশ। ভালোমন্দ যাই হোক গত ৫৪ বছরে দেশটা যতটুকু এগিয়েছিল, এবার তার উল্টোদিকে যাত্রা করতে যাচ্ছে।
গতকাল এক পশ্চিমা বিশ্লেষককে বলতে শুনলাম, তিনি গত দুই দশক পৃথিবীর নানান দেশের আন্দোলন বিপ্লবের প্যাটার্ন নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বাংলাদেশের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, 'তোমরা এবার থামো। থামতে জানা জরুরী। ঠিক সময়ে থামতে না পারলে দেশটা কোথায় পড়ে যাবে সেটা আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ দেখেছে। ছোট কোনো ইস্যু নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়, তারপর সেটা দ্রুত সরকার পতনের দিকে এগিয়ে যায়। সরকার পতনের পর আন্দোলনকারীরা দেশ গড়ার বদলে আরো বিপ্লবীপনা দেখাতে যায়, তারপর গৃহযুদ্ধের পরিণতি বরণ করে'। সুদান, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, সিরিয়াসহ অনেক দেশের উদাহরণ দিলেন তিনি। সবগুলো আন্দোলনের প্যাটার্ন একই। এগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো না কোনো এজেন্সির মাধ্যমে ঘটানো হয়। নিজের দেশের ভালোমন্দ নিজেকেই বুঝতে হবে। অন্যের উস্কানিতে পা দিয়ে নিজের পায়ে কুড়োল মেরে বারবার পিছিয়ে যায় এই তৃতীয় বিশ্বের নির্বোধ দেশগুলো।
গত রাত থেকে বাংলাদেশ নতুন করে আরেকটা বিপদ ডেকে আনছে। বাড়াবাড়ি কখনোই ভালো ফল দেয় না। আজকে আন্দোলন সেরে বাড়ি ফিরে তিন পদের মাছ ভাত তরকারীর খেলেন, রাজা উজির মারলেন, কালকে অফিসে যাবেন, বাজারে গিয়ে শাক তরকারী মুলামুলি করবেন, বাড়ি ফিরে চা খাবেন, স্কুল কলেজ ভার্সিটিতে যাবে আপনার ছেলেমেয়েরা, এই দিনগুলো কত সুখের, এখন বুঝতে পারছেন না। যখন ঘাড়ের ওপর বিপদটা নেমে আসবে তখন বুঝবেন বিপ্লবীপনা করতে গিয়ে নিজেদের সর্বনাশ করে ফেলেছেন। যখন আগের দিনগুলো আর কখনো ফিরে পাবেন না, সেটা ভেবে একদিন বড় বড় দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন। তখন কিছু করার থাকবে না।
No comments:
Post a Comment